উত্তর ২৪ পরগনায় ভয়াবহ আকার ডেঙ্গির, মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের

উত্তর ২৪ পরগনায় ভয়াবহ আকার ডেঙ্গির, মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের

আতঙ্কে বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি। সেই ডেঙ্গি মোকাবিলায় একাধিক দাওয়াই রাজ্য সরকারের

  • Share this:

#উত্তর ২৪ পরগনা: ডেঙ্গি মোকাবিলায় পদক্ষেপ। স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশে হাবড়া হাসপাতালে স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ দল। ডেঙ্গি আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বনগাঁ-দেগঙ্গাতেও। হাবড়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য দফতর। তাদের নির্দেশেই হাবড়ায় যায় কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ দল।

বনগাঁতেও ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে বেশিরভাগই এখন জ্বরের রোগী। চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালের মধ্যে মশারি টাঙিয়েই চলছে চিকিৎসা। ডেঙ্গি মোকাবিলায় বরাদ্দ করা হয়েছে অতিরিক্ত ৭৬ লক্ষ টাকা। ৪৫০ জন অস্থায়ী কর্মী নিয়োগেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।

আতঙ্কে বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি। সেই ডেঙ্গি মোকাবিলায় একাধিক দাওয়াই রাজ্য সরকারের। স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী জানিয়েছেন, হাবড়া, গাইঘাটা, অশোকনগর, বারাসত, ব্যারাকপুর - এই ৫ জায়গায় এবার ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজারের কাছাকাছি। অশোকনগর ও হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীর চাপ সামলাতে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার অন্যান্য সরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক, নার্স পাঠানো হচ্ছে।

এক বছর আগেও হাবড়ায় ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন তেষট্টি জন। এবছর সংখ্যাটা আরও বাড়ল। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এখন তৎপরতা দেখালেও এতদিন এলাকা পরিষ্কার রাখতে প্রশাসন কিছুই করেনি। তবে পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান বলছেন, নিয়ম করে এলাকা পরিষ্কার হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বাসিন্দারাই সচেতন নন। রাস্তার পাশে এদিক ওদিক নিকাশিনালায় জমা জল। তাতে মশার লার্ভার সংসার। এখানে ওখানে আবর্জনা ছড়িয়ে। এই ছবি হাবড়ার বিভিন্ন এলাকার। জঞ্জাল জমে বিভিন্ন জায়গায়।

শুধু রাস্তার পাশের নয়, রেললাইনের ধারের নিকাশিনালাতেও জমেছে প্লাস্টিক। সেসব পরিষ্কারেরও বালাই নেই। হাবড়া পুর ও গ্রামীণ দুই এলাকাতেই ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালে বাড়ছে রোগীদের চাপ। গত বছরেও হাবড়ায় তেষট্টি জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এখন পুরসভা এলাকা পরিষ্কার রাখতে পদক্ষেপ করছে ঠিকই। তবে গত বছরের থেকে শিক্ষা নিয়ে আগেই কাজ করা উচিৎ ছিল পুরসভার।

পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যানের দাবি, ডেঙ্গি মোকাবিলায় সমস্ত কাজ করা হয়েছে। বাসিন্দাদের সচেতনতার অভাবেই মশার বাড়বাড়ন্ত। ২৪টি ওয়ার্ডে সাফাইয়ের কাজে বেসরকারি ঠিকাকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে একদিন মশার লার্ভা মারার স্প্রে করা হচ্ছে। নিয়ম করে ব্লিচিং পাউডার ছড়ানো হচ্ছে। মশা মারতে ধোঁয়া দেওয়া হয়। মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীরা মশার লার্ভা খোঁজার কাজ করছেন। হাবড়ার বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে মিটিং করা হয়েছে

হাবড়ায় যেভাবে ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ছে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় বাসিন্দারা। নিকাশি সমস্যাতেই ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্ত না কি সত্যিই বাসিন্দাদের সচেতনতার অভাব? দায় কার? শুরু চাপানউতোর।

First published: 06:03:29 PM Aug 19, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर