নৈহাটিতে বিস্ফোরণ, ক্ষতিগ্রস্ত বন্দেমাতরম ভবন

নৈহাটিতে বিস্ফোরণ, ক্ষতিগ্রস্ত বন্দেমাতরম ভবন

বন্দেমাতরম ভবনের গায়ে আঁচড় লাগায় দুঃখিত এই শহরের বাসিন্দারা।

  • Share this:

#কলকাতা: হুগলি নদীর তীরে জোড়ঘাটের কাছে এই বাড়ি চুঁচুড়ার গর্ব । নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটলেও, কখনও এই বাড়ির চৌকাঠ পেরিয়ে কোনও বিপদের আঁচড় লাগেনি। নৈহাটির ঘটনার জেরে এবার সেই বাড়িতেই আঁচড় এসে লাগল। বন্দেমাতরম ভবনের গায়ে আঁচড় লাগায় দুঃখিত এই শহরের বাসিন্দারা।

১৮৭৭ সালে হুগলির জেলাশাসক হিসাবে কাজে যোগদান করেন বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। জোড়ঘাটের কাছে প্রাসাদসম কোয়াশিম মল্লিকের বাড়ি তিনি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। ডাচ সংস্কৃতির বাহক এই বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণে তাই বিশেষ নজর দেওয়া হয়। যদিও নৈহাটির বিস্ফোরণের জেরে ভেঙে গিয়েছে বাড়ির ভেতরের জানালার কাঁচ। ভেঙেছে রেলিংয়ের অংশ। এমনকী, জানলার পাল্লার অংশও কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর এখানেই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভবন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করেন সুশান্ত রায়।

3043_IMG-20200110-WA0001

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টো নাগাদ ডিউটি শেষ করে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। ভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কিছু পরেই তিনি আওয়াজ শুনতে পান। শুক্রবার সকালে তিনি যখন কাজে যোগ দেন তখনই তার নজরে আসে গোটা বিষয়টি। তিনি বলেন, “বহু বছর ধরে এখানে কাজ করছি। অনেক ঝড় জল বৃষ্টি এখানে দেখেছি। কিন্তু কখনও এই পরিস্থিতির শিকার হইনি। যা হল তাতে শুধু দুঃখ প্রকাশ করে লাভ নেই। নিজের প্রতি নিজের লজ্জা লাগছে।”

সত্যিই কি এটাই প্রাপ্য ছিল ? এই প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে গঙ্গার ধারের প্রাচীন জনপদে। বন্দেমাতরম ভবনের ভেতরে গিয়ে দেখা গেল, চলছে ভাঙা কাঁচ সরানোর কাজ। কথা চলছে কীভাবে ঠিক করা যায় ঘরের জানালাগুলি। বদলানোর চেষ্টা চলছে লাইটগুলি। স্থানীয় ইতিহাস নিয়ে উৎসাহী সপ্তক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সকালে ভবনের অবস্থা দেখতে তিনি এসেছিলেন। তিনিও বলেন, “এটা কখনও হতে পারে। পুলিশ বিস্ফোরক নষ্ট করছে। আর তার জেরে ক্ষতি হচ্ছে ঐতিহাসিক বাড়ির। কত পর্যটক এখানে আসেন। কত ইতিহাসবিদ এখানে আসেন। আর বন্দেমাতরম এর সুতিকা গৃহের এই অবস্থা হল।”

বন্দেমাতরম ভবনের আশপাশের একাধিক বাডিরও একই চেহারা। জানলা থেকে ঘরের আসবাব ভেঙেচুরে একাকার। বিস্ফোরণের প্রভাব পড়েছে ভারতীয় রেডক্রস সোসাইটি পরিচালিত হাসপাতালেও। নির্মীয়মাণ আই সি ইউ নষ্ট হতে বলেছে বিস্ফোরণের জেরে। শুক্রবার সকাল থেকে অবশ্য এলাকায় ঘুরে ঘুরে পুরসভা ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা তৈরি করেছে। ক্ষতির বিবরণও সংগ্রহ করেছে। হুগলি লোকসভার সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বন্দেমাতরম ভবনের ক্ষতি হয়েছে শুনেছি। সমস্ত ধরণের সাহায্য করা হবে।”

Abir Ghoshal

First published: 02:36:05 PM Jan 10, 2020
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर