corona virus btn
corona virus btn
Loading

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চাই ইমিউনিটি! রাজ্যের দুঃস্থ মানুষদের জন্য প্রকল্প 'তুমিও করোনা'

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চাই ইমিউনিটি! রাজ্যের দুঃস্থ মানুষদের জন্য প্রকল্প 'তুমিও করোনা'
Photo Courtesy: FEED

কমিউনিটি কিচেনের মাধ্যমে রান্না করা পুষ্টিকর খাবার এখানকার ৩০০ জন মানুষের মুখে প্রতিদিন তুলে দিচ্ছেন চন্দ্রশেখরবাবু।

  • Share this:

#কলকাতা:  চরম সঙ্কটে গোটা বিশ্ব। দেশেও হু হু করে  বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। মৃত্যুর ঘটনাও সামনে আসছে প্রতিদিনই । এরাজ্যেও করোনার ছোবলে মৃত্যু হয়েছে একাধিক মানুষের। সরকারি  হিসেবে আক্রান্তের সংখ্যা একশ ছুঁই ছুঁই। একদিকে করোনা জুজু আর অন্যদিকে লকডাউন। এই  জোড়া আক্রমণে অর্থনীতি যেমন খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে তেমনি চরম অনিশ্চয়তার সম্মুখীন দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলো। রোজগার বন্ধ হওয়ায় অনেক পরিবারেরই  পেটে পড়েছে কার্যত তালা। পরিবারগুলোর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। এই অবস্থায় এগিয়ে এসেছে সমাজবন্ধু চন্দ্রশেখর কুন্ডু ।

পেশায় আসানসোল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষক চন্দ্রশেখরবাবুর নেশা   'সমাজ বন্ধু' হিসেবে মানুষের পাশে থাকা । চন্দ্রশেখর কুন্ডু । অনেকের কাছেই  'ফুড ম্যান' হিসেবে পরিচিত নাম। কলকাতা সহ রাজ্য তথা দেশজুড়ে সমাজে যারা অবহেলিত, হতদরিদ্র মানুষগুলোর মুখে নানা প্রকল্পের মাধ্যমে হাসি ফোটাচ্ছেন। লকডাউনেও তাই গরীব-দুঃস্থ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে কিছু একটা করার ভাবনা থেকেই শুরু করে ফেললেন তার নয়া প্রকল্প 'তুমিও করোনা'।

লকডাউনের  জেরে রাজ্যের সর্বত্র এই প্রকল্প চালু করার ইচ্ছে থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের শহর আসানসোল দিয়েই প্রকল্পের কাজ শুরু করলেন শিক্ষক চন্দ্রশেখর কুন্ডু । কী সেই প্রকল্প? চন্দ্রশেখর কুন্ডুর কথায়,' এই মুহূর্তে করোনা রুখতে কোনও ওষুধ নেই। একমাত্র ভরসা ইমিউনিটি । অপুষ্টি থাকলে মৃত্যু নিশ্চিত । তাই দিনমজুরদের অনেকেই আজ বেকার। হাতে অর্থ না থাকায় পেটে ভাত জুটছে না তাদের । মূলত সেই পরিবারগুলোর কথা ভেবেই আমরা কয়েকজন উদ্যোগ নিয়ে সামাজিক এই প্রকল্পের সূচনা করলাম। সামাজিক দূরত্বের কথা মাথায় দেখে পেট ভরে  খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছি'।

আসানসোলের সরাকডিহি এলাকা। প্রত্যন্ত গ্রামের অধিকাংশই দিনমজুর। কাজ হারিয়েছে অধিকাংশ গ্রামবাসী। কমিউনিটি কিচেনের মাধ্যমে রান্না করা পুষ্টিকর খাবার এখানকার ৩০০ জন মানুষের মুখে প্রতিদিন তুলে দিচ্ছেন চন্দ্রশেখরবাবু। এই সামাজিক সেবার কাজে শিক্ষক চন্দ্রশেখর বাবুর সঙ্গে কর্মযজ্ঞে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন দেবদ্বীপ মুখোপাধ্যায়, সুমন চক্রবর্তী সুস্মিতা সিং আলির মত আরও অনেক মানুষজন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নিয়ম করে খাবার পেয়ে খুশি দিনমজুর লক্ষী ভুঁইয়া, অমিতরা । বললেন, 'কাজ নেই ।ঘরে একটা টাকাও নেই। খুব বিপদে পড়েছিলাম। কীভাবে যে সংসার চালাবো ভেবে উঠতে পারছিলাম না। সন্তানরাও দিনের পর দিন কার্যত অনাহারেই দিন কাটাচ্ছিল। ওরা পাশে না দাঁড়ালে যে কী হতো ভগবানই জানে'। কবে কাজ ফিরবে সেই অনিশ্চয়তা নিয়ে প্রতিটি মুহূর্ত এক চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে কাটছে হতদরিদ্র সরাকডিহির  পরিবারগুলির। তবে রোজগার শুরু না হওয়া পর্যন্ত যে দিনমজুর পরিবারগুলোর পাশে তাঁদের স্বেচ্ছাসেবী  সংস্থা  FEED  থাকবে সে কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন চন্দ্রশেখর কুন্ডু।

Published by: Pooja Basu
First published: April 10, 2020, 1:57 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर