Home /News /south-bengal /

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কাঁধে কাঁধ দক্ষিণ ২৪ পরগনার রোশনারা-সুস্মিতাদের !

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কাঁধে কাঁধ দক্ষিণ ২৪ পরগনার রোশনারা-সুস্মিতাদের !

করোনা যুদ্ধে জয় পেতে হলে লড়তে হবে কঠোর

  • Share this:

#সোনারপুর: করোনার বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াই করছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের রোশনারা সুস্মিতারা। লকডাউনের জন্য সবাই যখন  গৃহবন্দি, তখনই অনেকটা পথ সাইকেলে পাড়ি দিয়ে কারখানায় এসে হাজির হচ্ছেন তাঁরা। প্রতিদিনই। আসলে এই কঠিন সময়ে  তাদের হাত ধরেই তৈরি হচ্ছে বিশেষ পোষাক ৷ যার পোষাকি নাম পিপিই অর্থাৎ পার্সোনাল প্রটোকশান ইকুভমেন্ট ৷ রাজ্য সরকারের নির্দেশে সোনারপুরের একটি কারখানায় তৈরি করা হচ্ছে এই বিশেষ পোষাক। প্রতিদিন পাঁচ হাজার পোষাক তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে৷ এরজন্য সকাল ৯-টা থেকে বিকেল ৫-টা পর্যন্ত।

মোট দেড়শো মহিলা এই কাজে যুক্ত হয়েছেন। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিজেদের সামিল করতে পেরে খুশি তাঁরা৷ তবে তাদের এই কাজ করার ব্যাপারটা খুব  নয়। করোনা বিপদের কথা মাথায় রেখে তাদের একাধিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হচ্ছে। তাদের জন্য নির্দিষ্ট নিয়মাবলি ঠিক করা হয়েছে। যেমন -১) নিয়ম মেনে প্রথমেই নির্দিষ্ট দুরত্ব অনুযায়ী লাইন দিয়ে দাঁড়াচ্ছেন তাঁরা ৷ ২) এরপর তাদের প্রত্যেকের হাতে দেওয়া হচ্ছে হ্যান্ডওয়াশ। হাত ধুয়ে আসার পর বিশেষ ক্যামিকেল দিয়ে প্রত্যেকের শরীরে স্প্রে করানো হচ্ছে৷ তারপরেই কারখানার মধ্যে ঢুকতে পারছেন এই মহিলা বাহিনী। ৩) নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রত্যেককে দেওয়া হচ্ছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ৷ ৪) প্রত্যেকেই কাজ করছেন নির্দিষ্ট দুরত্বে বসে ৷

৫) কারখানাটিও নিয়মিত স্যানিটাইজ করা হচ্ছে ৷ ৬) কোনও কারণে কেউ বাইরে বের হলে তাকে ফের উপরিউক্ত প্রক্রিয়াগুলি মানতে হচ্ছে ৷ এসব নিয়ম মানার পরই কাজ শুরু করার সুযোগ হচ্ছে।কাজ করছেন কিভাবে? ১) কাপড় দেওয়া হচ্ছে রাজ্য সরকাররের পক্ষ থেকে২) সেই কাপড় সরকারের দেওয়া স্যাম্পল অনুযায়ী প্রথমে কার্টিং করা হচ্ছে ৷ ৩) কার্টিং করার পর ধাপে ধাপে লুপ সেলাই, জিপার জয়েন, পিছনের অংশ সেলাই, পা ও হাতের ইলাস্টিক সেলাই, সোল্ডার জয়েন, ইনসিম, ক্যাপ অ্যাটাচ, বেল্ট অ্যাটাচ প্যাক। করা হচ্ছে ৷ পায়ের পাতা থেকে মাথা পর্যন্ত একটিই অংশ ৷ চেন খুলে পোষাক পরতে হবে ৷

প্রতিটি টেবিলে আলাদা আলাদা অংশের কাজ করা হচ্ছে ৷ যিনি লুপ সেলাই করছেন তিনি শুধু লুপ সেলাইয়ের কাজই করছেন ৷ ৪) এই পোষাকের বাইরে শুধু আলাদা করে তৈরি করা হচ্ছে মাস্ক ৷ ৫) পুরো অংশ তৈরি হয়ে গেলে তা ফের স্যানিটাইজ করে ভাঁজ করেই প্যাকিং করা হচ্ছে ৷৬) সংস্থার পক্ষ থেকেই রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট করা জায়গায় ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে ৷ ৭) এই পোষাক কেবলমাত্র একবারই ব্যবহার করার জন্য৷ একবার ব্যবহার করেই তা ফেলে দিতে হবে ৷  সব মিলিয়ে করোনা যুদ্ধে নেমে মানুষের প্রয়োজনে অন্য অনেক যোদ্ধার মতোই কাজ করছেন ওরাও। ওরা মানে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এইসব মহিলারা।

যাঁদের লড়াইকে স্যালুট জানাচ্ছেন সকলেই। সংস্থার সিইও সুব্রত বিশ্বাসের কথায়, আমাদের সংস্থায় কর্মরত সকল কর্মীই লড়াই চালাচ্ছেন। তাদের লড়াইয়ের জন্যই বহু মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। মহিলা কর্মীদের হাত ধরে করোনার বিরুদ্ধে এ লড়াই চলবে। যাদের লড়াইকে সবাই সাধুবাদ জানাচ্ছেন, সেই সুনীতা চিত্রকর, সাবানা বিবিরা বলছেন, যে যেমনভাবে পারবেন, সেভাবেই লড়তে হবে এই মারনের বিরুদ্ধে। সবাই লড়ছে। লড়াই বিফলে যাবেনা।  

SUJIT BHOWMIK
Published by:Arjun Neogi
First published:

Tags: Coronavirus, COVID-19, Sonarpur

পরবর্তী খবর