স্কুল পালিয়ে দামোদরে স্নান দুই বন্ধুর, তারপর? কী মর্মান্তিক!

স্কুল পালিয়ে দামোদরে স্নান দুই বন্ধুর, তারপর? কী মর্মান্তিক!
Representative Image

এই মর্মান্তিক ঘটনাকে ঘিরে শোকস্তব্ধ বর্ধমানের কাঞ্চননগরের খর্গেশ্বরপল্লী এলাকা।

  • Share this:

#বর্ধমান: স্কুলে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল দুই বন্ধু। স্কুলে না গিয়ে পরিকল্পনা করে দামোদরের চরে যায় তারা। সেখানেই চোরাবালিতে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু হল এক জনের। অন্যজন নিজেকে বাঁচাতে পারলেও বাঁচাতে পারেনি তার বন্ধুকে। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে ঘিরে শোকস্তব্ধ বর্ধমানের কাঞ্চননগরের খর্গেশ্বরপল্লী এলাকা।

দুই বন্ধু দেবজিত দাস ও কৌশিক অধিকারী।  দুজনেই বর্ধমানের রথতলা হাই স্কুলের পড়ুয়া। দেবজিত পড়ত  অষ্টম শ্রেণীতে। নবম শ্রেণীতে পড়ে কৌশিক। দুজনই বর্ধমানের কাঞ্চননগরের খর্গেশ্বরপল্লীর বাসিন্দা। একই সঙ্গে স্কুলে যেত তারা। এদিন তারা স্কুলে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর স্কুলে না গিয়ে সাইকেলে এদিক সেদিক ঘুরে চলে যায় চর গৈতানপুরে দামোদরের চরে। সেখানে দুজনেই স্নান করতে নামে। বেশ কিছুক্ষণ স্নানের পর পারেও ওঠে তারা। কিন্তু গায়ে বালি লেগে থাকায় আবার জলে নামে দেবজিত। কিছুটা নামার পরই চোরাবালিতে তলিয়ে যায় সে। তাকে ডুবে যেতে দেখে উদ্ধারের চেষ্টা চালায় কৌশিক। কিন্তু চোরাবালি বুঝে উঠে আসে সে। তার চিৎকারে ততক্ষণে ছুটে আসেন এলাকার বাসিন্দারা। তারা জল থেকে দেবজিতের অচৈতন্য দেহ উদ্ধার করে। স্হানীয়রাই উদ্যোগ নিয়ে তাকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসকরা দেবজিতকে মৃত বলে ঘোষণা করে।

 বন্ধুকে হারিয়ে অনুতপ্ত কৌশিক। তার বক্তব্য, ও প্রায়ই আমাকে দামোদরে যাওয়ার কথা বলতো। আমি আগে যায়নি। তার কথাতেই আজ আমি যাই। বাঁচানোর  চেষ্টা করেছিলাম। পারিনি। ডুকরে কেঁদে ওঠে কৌশিক। গৈতানপুরের বাসিন্দারা বলছেন, প্রায়ই ছেলে মেয়েরা দামোদরে চলে আসে। অনেকে নিষেধ সত্ত্বেও জলে নেমে পড়ে। বালি তোলার জন্য এই এলাকায় অনেক গর্ত তৈরি হয়েছে। জল ভর্তি থাকলে সে সব গর্ত বোঝা যায় না। তেমনই গর্তে পড়ে মৃত্যু হল ওই স্কুল ছাত্রের। ছেলে সময়ে বাড়ি না ফেরায় উদ্বেগে ছিল দেবজিতের পরিবার। তার মৃত্যুর খবর পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মা ও আত্মীয় পরিজন। স্কুল পালিয়ে একটু স্বাধীনতা খোঁজার পরিনতি যে এমন হতে পারে তা ভেবে উঠতে পারছেন না কেউই।

First published: March 2, 2020, 10:03 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर