• Home
  • »
  • News
  • »
  • south-bengal
  • »
  • জলের তলায় বাড়ি, কৃষিজমি, রাজনৈতিক সংঘর্ষ ভুলে জীবনের লড়াই লড়ছে কেশপুর

জলের তলায় বাড়ি, কৃষিজমি, রাজনৈতিক সংঘর্ষ ভুলে জীবনের লড়াই লড়ছে কেশপুর

রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি সবটাই জলবন্দি

রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি সবটাই জলবন্দি

রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি সবটাই জলবন্দি

  • Share this:

#কেশপুর: রাজনৈতিক উথাল-পাতালের জন্য বছরভর খবরের শিরোনামে থাকা কেশপুর এখন সম্পূর্ণ অন্য কারণে রাজ‍্যের মানুষের নজরবন্দি। পশ্চিম মেদিনীপুরের এই অঞ্চল এখন পুরোপুরি জলমগ্ন। কেশপুর ব্লকের অন্তর্গত ৮টি মৌজা বর্তমানে জলের তলায়। গেরিকোলা, কাশিপুরের মত বিস্তীর্ণ অঞ্চল বানভাসি।

রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি সবটাই জলবন্দি। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক দিয়ে ঘাটালের নিকটবর্তী হওয়ায় প্রত্যেক বছর ঘাটাল ভাসলে তার প্রভাব পড়ে কেশপুরে। কিন্তু ২০২০-র চেহারাটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। কেশপুর ব্লকের বেশিরভাগ অঞ্চল এখন জলের তলায়। যেদিকে যতদূর চোখ যায় শুধু জল আর জল। মাঝে মধ্যে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে বড় গাছ। আর এক-আধটা বসতবাটি। কেশপুরের বাসিন্দা শেখ আসাদুল বলছিলেন,"২০০২-র পর এমন ভয়ঙ্কর বানভাসি পরিস্থিতি দেখেনি কেশপুর।"

কাশিপুর, গেরিকোলার মত কেশপুরের চেনা গ্রাম গুলো জলের তলায়। এক-একটা গ্রাম যেন এক-একটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। বছরভর কৃষি জীবিকায় অভ্যস্ত কেশপুরের মানুষের রুটি-রুজি, উপার্জন কেড়ে নিয়েছে এবারের বানভাসি পরিস্থিতি। বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে জনজীবন। গেরিকোলা, কলাগ্রামের মানুষের জলবন্দি অবস্থায় দিন কাটছে। যোগাযোগের উপায় বলতে একটি মাত্র সরকারি নৌকা। সকাল ছটা থেকে দুপুর বারোটা এবং দুপুর তিনটে থেকে বিকাল ছয়টা পর্যন্ত গ্রামের মানুষদের জলবন্দি অবস্থা থেকে বার করে নিয়ে আসে। কিন্তু এই ভাবে আর কত দিন? স্থানীয় বাসিন্দা আলী মোহাম্মদ রজ্জাক বলছিলেন,"গত ১৫ দিন ধরে এভাবেই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে কেশপুরের মানুষের দৈনন্দিন জীবন।"

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রমাদ গুনছেন এখনও জল ছাড়েনি ডিভিসি। সেখান থেকে জল ছাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে। সেটা ভেবেই দিশাহারা কেশপুরের মানুষজন। এখনই জায়গায় জায়গায় এক মানুষ, দুই মানুষ উচ্চতায় জল বইছে।

রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য বাংলার মানচিত্রে জায়গা করে নেওয়া কেশপুরের ভূমিপুত্ররা বলেছেন,"লড়াই আমাদের রক্তে জন্মগত। কিন্তু প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াইটা অসম।"জীবনের অনিশ্চয়তা আর আগামীর অজানা আতঙ্ক ঘিরে রেখেছে কেশপুরকে।

PARADIP GHOSH

Published by:Ananya Chakraborty
First published: