কারফিউর সময় লুকিয়ে চালিয়েছেন দোকান, আজও স্মৃতি আঁকড়ে ৯২-র বিনয়কুমার

কারফিউর সময় লুকিয়ে চালিয়েছেন দোকান, আজও স্মৃতি আঁকড়ে ৯২-র বিনয়কুমার

ডার্ক রুমের ঘন আলো-আঁধারিতে ফুটত সংগ্রামের ঘাম-রক্ত। হাসি-কান্নার টেম্পো ধরতেন তিনি ৷

  • Share this:

#সিউড়ি: একসময় তিনি দেখতেন ক্যামেরার চোখে। নেগেটিভে বন্দি করেছেন সময়কাল। স্বাধীনতার কিছু সময় আগে। ডার্ক রুমের ঘন আলো-আঁধারিতে ফুটত সংগ্রামের ঘাম-রক্ত। হাসি-কান্নার টেম্পো ধরতেন তিনি। এখন বয়স ৯২। সিউড়ির প্রথম পেশাদার ফটোগ্রাফার বিনয়কুমার গুহ।

ক্যামেরা চলছে। ক্যামেরাগুলো চলেই। সময়টা বদলে যায়। ছবিও বদলায়। ক্যামেরা পুরোন হয়। হয় অ্যান্টিক। আগে ক্যামেরা মানে ছিল অ্যাডজাস্টমেন্ট। আলো-ছায়ার মন বুঝতে হত। তবে ছবিতে জীবন আসত। স্মার্টফোন বা DSLR-এর ম্যাজিকে ক্যামেরা এখন সহজ। ক্যামেরার কঠিন সময়েই ক্যামেরা নিয়ে তাঁর হাতযশ। সিউড়ির প্রথম পেশাদার ফটোগ্রাফার হিসেবে পরিচিত বিনয়কুমার গুহ। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি, লালবাহাদুর শাস্ত্রীর ছবি ক্যামেরাবন্দি করেছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায় বীরভূম জেলার ছবি তোলার দায়িত্বও দেন বিনয়বাবুকে।

বয়সের লেন্সে বিরানব্বই। স্বাধীনতার আগে কলকাতার এক স্টুডিওতে কাজ শুরু। কাজ না জানায় মালিক ছাড়িয়ে দেন। এরপর মিথ্যে কথা বলে কলকাতারই আরেক স্টুডিওতে কাজ শুরু। ডার্ক রুমে অবশ্য সব সত্যফাঁস। মালিক সেদিন হাতে ধরে সব শেখান।

- ১৯৪৫ সালে কারফিউর জন্য কলকাতায় সব দোকান বন্ধ থাকত

- ফটোস্টুডিওতে গোপনে কাজ হত

- নেতাজির স্যালুট দেওয়া ছবির চাহিদা থাকত বেশি

- ১০০ নেতাজির ছবি তৈরি করলে রোজগার হত দু'আনা

- কারফিউর সময় কাজ করার জন্য দমদম জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বিনয়কে

১৯৪৯ সালে সিউড়ি বাজার পাড়ায় ছোট্ট দোকান। রোজগারের টাকায় গঙ্গাসাগার, দিঘায় ঘোরাঘুরি। পর্যটকদের ছবি তুলেও টাকা আসত। কিনে ফেলেন রোলিফ্লেক্স বা রোলিকর্ড বা আর্কোপ্লেক্সের মত দামি ক্যামেরা। আগে সরস্বতী পুজো মানেই তাঁর দোকানে শাড়ির ভিড়। এখন স্টুডিওগুলো ফাঁকা পড়ে থাকে। পুরোন ক্যামেরাগুলো ছুঁয়ে এসব ভাবেন বৃদ্ধ।

অ্যান্টিক ক্যামেরা অনেকেই কিনতে চান। কাছছাড়া করেননি। আলমারিতে বন্দি হয়ে যত্ন করে ধরে রাখা সময় গোনে ক্যামেরাগুলো। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকে।

First published: February 10, 2020, 6:08 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर