নন্দীগ্রাম আসনে সমীক্ষা করতে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন সুব্রত মুখোপাধ্যায় 

নন্দীগ্রাম আসনে সমীক্ষা করতে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন সুব্রত মুখোপাধ্যায় 
ভরসার হাত । নিজস্ব চিত্র ।

পূর্ব মেদিনীপুরে পড়ে থেকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রচার কৌশল চালাবেন ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মতো বর্ষীয়ান নেতা-মন্ত্রীরা।

  • Share this:

 ABIR GHOSHAL

#নন্দীগ্রাম: নন্দীগ্রাম নিয়ে সমীক্ষা শুরু করছে তৃণমূল কংগ্রেস। সমীক্ষক হিসাবে নন্দীগ্রাম পাঠানো হচ্ছে দলের শীর্ষ নেতা তথা পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে। আগামী ১ ফ্রেব্রুয়ারি তিনি যাচ্ছেন নন্দীগ্রাম। থাকবেন ৪ তারিখ সকাল পর্যন্ত। দীর্ঘ দিনের রাজনীতিবিদ ও দলের অত্যন্ত সিনিয়র গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে দিয়ে নন্দীগ্রামের আবহাওয়া বুঝে নিতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। সূত্রের খবর, তিনি এসে যে রিপোর্ট দেবেন তার ওপর ভিত্তি করেই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম নিয়ে রণকৌশল বানাবে জোড়া ফুল শিবির।

নন্দীগ্রাম এ বার তাঁদের প্রেস্টিজ ফাইটের জায়গা। শুভেন্দুর গড়ে এ বার প্রার্থী হতে চলেছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। নিজেই নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে সেই কথা বলে এসেছেন। নন্দীগ্রাম নিয়ে প্রচার কৌশল সাজাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামের তৃণমূল নেতাদের কলকাতায় ডেকে পাঠিয়ে আলোচনা শুরু করা হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী মাসের মাঝামাঝি ফের পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় সফর করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। তার আগেই সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


সুব্রত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, "আমি বুথে বুথে যাব। কর্মীদের সঙ্গে কথা বলব। গ্রামে যাব মানুষের সাথে কথা বলব।" কিন্তু নন্দীগ্রামে সমীক্ষা করতে হচ্ছে কেন? দলের পরিকল্পনা অবশ্য জানাননি তিনি। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখে তৃণমূল যতই অস্বীকার করুক। আসলে শুভেন্দু অধিকারী যে ফ্যাক্টর তা ভালই বোঝেন তাঁরা। তাই এ ভাবেই সমীক্ষার মাধ্যমে নন্দীগ্রামের আবহাওয়া বুঝতে চাইছে তাঁরা। নন্দীগ্রামের একাধিক জায়গায় প্রার্থী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নাম দিয়ে শুরু হয়েছে দেওয়াল লিখন। পিছিয়ে নেই বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীও। গত মঙ্গলবার ২৬ জানুয়ারি তিনি নন্দীগ্রামে যোগ দিয়েছিলেন চাল সংগ্রহ ও সহ ভোজন অনুষ্ঠানে। তিনি নন্দীগ্রামের ঘরের ছেলে এই বিষয়কে প্রমাণ করতেই এ ভাবে প্রচার শুরু করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। গত ১৮ জানুয়ারি নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে সেখানে প্রার্থী হবেন বলে নিজেই জানিয়েছিলেন। তার পরেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এই বিধানসভা কেন্দ্রে জোর কদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল।

নন্দীগ্রামের হাজরাকাটা থেকে দেওয়াল লিখন শুরু হয়েছে। প্রতিদিন চলছে ছোট ছোট সভা ও মিছিল। যদিও যে কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রীর মতো হেভিওয়েট লড়াই করবেন সেখানে প্রচার যে চোখ ধাঁধানো হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই কারণেই কলকাতায় ডেকে মন্ত্রী-নেতা ফিরহাদ হাকিম বৈঠক করেছেন শেখ সুফিয়ান, আবু তাহেরের সঙ্গে। নন্দীগ্রাম মানে ভূমি আন্দোলনের জায়গা। ফলে ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির নেতাদের সামনের সারিতে রেখেই চলবে প্রচার। এ ছাড়া রাজ্যের দুই মন্ত্রী লাগাতার প্রচার পর্ব বা ক্যাম্পেনিং করবেন।

সূত্রের খবর, পূর্ব মেদিনীপুরে পড়ে থেকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রচার কৌশল চালাবেন ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মতো বর্ষীয়ান নেতা-মন্ত্রীরা। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, রাজ্যের ২৯৪ বিধানসভা আসনে প্রার্থী তিনিই। ফলে একটি বা দু’টি কেন্দ্রে যেখানেই তিনি ভোটে লড়ুন না কেন তাঁর পক্ষে লাগাতার সময় দেওয়া সম্ভব হবে না। তাই এমন ভাবেই প্রচার সাজানো হচ্ছে যাতে কোথাও মনে না হয় তিনি নন্দীগ্রামে হাজির নেই। এ ছাড়া তৃণমূল সাংসদদের বিভিন্ন সময় নন্দীগ্রামে প্রচারে নামানো হচ্ছে।

Published by:Simli Raha
First published: