corona virus btn
corona virus btn
Loading

লকডাউনে এলাকার বাসিন্দাদের পাশে বৃহন্নলারা ! মাংস ভাত রেঁধে খাওয়ালেন !

লকডাউনে এলাকার বাসিন্দাদের পাশে বৃহন্নলারা ! মাংস ভাত রেঁধে খাওয়ালেন !

আলু কাটা থেকে চাল ধোয়া, রান্না দেখভাল থেকে পরিবেশন সব সামলালেন তাঁরাই।

  • Share this:

#বর্ধমান: মাটি খুঁড়ে উনুন তৈরি হয়েছিল আগেই। জোগাড় হয়েছিল জ্বালানি কাঠও। রোজ দু বেলা চারশো লোকের খাওয়া দাওয়ার আয়োজন বলে কথা। ব্যবস্থা হয়েছিল রাঁধুনিরও। এলাকার বাসিন্দারা সব ঝক্কি সামলেছেন এতোদিন। আজ দায়িত্ব নিজেদের হাতে তুলে নিলেন বৃহন্নলারা। আলু কাটা থেকে চাল ধোয়া, রান্না দেখভাল থেকে পরিবেশন সব সামলালেন তাঁরাই। আজ ভিড়টাও যেন ছিল একটু বেশিই। আজ যে বৃহন্নলাদের ব্যবস্থাপনায় দুপুরের মেনুতে মাংস ভাত। তাই আজ খাবার নিয়ে গেলেন প্রায় চারশো জন। মঙ্গলবার দুপুরের এ ছবি বর্ধমানের রানা প্রতাপ ক্লাবের সামনের।

ওরা থাকে ওধারে। বর্ধমানের  লক্ষ্মীপুর মাঠ থেকে কিছুটা তফাতে জি টি রোডের উলটো দিকে পাঞ্জাবি পাড়ায়। আজ তাঁরা এলাকার দরিদ্র বাসিন্দাদের খাবারের দায়িত্ব নেবেন বলে আগেই ঘোষনা করেছিলেন। সেই মতো সকাল সকাল এসেছিলেন তাঁরা। বাজার এনে কুটনো কেটে বসানো হয়েছিল রান্না। সব কিছু শেষ হতে বেলা আড়াইটে তিনটে পার। লক ডাউন শুরু হতেই প্রমাদ গুনেছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। এতোদিন লক ডাউন! কি করে দিন চলবে। এলাকার অনেকেই যে দিন আনি দিন খাই পরিবারের। কাজ না থাকলে চুলা জ্বলবে কি করে! তাই আর্থিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া বাসিন্দাদের মুখে খাবার তুলে দিতে এককাট্টা হয়েছিলেন অনেকেই। ঠিক হয়েছিল, রান্না করে দুঃস্থদের বাড়িতে খাবার পাঠানো হবে প্রতিদিনই। সেই মতো কেউ দিয়ে ছিলেন কয়েক বস্তা চাল, কেউ ডাল, কেউ আলু। এলাকার যুবকরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে সেজন্য চাঁদাও সংগ্রহ করেন। যে যাঁর সাধ্যমতো দিয়েছেন বেশিরভাগই। চাঁদা চাইতে চাইতে এলাকার বাসিন্দারা গিয়েছিলেন পাঞ্জাবি পাড়ায় বৃহন্নলাদের বাসস্হানেও। এখানে একটি বাড়িতেই বাস বেশ কয়েক জন বৃহন্নলার। সব শুনে তাঁদের গুরুমা জানিয়েছিলেন, বেশ ভালো উদ্যোগ। তাই দু পাঁচশো টাকা চাঁদা নয়। আমরা একদিন উদ্যোগ নিয়ে সবাইকে খাওয়াবো। সেদিনের সব খরচ আমাদের।

আজ মঙ্গলবার ছিল সেই দিন। আজ বৃহন্নলারা খাওয়ালেন মাংসভাত। তাঁরা বললেন, বসে যত্ন করে খাওয়াতে পারলে আরও তৃপ্তি মিলতো। কিন্তু সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য তা সম্ভব হয়নি। জমায়েত এড়াতে তাই রান্না করা খাবার এলাকার দরিদ্র বাসিন্দাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বাড়ির সদস্যরা পাত্র এনেছিলেন।  খাবার নিয়ে গিয়ে তা বাড়িতে খেয়েছেন তাঁরা। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রসদ জোগাতে পেরে তৃপ্ত তাঁরা। বৃহন্নলাদের পাশে পেয়ে খুশি এলাকার বাসিন্দারাও।

SARADINDU GHOSH
First published: April 15, 2020, 4:47 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर