Home /News /south-bengal /

Gangasagar: ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে গঙ্গাসাগর, পরিকাঠামোয় খুশি পুণ্যার্থী থেকে পর্যটকরা

Gangasagar: ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে গঙ্গাসাগর, পরিকাঠামোয় খুশি পুণ্যার্থী থেকে পর্যটকরা

আলোয় সেজে উঠেছে কপিল মুনির আশ্রম৷

আলোয় সেজে উঠেছে কপিল মুনির আশ্রম৷

বেশ কিছু বছর আগেও গঙ্গাসাগর যাত্রা মানে ছিল হোগলা পাতার ঘর, উন্মুক্ত আকাশের নীচে অস্থায়ী উনুন বানিয়ে রান্না, মকর সংক্রান্তির দিন হাড় কাঁপানো শীতে স্নান (Gangasagar)।

  • Share this:

#গঙ্গাসাগর: প্রবাদ আছে, সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার। গঙ্গাসাগরের (Gangasagar) সেই চেনা রূপের বদল ঘটাতে এবার উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। গত কয়েক বছর ধরে দেশের অন্যতম বৃহত্তম এই মেলাকে ঘিরে গোটা এলাকার পরিকাঠামো বদল করতে চাইছে রাজ্য সরকার। আর নয়া রূপের সেই গঙ্গাসাগরের চেহারা চোখ টানছে পুণ্যার্থী থেকে শুরু করে পর্যটকের।

বেশ কিছু বছর আগেও গঙ্গাসাগর যাত্রা (Gangasagar Mela 2021) মানে ছিল হোগলা পাতার ঘর, উন্মুক্ত আকাশের নীচে অস্থায়ী উনুন বানিয়ে রান্না, মকর সংক্রান্তির দিন হাড় কাঁপানো শীতে স্নান। আর ছিল সাধুসন্ত ও নাগা সন্ন্যাসীদের ভিড়। সমুদ্রের তীর নোংরা। খোলা শৌচালয়। কিন্তু এখন গঙ্গাসাগর মেলা মানে পরিবারের সঙ্গে একদিন ছুটি কাটাতে যাওয়ার নতুন ঠিকানা। সব কিছুই ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘কুম্ভ মেলায় সব টাকা ভারত সরকার দেয়, এখানে এক পয়সাও দেয় না...’, গঙ্গাসাগর নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা মমতার

বিগত ত্রিশ বছর ধরে এই মেলায় পুরোহিতের কাজ করেন এলাকার বাসিন্দা বিপত্তারণ পাহাড়ি। তিনি জানান, "একটা সময় গঙ্গাসাগর মেলায় ছিল সাধু সন্ন্যাসীদের ভিড়। এখন তাঁদের সংখ্যাই কমে গিয়েছে। তবে মেলার আগে আজও আসেন নাগা সন্ন্যাসীরা। আর তাঁদের দেখতে ভিড়ও হয় মেলা জুড়ে।"

তবে শুধু মেলা নয়, এখন বছরভর পর্যটকরা এখানে সপরিবারে বেড়াতে আসেন। মেলার সময় সেই ভিড় আরও বাড়ে। পুণ্যার্থীদের একাংশ জানাচ্ছেন, একটা সময় এই মেলার সকাল শুরু হত কয় ঘটিকায় স্নান সারতে হবে সেই ঘোষণার মাধ্যমে। এখন আর সেই ঘোষণা নেই। এখন ঘোষণা ই-স্নান, ই-দর্শন, ভেসেলের সময়, বাস কোথায় মিলবে, কোন শৌচালয় ফাঁকা রয়েছে, কোথায় লম্বা লাইন, বিনামূল্যের শৌচালয় কোথায় সেই তথ্য জানানোর জন্য।

আরও পড়ুন: কপিল মুনির আশ্রমে পুজো দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে যা বললেন... 

মেলা প্রাঙ্গণে শৌচালয়ের অভাব ছিল বরাবরই। উন্মুক্ত স্থানেই শৌচকর্ম সারতেন বেশির ভাগ মানুষ। কিন্তু এখন প্রশাসনের তৎপরতায় মেলা প্রাঙ্গণ অনেক বেশি ঝা চকচকে। বসানো হয়েছে একাধিক বায়ো টয়লেট। নজর রাখছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। যাতে খোলা জায়গায় কেউ শৌচকর্ম না করতে পারেন। এই সব কিছুই আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে গঙ্গাসাগরকে। বাহারি আলো, হাই মাস্ট আলো, পেভমেন্ট ব্লকের রাস্তা, ডালা আর্কেড- রয়েছে সবকিছুই।

বালুরঘাট থেকে এসেছেন সুরভী রায়। বছর চল্লিশের সুরভীদেবী জানাচ্ছেন, ‘‘গঙ্গাসাগর মেলা এখন ঝা চকচকে। বছর দু’য়েক আগেও এখানে এসে শৌচালয় নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয়েছিল। এ বার আর তা হচ্ছে না। মহিলা স্বেচ্ছাসেবকরা হাত ধরে শৌচালয়ের বাইরে লাইনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন।’’

আগে শৌচালয়গুলি নোংরা থাকত। সংখ্যায়ও কম ছিল। ফলে সমস্যা হত। এখন কিন্তু আর তা নেই। প্রযুক্তির উন্নতির হাত ধরে বদলেছে গঙ্গাসাগর মেলার ছবিও। মেলায় এসে ভিড়ের কারণে অনেকেই হারিয়ে যেতেন। সেটাই ছিল এক চেনা ছবি। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা সেই হিসাবও বদলে দিয়েছে। গঙ্গাসাগর মেলায় হারিয়ে যাওয়া মানুষের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে প্রশাসন, সাহায্য করছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।

তা ছাড়া এখন যাঁরা এখানে আসেন তাঁদের অধিকাংশ মোবাইল ব্যবহার করেন। সে কারণে পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও নিজেরাই যোগাযোগ করে নিতে পারেন। এলাকার টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে প্রশাসন এখন আরও তৎপর। আরও আধুনিক সুযোগ সুবিধা এখানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ফলে আরও বেশি সংখ্যক মানুষ আসতে শুরু করে দিয়েছেন।

পরিবর্তন শুধু রাস্তাঘাট কিংবা যোগাযোগের মাধ্যমে ঘটেনি। বদলেছে কপিল মুনির মন্দির। পুজো দেওয়ার ধরনও। আগে বেশিরভাগ মানুষ নারকেল আর কলা দিয়ে পুজো দিতেন। কিন্তু এখন ডালার দোকান হয়েছে। দেদার বিক্রি হচ্ছে ডালা। তার জন্যে বানানো হয়েছে ডালা আর্কেড। মেলার সময় মন্দিরের চারপাশে বহু স্থানীয় মানুষ ফুলের দোকান দিতেন। এখন অবশ্য ইচ্ছে হলেই বাসিন্দারা যেখানে-সেখানে দোকান দিতে পারবেন না। সরকারের তরফ থেকে ডালা-আর্কেড ও স্থানীয় দোকানিদের জন্য পাকা ঘর বানিয়ে দিয়েছে।

Published by:Debamoy Ghosh
First published:

Tags: Gangasagar

পরবর্তী খবর