বৃষ্টি হলেই ডুবছে মালদহ শহর, পরিস্থিতি মোকাবিলায় উচ্ছেদ অভিযান প্রশাসনের

আগামী বর্ষার মরশুমে শহরের জলবন্দি হওয়ার সমস্যা অনেকটাই কমবে বলেও আশা প্রশাসনের।

আগামী বর্ষার মরশুমে শহরের জলবন্দি হওয়ার সমস্যা অনেকটাই কমবে বলেও আশা প্রশাসনের।

  • Share this:

    #মালদহ: মালদহ মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে উচ্ছেদ অভিযান প্রশাসনের। ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে ড্রেনের উপর জবরদখল করে চলা অস্থায়ী দোকানপাট সরানো হচ্ছে। দিনকয়েক আগে অতি ভারী বৃষ্টিতে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ সহ শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা জলবন্দি হয়। এর জেরেই তৎপরতা শুরু প্রশাসনের। হাইড্রেনের ওপর দোকানপাট গজিয়ে ওঠায় নর্দমা সাফাইয়ের কাজ ব্যাহত হচ্ছিল। মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রশাসন অভিযান শুরু করে। গোলমাল এড়াতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মালদহের মহকুমাশাসক তথা ইংরেজবাজার পুরসভার অ্যাডমিনিস্ট্রেটর সুরেশ চন্দ্র রানো।

    পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিজেরাই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাকি জবরদখল সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন। ইয়াসের জেরে মালদহে এক দিনে তিনশো মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত এর ঘটনা ঘটে। যা ছিল একদিনে সর্বাধিক বৃষ্টিপাতের কার্যত সর্বকালের রেকর্ড। বৃষ্টির জেরে প্রায় দু'দিন মালদা শহরের বিভিন্ন এলাকা জলবন্দি হয়ে থাকে। ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয় শহর জুড়ে। মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল জলমগ্ন হওয়ায় অপারেশন থিয়েটার সহ একাধিক ওয়ার্ডে বৃষ্টির জমা জল দাঁড়িয়ে যায়। ব্যহত হয় চিকিৎসা পরিষেবাও। সমস্যা খতিয়ে দেখতে গিয়ে দেখা যায় মালদহ মেডিকেল কলেজ চত্বরে অধিকাংশ হাইড্রেনের উপর অস্থায়ীভাবে দোকান করে চলছে রমরমা ব্যবসা। নিজেদের স্থায়ী দোকান ঘর থাকা সত্ত্বেও একশ্রেণীর ব্যবসায়ী হাইড্রেন লাগোয়া এলাকার ওপর অস্থায়ী ঘর তৈরি করে দেদার ব্যবসা করছেন।

    এরপরেই প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয়, হাইড্রেনের ওপর কোনো অবৈধ নির্মাণ থাকবে না। দিনকয়েক আগে মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন এলাকায় জবরদখল করে ব্যবসা করছেন এমন প্রায় ২৫ জন ব্যবসায়ীকে জবরদখল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয় প্রশাসন। যদিও এরপরেও অধিকাংশ ব্যবসায়ী জবরদখল সরাননি। শেষে মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয় প্রশাসনের অভিযান। পে- লোডার নিয়ে এলাকায় গিয়ে শুরু হয় জবরদখল উচ্ছেদ। কয়েকটি দোকান নিজে থেকেই ভেঙে সরিয়ে দেয় প্রশাসন। এরপর এলাকার বেশকিছু ব্যবসায়ী প্রশাসনকে জানান ২৪ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করা হলে তাঁরা নিজেরাই এলাকা খালি করে দেবেন। এরপর ব্যবসায়ীদের একাংশ নিজেরাই দোকানপাট সরানোর কাজ শুরু করেন। বিকেলের মধ্যে জবরদখলের অনেকটাই খালি হয়ে যায়।

    এতদিন জবরদখলের কারণে ওই এলাকায় হাইড্রেনের অস্তিত্বই চোখে দেখা যেত না। একইসঙ্গে কার্যত বন্ধ ছিল হাইড্রেন সাফাই অভিযান। প্রশাসন জানিয়েছে, জবরদখল মুক্ত হয়ে যাওয়ায় এবার এই এলাকায় নর্দমার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সাফাই সম্ভব  হবে। এরফলে মালদহ শহরের বৃষ্টিতে জমা জল সহজে শহরের বাইরে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। আগামী বর্ষার মরশুমে শহরের জলবন্দি হওয়ার সমস্যা অনেকটাই কমবে বলেও আশা প্রশাসনের।

    Sebak Deb Sharma

    Published by:Debalina Datta
    First published: