corona virus btn
corona virus btn
Loading

উপাচার্যের পরিকল্পনাতেই কি গাফিলতি? প্রশ্ন তুলে সরব বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্যরা

উপাচার্যের পরিকল্পনাতেই কি গাফিলতি? প্রশ্ন তুলে সরব বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্যরা

বিশ্বভারতীর পৌষ মেলার মাঠে পাঁচিল দেওয়াকে কেন্দ্র করে কেন ক্ষিপ্ত হল গ্রামবাসীরা? তাহলে কি শান্তিনিকেতন তথা বোলপুরের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কে চিড় ধরেছে বিশ্বভারতীর? অন্তত এমন প্রশ্ন গুলি তুলে দিচ্ছেন বিশ্বভারতীর সঙ্গে অতীতে যুক্ত থাকা উপাচার্যরা।

  • Share this:

#কলকাতা: উপাচার্যের পরিকল্পনাতেই কি গাফিলতি হল? অন্তত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রাক্তন উপাচার্যরা এমনই প্রশ্ন তুলে দিচ্ছেন। সোমবার বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পৌষ মেলার মাঠে পাঁচিল দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটে যায় ধুন্ধুমার ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয় জেড ভাঙচুর থেকে শুরু করে নির্মাণকাজ পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু বিশ্বভারতীর পৌষ মেলার মাঠে পাঁচিল দেওয়াকে কেন্দ্র করে কেন ক্ষিপ্ত হল গ্রামবাসীরা? তাহলে কি শান্তিনিকেতন তথা বোলপুরের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কে চিড় ধরেছে বিশ্বভারতীর? অন্তত এমন প্রশ্ন গুলি তুলে দিচ্ছেন বিশ্বভারতীর সঙ্গে অতীতে যুক্ত থাকা উপাচার্যরা। অনেকেই অবশ্য দাবি করছেন পরিকল্পনা করে এগোলে অন্তত সোমবারের মতো ঘটনা বিশ্বভারতীতে ঘটত না। অতীতেও বহু কঠিন কঠিন সিদ্ধান্ত বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে নিতে হয়েছে। সে ক্ষেত্রে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই তৎকালীন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত কার্যকরী করেছিল। এক্ষেত্রে  সেই আলোচনার অবকাশ কি ছিল না? প্রশ্ন তুলছেন বিশ্বভারতী সঙ্গে যুক্ত থাকা উপাচার্যরাই।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিশ্বভারতীর উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন অধ্যাপক সুজিত বসু। সোমবারের ঘটনা প্রসঙ্গে বিশ্বভারতীর প্রাক্তন এই উপাচার্য বলেন " শান্তিনিকেতনের মানুষ অভিমানী। যেকোনো ধরনের সিদ্ধান্ত বিশ্বভারতীর ক্ষেত্রে নিতে হলে শান্তিনিকেতনের মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে নিতে হয়। আমার মনে হয় গ্রামবাসীদের বা শান্তিনিকেতনের মানুষকে এই পাচিল সম্পর্কে সঠিক ভাবে বোঝানো হয় নি।" তিনি অবশ্য পৌষ মেলার মাঠে পাঁচিল দেওয়ার যে বিরোধী সে বিষয়ে তার মতামত স্পষ্ট করেন। এ প্রসঙ্গে প্রাক্তন উপাচার্য সুজিত বসু বলেন " পৌষ মেলার মাঠে পাঁচিল দেওয়ার সিদ্ধান্তকে আমি সমর্থন করি না। উপাচার্যের আলাপ আলোচনা করা দরকার ছিল সবার সঙ্গেই। আমাদের সময় এরকম বহু কাজ হয়েছে তবুও আমরা ম্যানেজ করেছি। ওখানে কাজ করতে গেলে শান্তিনিকেতনকেও বুঝতে হবে।"

প্রসঙ্গত সোমবার বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের যে পাঁচিল ভাঙ্গা হয়েছে সেই পাঁচিলের নকশা থেকে শুরু করে পাঁচিল নির্মাণ কাজ প্রাক্তন উপাচার্য সুজিত বসুর হাতেই হয়েছিল। সোমবার বিশ্বভারতী পাঁচিল ভেঙে দেওয়ার ঘটনাতে মন খারাপ প্রাক্তন উপাচার্য এবং তার স্ত্রীর। অন্যদিকে উপাচার্যের পরিকল্পনাকেই কার্যত পরোক্ষভাবে দায়ী করছেন বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য এবং ভারপ্রাপ্ত প্রাক্তন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য স্বপন দত্ত।

সোমবারের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন " বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় একতরফাভাবে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। শান্তিনিকেতনের কোন কিছু করতে গেলে তা নিয়ে প্রশাসন স্থানীয় ব্যবসায়ী সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমি থাকাকালীন বিশ্বভারতী তে যে সমস্ত ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করেন তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন মৎস্য মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা পুরো পরিকল্পনাটি দেখভাল করেছিলেন। বিশ্বভারতী সংলগ্ন চত্বর থেকে ব্যবসায়ীদের তুলে নিয়ে বিশ্বভারতী কাছেই ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন দেওয়ার একটা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কেন কার্যকর হলো না আমি জানি না। বিশ্বভারতী ভেতরে বিশেষত মেলার মাঠে পাঁচিল না দেওয়াই ভাল। আশ্রমিক, প্রাক্তনীদের সঙ্গেও আলোচনাটা দরকার ছিল।"

সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

Published by: Elina Datta
First published: August 18, 2020, 8:00 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर