দক্ষিণবঙ্গ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

প্রসূতী মহিলার চাই বিরল A নেগেটিভ রক্ত, রক্তদান করে প্রাণ বাঁচালেন নার্স ও এক শিক্ষক

প্রসূতী মহিলার চাই বিরল A নেগেটিভ রক্ত, রক্তদান করে প্রাণ বাঁচালেন নার্স ও এক শিক্ষক

ওই প্রসূতি মহিলার মোট ২ ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হয় । খবর পাওয়া মাত্র তাঁকে বাঁচাতে ছুটে আসেন দুই অচেনা মানুষ ।

  • Share this:

Supratim Das

#বোলপুর: প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ভর্তি হওয়া এক মহিলাকে রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচালেন এক নার্স ও এক শিক্ষক । বুধবার বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে এমনই একটি ঘটনার সাক্ষী থাকলেন সকলেই । জানা গিয়েছে, সোমবার নানুর থানার নুরপুর গ্রামের শামিমা খাতুন প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে বোলপুরের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি হন। পরে তিনি একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। এরপরই সোমবার রাত থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে ।

চিকিৎসকেরা জানান প্রসবের সময় তাঁর শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। যার কারণে চিকিৎসকরা ওই প্রসূতির পরিবারকে রক্তের প্রয়োজনের কথা জানান । ওই প্রসূতি মহিলার রক্তের গ্রুপ A নেগেটিভ । সিউড়ি, বোলপুর, রামপুরহাট হাসপাতালের  ব্লাড ব্যাঙ্ক গুলিতে এই বিরল গ্রুপের রক্ত অমিল থাকায় সমস্যায় পড়েন ওই রোগীর পরিবার । প্রসূতির পরিবার ভেবে পাচ্ছিলেন না কিভাবে তাঁরা A নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত জোগাড় করবেন। এরপরই রোগীর পরিবার ও ওই বেসরকারি হাসপাতালের কর্মরত এক চিকিৎসক বীরভূম ভলেন্টিয়ার ব্লাড ডোনার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন । তাঁদের মারফত সে খবর এসে পৌঁছায় রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিস্টার ইনচার্জ ঝর্ণা দাসের কাছে । এই খবর পাওয়া মাত্র তিনি বিন্দুমাত্র বিলম্ব না করে নিজেই রক্ত দেওয়ার জন্য উদ্যোগী হন এবং তাঁর হাসপাতালের ডিউটি পরিবর্তন করে রামপুরহাট থেকে  রক্ত দিতে আসেন বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ।

ওই প্রসূতি মহিলার মোট ২ ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হয় । সেই মতো একইভাবে ওই মহিলাকে রক্ত দিতে রামপুরহাট থেকে ছুটে আসেন ওই বিরল গ্রুপ রক্তের অধিকারী ছোটন লেট নামে এক শিক্ষকও। এই দু’জন রক্তদাতাকে নিয়ে  বীরভূম ভলেন্টিয়ার ব্লাড ডোনার অ্যাসোসিয়েশনের দুই কর্মকর্তা শাহাজাদ রাহি ও রাজেশ মিশ্র গাড়ি ভাড়া করে  রামপুরহাট থেকে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে নিয়ে এসে রক্ত দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। সঠিক সময়ে ওই প্রসূতির পরিবারের হাতে রক্ত তুলে দেওয়া হয়। রক্তের জোগান মেলার পর বুধবার শামিমা খাতুনের শারীরিক অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়। নার্স ও শিক্ষকের এই ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন প্রসূতির পরিবার সহ ব্লাড ব্যাংকের কর্মীরা। নার্স ঝর্ণা দাস জানান, বর্তমানে তিনি রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিস্টার ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত এবং বীরভূম ভলেন্টিয়ার ব্লাড ডোনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নিয়মিত রক্তদাতা । সেই হিসাবে তিনি জানতে পারেন ওই প্রসূতি মহিলার A নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজন । কোথাও সেই রক্ত পাওয়া যাচ্ছিল না । তাঁরও ওই একই গ্রুপের রক্ত হাওয়ায় তিনি এক কথাতেই রক্ত দিতে রাজি হয়ে যান । রক্তদানের মাধ্যমে একজন প্রসূতি মহিলার প্রাণ বাঁচাতে পেরে তিনি নিজেকে ধন্য মনে করছেন । একই কথা শোনা গিয়েছে শিক্ষক ছোটন লেটের মুখেও । তিনিও জানান এই ভাবে কাউকে সাহায্য করতে পেরে তিনি খুশী।

Published by: Simli Raha
First published: July 10, 2020, 9:14 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर