একা থাকার ভয় কাটাতে এখানে দুর্গাপুজো শুরু করেন দুই ভাই

একা থাকার ভয় কাটাতে এখানে দুর্গাপুজো শুরু করেন দুই ভাই

গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, পুজোর বয়স প্রায় পাঁচশো। এর সঙ্গে জড়িয়ে কানপুর থেকে রাজ-পুরোহিত হয়ে আসা দুই ভাই শিবরাম ও তুলারাম দুবে-র নাম।

  • Share this:

#পুরুলিয়া: লাল মাটির রুক্ষতায় সাত দুর্গার গল্প। । বুনো গন্ধমাখা পথে জাপানের মুখোশ উৎসবের ধাঁচে বামুন চুড়পা। পুরুলিয়ার আদিবাসী গ্রাম শিবডির উমা-পার্বণ টেক্কা দিতে পারে শহুরে জাঁকজমককেও। পুরুলিয়া । নামটা বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে লাল মাটির পথ....ছৌ নাচ...পাহাড়, নদী, জঙ্গল...কিছুটা খোলামেলা। অনেকটাই আড়ালে ঢাকা। ঠিক যেমন শিবডি। পুরুলিয়া শহর থেকে আট কিলোমিটার দূরে ছোট্ট এক জনপদ। দুর্গাপুজো উপলক্ষে সেখানে এখন সাজ-সাজ রব।

গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, পুজোর বয়স প্রায় পাঁচশো। এর সঙ্গে জড়িয়ে কানপুর থেকে রাজ-পুরোহিত হয়ে আসা দুই ভাই শিবরাম ও তুলারাম দুবে-র নাম। কথিত আছে,

-- কাশিপুর রাজার হাত ধরে দুই ভাই পুরুলিয়ায় আসেন --শহরে থেকে আট কিলোমিটার দূরে জঙ্গল ঘেরা একটি জায়গায় বসবাস শুরু করেন তাঁরা --একা থাকার ভয় কাটাতে দুর্গাপুজো শুরু করেন দুই ভাই বড় ভাই শিবরামের নামে গ্রামের নাম হয় শিবডি। তখন থেকেই দুর্গাপুজোর শুরু গ্রামে। ছোট-বড় মিলিয়ে সাতটি পুজো হয় শিবডিতে। পুজো উপলক্ষে সেজে ওঠে গোটা গ্রাম। নবমীর বিশেষ আকর্ষণ, বামুন চুড়পা। শিবরাম, তুলারামের বংশধররা বিভিন্ন সাজে নেমে পড়েন রাস্তায় । কেউ সাজেন জেলে। কেউ বাঘ, সিংহ। ছৌ-এর মুখোশে, রকমারি সাজে সেদিন রঙিন হয়ে ওঠে গ্রামের রুক্ষ-মাটি। পুজোর কদিন জমাটি মেলা বসে শিবডিতে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুজো চালিয়ে যাওয়া দুরূহ। তবু ঐতিহ্য ভাঙতে নারাজ কানপুরের রাজ-পুরোহিতদের বংশধররা। আজও সাত-দুর্গা স্বমহিমায় উজ্জ্বল শিবডিতে।

First published: September 4, 2019, 11:42 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर