বাংলায় ভোট হোক শান্তিতে, দাবি নিয়ে সাইকেলে দিল্লি গেলেন কাঁথির দুই যুবক

বাংলায় ভোট হোক শান্তিতে, দাবি নিয়ে সাইকেলে দিল্লি গেলেন কাঁথির দুই যুবক

দিল্লির রাস্তায় কৃষ্ণেন্দু ও অর্পণ৷

কাঁথি থেকে সাইকেল চালিয়ে দিল্লি আসতে সময় লেগেছে ১৭ দিন৷

  • Share this:

    #দিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন মানেই যেন হিংসা, মারামারি আর অশান্তি৷ প্রাণহানির ঘটনাও বাদ যায় না৷ হাজারে হাজারে কেন্দ্রীয় বাহিনী, নির্বাচন কমিশনের নজরদারি কোনও কিছুতেই যেন কাজ হয় না৷ মুখে সব দলই অবাধ, শান্তিপূর্ণ ভোটের কথা বলে ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় জোর যাক মুলুক তারের নীতিতেই যেন বিশ্বাসী অধিকাংশ রাজনীতিবিদরা৷

    এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবিতে ১৭০০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে কাঁথি থেকে দিল্লি পাড়ি দিলেন দুই যুবক৷ বাংলায় অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবিতে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে গিয়ে চিঠিও জমা দিয়েছেন তাঁরা৷ চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির দফতরেও৷ পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির বাসিন্দা কৃষ্ণেন্দু বেরা এবং অর্পণ ত্রিপাঠী নামে দুই যুবক এই উদ্যোগের নাম দিয়েছেন সংকল্প যাত্রা৷

    কৃষ্ণেন্দুর কথায়, 'আমাদের এই বার্তার মাধ্যমে যদি কিছু মানুষ সচেতন হন তাহলেই আমরা খুশি হব৷ যাঁরা ভোট দিতে যেতে ভয় পান, তাঁরা যাতে ভোটটা দিতে পারেন এবং বুথে বুথে মারপিট, ছাপ্পা ভোট যাতে না হয় সেই দাবিতেই আমরা এই পর্যন্ত এসেছি৷'

    কিন্তু সাইকেলকেই বেছে নেওয়া কেন? অর্পণের কথায়, 'মেল করে এই চিঠি পাঠিয়ে দেওয়া যায়, খামেও পাঠিয়ে দেওয়া যায়৷ কিন্তু সেটা চাপা পড়ে থাকে, কারও দৃষ্টিগোচর হয় না৷ ট্রেনে বা প্লেনে এলে কম সময়ে পৌঁছন যায়, কিন্তু মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ গড়ে ওঠে না৷ আর সাইকেলের ক্ষেত্রে মানুষের অনেক বেশি উৎসাহ থাকে, যে এঁরা এত কষ্ট করে আসছে, এঁদের দাবিটাকে অন্তত মর্যাদা দেওয়া উচিত৷ সেই কারণেই সাইকেলে করে আসা৷'

    কাঁথি থেকে সাইকেল চালিয়ে দিল্লি আসতে সময় লেগেছে ১৭ দিন৷ ফিরতেও প্রায় একই সময় লাগবে৷ প্রথম দফাতেই গত ২৭ মার্চ কাঁথিতে ভোট হয়ে গিয়েছে৷ ফলে শান্তিপূর্ণ ভোটের দাবিতে দিল্লি যাত্রা করতে গিয়ে ভোটটাই দেওয়া হয়নি দুই বন্ধুর৷ তবে বাকি সাত দফায় রাজ্যে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ অনেকটাই মিটবে কৃষ্ণেন্দু- অর্পণের৷

    Rajib Chakraborty

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: