• Home
  • »
  • News
  • »
  • south-bengal
  • »
  • মধুর সম্প্রীতি, গ্রামে শ্মশান তৈরিতে দেড় বিঘা জমি দান শেখ ফারুকের

মধুর সম্প্রীতি, গ্রামে শ্মশান তৈরিতে দেড় বিঘা জমি দান শেখ ফারুকের

শেখ ফারুক, ছবিটি নিজস্ব

শেখ ফারুক, ছবিটি নিজস্ব

বীরভূমের সদাইপুর থানা এলাকার সাহাপুরে কোনও শ্মশান নেই। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা বক্রেশ্বর নদীর ধারে বা জল না থাকলে নদীতেই দাহকাজ সারেন স্থানীয়রা।

  • Share this:

    #বীরভূম: ধর্ম বোঝেন না। মানেন না জাতিভেদ। যাঁদের সঙ্গে গা ঘেষাঘেষি করে দিন কাটে, তাঁদের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে দ্বিধা করেনি বীরভূমের সদাইপুরের সাহাপুরের শেখ ফারুখ। গ্রামে শ্মশান তৈরি করতে নিজের দেড় বিঘা জমি দান করেছেন তিনি। হিন্দু গ্রামবাসীদের মৃতদেহ সৎকারের জন্য শ্মশানে যাওয়ার রাস্তাও তৈরি করাচ্ছেন ফারুখ সাহেব।

    বীরভূমের সদাইপুর থানা এলাকার সাহাপুরে কোনও শ্মশান নেই। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা বক্রেশ্বর নদীর ধারে বা জল না থাকলে নদীতেই দাহকাজ সারেন স্থানীয়রা। ব্যক্তিগত মালিকাধীনে থাকা নদীর আশপাশের জমিতেও সৎকার সম্ভব নয়। এমনকি, নদীর ধার পর্যন্ত পৌঁছনোর রাস্তা না cremation ghatথাকায় গ্রাম থেকে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে দেহ নিয়ে আসতে হত। এ সমস্যা দীর্ঘদিনের। সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসেছেন গ্রামেরই বাসিন্দা শেখ ফারুখ।

    জাতিভেদ মানেন না আটান্ন বছরের শেখ ফারুখ। বিশ্বাস করেন হিন্দু প্রতিবেশীদের। আজীবন তাঁদের সঙ্গেই ওঠাবসা। নিজে চাষবাষ করে সংসার চালান। তবু হিন্দু গ্রামবাসীদের সমস্যা সমাধানে নিজের দেড় বিঘা জমি দান করতে দ্বিধা করেননি মানুষটি। সাহাপুরের পাকা রাস্তা থেকে দান করা জমিতে গড়ে ওঠা শ্মশানে যাওয়ার রাস্তাও তৈরি করে দিচ্ছেন প্রৌঢ়। শীঘ্রই শ্মশান ও রাস্তা পাকা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় পঞ্চায়েত। উপকৃত হবেন সাহাপুর ও সাহাপুর লাগোয়া কুড়ি-পঁচিশটি গ্রামের মানুষ।

    সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই ছবি সাহাপুরের নিজস্ব পরিচয়। এখানে হানাহানির খবর হয় না। খবর হয় শেখ ফারুখদের। যাঁদের কাছে সবার উপর মানুষ সত্য।

    First published: