ব্রাত্যজনের ভোট: ভোটবাবুদের প্রতিশ্রুতিতে পেট ভরে না, বাগদার আদিবাসী পাড়া তাই লড়াই করছে আজও

ব্রাত্যজনের ভোট: ভোটবাবুদের প্রতিশ্রুতিতে পেট ভরে না, বাগদার আদিবাসী পাড়া তাই লড়াই করছে আজও
  • Share this:

#বাগদা: চাষবাসের জন্য ইংরেজরা ওঁদের এনেছিলেন। তারপর আর যাওয়া হয়নি। উত্তর চব্বিশ পরগনার বাগদায় তৈরি হয়েছে কয়েকটা আদিবাসী পাড়া। আদি বাসিন্দারা বলছেন, আদি থেকে বর্তমান, কেউই কোনও সুবিধাই দেয়নি। তাই ভোট দেওয়া শুধু ভোটার তালিকায় নাম রেখে দেওয়ার জন্য।

মিশমিশে আদুল গা বসে বসে শোনে শৈশবের হাসি.. নিকোন উঠোনে মাটি লেপা হয় নিয়ম করে.. এলইডি আলোয় সাজানো রাস্তাটা না হয় এখনও পাকা হয়নি, তবু ওই রাস্তাই বাড়ি চেনায়.. ওই রাস্তা ধরেই ব্যস্ত পা ঘরে ফেরে.. দু'চোখ ভরে দেখে নেয় সন্তানদের.. যে সন্তানেরা ছোট থেকেই নিজেদের ভাত বেড়ে খায়.. অভাব আর পরিস্থিতি যেখানে শৈশবকে একধাক্কায় অনেকটা বড় করে দেয়..

উত্তর চব্বিশ পরগনার বাগদার আদিবাসী পাড়াগুলোতে অভাবের ছবিটা স্পষ্ট। বেশিরভাগ বাড়িরই স্বামী-স্ত্রী সকালে উঠে মাঠে কাজ করতে চান। চাষবাস বা মাটি কাটার কাজ। সরকারি টাকা কখনও জোটে.. কখনও জোটে না... ফিরে একেকটা দড়ি বুনলে তিরিশ টাকা.. দুপুরে একটু খেতে পাওয়ার আশায় স্কুলে থালা নিয়ে যায় পড়ুয়ারা। পেট আসলে বড় বালাই...

আদি বাসিন্দারা জানেন, প্রতিশ্রুতিতে পেট ভরে না। তাই ভোট দেওয়া শুধু ভোটার তালিকায় নামটা থাকার জন্য। ভোট দিয়ে তাঁদের জীবন বদলায়নি।

বনগাঁ লোকসভার মধ্যে বাগদা বিধানসভাটি তপশিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত। বারবার বিভিন্ন দলের বিধায়ক হন তফসিলি জাতি থেকেই। তবে আদিবাসীরা যে অন্ধকারে ছিলেন, সেখানেই থেকে যান.. ভোট ময়দানে লড়াইটা হয় সমানে সমানে.. আদিবাসীদের লড়াইটা হয় অসম.. খিদে, অভাব, রোগভোগের সঙ্গে লড়তে লড়তে আদি বাসিন্দারা প্রশ্ন করে, কেন দেব ভোট?

First published: 01:49:35 PM May 05, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर