ব্রেকফাস্টে চাই ঘুগনি পরোটা, ফাস্টফুড স্টলে এসে অর্ডার হনুমানের

ফাস্ট ফুড দোকানের মালিকও বললেন, খাবারের দাম নেব কি! ওনাকে খাওয়াতে পেরে জীবন ধন্য হয়ে গেল।

ফাস্ট ফুড দোকানের মালিকও বললেন, খাবারের দাম নেব কি! ওনাকে খাওয়াতে পেরে জীবন ধন্য হয়ে গেল।

  • Share this:

Saradindu Ghosh #বর্ধমান: শুধু বিস্কুটে পেট ভরে না, ব্রেক ফাস্টে ঘুগনি পরোটা দিন। ফাস্টফুডের দোকানে অর্ডার দিয়ে আর পাঁচ জনের পাশে ফাঁকা চেয়ার দেখে বসলেন তিনি। টেবিলে খাবার সার্ভ হল। যতটুকু প্রয়োজন তৃপ্তি করে খেলেন। আর কিছু লাগবে না জানিয়ে গ্লাসে জল খেয়ে বেরিয়ে গেলেন তিনি। তিনি কোনও নামকরা ভিআইপি নন, তিনি একটি হনুমান। সাত সকালে তার আদবকায়দা দেখে হতবাক সকলেই। আর পাঁচ জন হলে কেউ ফিরেও তাকাতেন না। কিন্তু তাঁর আদবকায়দাই আলাদা। তাই তিনি যখন খাচ্ছেন তখন চারপাশ থেকে ছবি উঠলো পটাপট। তাঁর অবশ্য সেসবে ভ্রুক্ষেপটুকুও নেই। ফাস্ট ফুড দোকানের  মালিকও বললেন, খাবারের দাম নেব কি! ওনাকে খাওয়াতে পেরে জীবন ধন্য হয়ে গেল। পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের আলিনগর বাসস্ট্যান্ডে রয়েছে বেশ কয়েকটি ফাস্টফুডের দোকান। বৃহস্পতিবার  সকালে মিরাজের ফাস্টফুডের দোকানে একটি হনুমান আসে। প্রথমে তাকে বিস্কুট দেওয়া হয়। কিন্তু  বিস্কুট নয়।  তার তখন  ঘুগনি পরোটা খাওয়ার ইচ্ছে। আঙুল তুলে ইশারায় তা দোকান মালিককে বুঝিয়ে দেয় সে। এরপর তাকে ঘুগনি পরোটা দেওয়া হলে অন্যান্যদের মত সে বেঞ্চিতে বসেই ঘুগনি পরোটা খায়।

হনুমান 1 হনুমানের  এধরনের আর্জি দেখে রীতিমত হতভম্ব হয়ে গেছেন ভাতার এলাকার মানুষজন। উপস্থিত বাসিন্দারা বলছিলেন, সবার সামনে বসে খেতে কোনও সংকোচ নেই। তাকে মিরাজ খাওয়ালেন মনের মতো করে। এক্কেবারে পাশে বসে পরোটা ছিঁড়ে তাতে ঘুগনি মাখিয়ে দিচ্ছিলেন মিরাজ। হনুমানবাবাজি তা তৃপ্তি করে মুখে তুলছিল। দোকানদার মিরাজ শেখ বললেন , পরোটা ঘুগনি খেয়ে পয়সা দেয় অন্যান্যরা। কিন্তু আমার এই নতুন কাস্টমার কাছে পয়সা না পেলেও নিজেকে ধন্য মনে হচ্ছে। আমি একটু হলেও পশুর সেবা করার সুযোগ পেলাম। স্হানীয়রা বলছেন, দিন দিন গাছপালা কমছে। নিদারুন খাদ্য সংকটে ভুগছে হনুমানেরা। তাই হয়তো এই হনুমান ফাস্ট ফুডে অভ্যস্ত হয়ে আসছে। এখন অফিস বাবুটির মতো তিনি রোজ বেলা দশটায় ঘুগনি পরোটা খেতে এলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

Published by:Elina Datta
First published: