ভদ্রেশ্বরীই আসলে ভাদু!‌ পুরুলিয়ার গানের উৎসব করোনার মধ্যেও অমলিন

জেলা জুড়ে লৌকিক দেবী ভাদুর আরাধনা করা হয়। বেশ কয়েক শতাব্দী ধরে লৌকিক দেবী ভাদু পূজিতা হয়ে আসছেন এই জেলায়।

জেলা জুড়ে লৌকিক দেবী ভাদুর আরাধনা করা হয়। বেশ কয়েক শতাব্দী ধরে লৌকিক দেবী ভাদু পূজিতা হয়ে আসছেন এই জেলায়।

  • Share this:

    করোনা আবহের মধ্যেই পুরুলিয়ার অন্যতম ভাদু উৎসবে মেতে উঠেছে জেলা, লালমাটির দেশে এ এক পরিচিত আবহ। ভাদু উৎসব। প্রতি বছর ভাদ্র সংক্রান্তির আগের দিন ভাদু উৎসবে মেতে ওঠে জেলার মানুষ। এ বছর করেনার কারণে উৎসবের জৌলুস কিছুটা কমলেও প্রানের উৎসব ভাদু পালিত হচ্ছে কাশিপুর রাজ পরিবার থেকে শুরু করে গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে। এবারও ভাদুর চেনা সুর ভেসে বেড়াচ্ছে পুরুলিয়ায় আকাশে বাতাসে। কোথাও আবার ভাদুর নামে অ্যাপ বানিয়ে ভাদুর গান গাইছে জেলার শিল্পীরা।

    জেলা জুড়ে লৌকিক দেবী ভাদুর আরাধনা করা হয়। বেশ কয়েক শতাব্দী ধরে লৌকিক দেবী ভাদু পূজিতা হয়ে আসছেন এই জেলায়। ভাদু উৎসব নিয়ে ছড়িয়ে রয়েছে বহু বির্তক। এর মধ্যে সব থেকে বেশি প্রচলিত হল কাশিপুর রাজ পরিবারের আদরের কন্যা ভদ্রেশ্বরী। কথিত আছে খুব অল্প বয়সেই ভদ্রেশ্বরীর অকাল মৃত্যু হয়। রূপবতী ও গুনবতী ভদ্রেশ্বরী মৃত্যুতে ভেঙ্গে পড়েন রাজা। তার স্মৃতিতেই ভাদ্র সংক্রান্তির আগের দিন বিশেষ ভাবে স্মরণ করা হয় ভাদুকে। পরবর্তী কালে মূর্তি গড়ে শুরু হয় ভাদুর আরাধনাও। বৈদিক কোন মন্ত্র এখানে থাকে না। গানের মাধ্যমে ভাদু পুজো করা হয়। আজও কাশিপুর রাজ পরিবারে ভাদু পুজোয় গান করার প্রচলন সমান ভাবে রয়েছে। ভাদুকে বাড়ির মেয়ে হিসেবে দেখা হলেও বাস্তবে তার মূর্তির সঙ্গে মিল রয়েছে দেবী লক্ষীর। সারা পুরুলিয়া জেলা জুড়ে এই সময় মাঠে থাকে ধান। লৌকিক দেবী ভাদুকে আরাধনার মাধ্যমে ভাল ফসলের কামনা করে থাকেন বাড়ির মহিলারা। গানের মধ্যে ফুটে ওঠে তাদের দৈনিক চাওয়া পাওয়া। সুখ দুঃখের বিষয়গুলি। ভাদু আম বাঙালির ঘরের মেয়ে ভদ্রেশ্বরী।

    Indrajit Mandal

    Published by:Uddalak Bhattacharya
    First published: