corona virus btn
corona virus btn
Loading

পেটে নেই ভাত! ফুটবল পায়ে সেরা হল মালদহের আদিবাসী মেয়েদের টিম

পেটে নেই ভাত! ফুটবল পায়ে সেরা হল মালদহের আদিবাসী মেয়েদের টিম

মালদহের তপশিলি জাতি, উপজাতি পরিবারের মেয়ে রেণুকা, স্মৃতি ,গৌরীদের স্বপ্নগুলোও এক সুতোয় গাঁথা। জন্ম থেকেই দারিদ্রের সঙ্গে ড্রিবল।

  • Share this:

#মালদহ: ফুটবলে জীবন-জয়ের হাতছানি। দু-বেলা দু'মুঠো ভাত যাদের কাছে বিলাসিতা, আজ তারাই স্বপ্ন দেখাচ্ছে বাংলাকে। মালদহের হাতিমারী আবাসিক হাইস্কুলে পড়াশোনার ফাঁকে ফুটবল খেলে অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছে রেনুকা, মৌসুমি,ললিতা,স্মৃতি,গৌরীরা। মহিলা স্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতা সুব্রত কাপে রাজ্য সেরা মালদহের আদিবাসী মেয়েদের টিম।

শুধু মৌসুমী নয়। মালদহের তপশিলি জাতি, উপজাতি পরিবারের মেয়ে রেণুকা, স্মৃতি ,গৌরীদের স্বপ্নগুলোও এক সুতোয় গাঁথা। জন্ম থেকেই দারিদ্রের সঙ্গে ড্রিবল।

নেহাত-ই ছাপোষা। মেগান র‍্যাপিনো নন। পুলিশি অত্যাচার ও জাতিবৈষম্যের প্রতিবাদ জানাতে যিনি মার্কিন জাতীয় সঙ্গীত চলকাালীন হাঁটু মুড়ে বসে পড়েছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিশ্বকাপ জিতেও হোয়াইট হাউজে পা না দেওয়া আমেরিকার মহিলা ফুটবলদলের সমকামী অধিনায়কের মত সাহস ওদেরও আছে......তবে, ওদের মত করে।

বছর দুয়েক আগেও মুখে কথা ফুটত না। হতদরিদ্র পরিবার তাদের পাঠিয়ে দেয় গাজোলের হাতিমারী আবাসিক স্কুলে। এখানে থাকা-খাওয়া, ফ্রিতে লেখাপড়া। প্রথম প্রথম স্কুলে ভয়ে জড়সড় হয়ে থাকা। সাধ আর সাধ্যের লড়াইয়ে কয়েকটা বছরেই বদলে যায় ছবিটা। দারিদ্রকে ডজ করে আজ তাদের শরীরী ভাষায় আত্মবিশ্বাস টইটুম্বুর। এখন ওদের পায়ে কথা বলে ফুটবল। কড়া ঠাণ্ডা কিংবা চাঁদিফাটা রোদ অথবা অঝোর বৃষ্টি। পায়ে ফুটবল পেলেই এক একজন যেন বিদেশ, মানস, কৃষাণু।

পড়ার ফাঁকে দিনভর চুটিয়ে অনুশীলন। অগাস্টে সোনারপুরে বসেছিল অনুর্ধ্ব সতেরো সুব্রত কাপ মহিলা স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট। বীরভূম, বাঁকুড়া,পুরুলিয়া,জলপাইগুড়িকে হারিয়ে রাজ্য সেরা মালদহের হাতিমারী স্কুলের মহিলা ফুটবল টিম।

এবার দিল্লি চলো। ৩০ অগাস্ট থেকে ছ'ই সেপ্টেম্বর রাজধানীতে বসছে ডায়মণ্ড জুবলি সুব্রত কাপের আসর। একদিন এই টুর্নামেন্ট খেলেই দেশের জার্সি পড়েছিলেন কুন্তলা, বেমবেমরা। সেই টুর্নামেন্ট-ই এখন নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে রেনুকা,মৌসুমি,ললিতাদের। ভিন রাজ্যের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা,আফগানিস্থান।

চৌষট্টি-জন ছাত্রীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ধাপে ধাপে বাছাই করা হয়েছে সেরাদের। তাদের পায়ের কারুকাজ জাদু দেখাচ্ছে। কার্যত শূন্য থেকে শুরু। প্রথম ধাপে স্বপ্ন সফল। রূপকথা তৈরি এখন সময়ের অপেক্ষা।

First published: August 26, 2019, 11:50 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर