corona virus btn
corona virus btn
Loading

মন্ত্রীকে প্রণাম করছেন পুলিশ! সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল ভিডিও- ‘প্রণাম করবেন না’, সারা শহরে পোস্টার লাগালেন মন্ত্রী

মন্ত্রীকে প্রণাম করছেন পুলিশ! সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল ভিডিও- ‘প্রণাম করবেন না’, সারা শহরে পোস্টার লাগালেন মন্ত্রী

ব্যথিত করেছে মন্ত্রীকে।

  • Share this:

#রামপুরহাট: "অনুগ্রহ করে কেউ প্রণাম করবেন না’। রামপুরহাটে দলের শহর কার্যালয়ের দেওয়ালে এমনই পোস্টার সাঁটালেন কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। যা নিয়ে শহরজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উল্লেখ্য, সরকারি মঞ্চে উর্দি পরে মন্ত্রীর কাছে নতমস্তক হয়ে প্রণাম করতে যাওয়াকে নিয়ে বিতর্কে জড়ান রামপুরহাট থানার এক এএসআই। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই বিতর্ক শুরু হয়। যা ব্যথিত করেছে মন্ত্রীকে।

তাই এই সিদ্ধান্ত বলে তৃণমূল সূত্রের দাবি।আশিসবাবু বিধায়ক, মন্ত্রীর আগে তিনি একজন অধ্যাপক। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর ছাত্রছাত্রী রয়েছে। যাঁদের অনেকেই উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারী, চিকিৎসক ও ইঞ্জিনিয়ার। অবসরের পর এখনও নিয়ম করে তিনি রামপুরহাট কলেজে ক্লাস নিয়ে চলেছেন। ফলে, তাঁর ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা অনেক। মন্ত্রী হিসেবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দলীয় কর্মসূচি ও সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যেতে হয় তাঁকে। অনেকে অধ্যাপককে কাছে পেয়ে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন। মাসকয়েক আগে তিনি অসুস্থ হয়ে পিজি হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময়ও এক চিকিৎসক ছাত্র হিসেবে তাঁকে প্রতিনিয়ত দেখা করে শ্রদ্ধা জানিয়ে গিয়েছেন। এছাড়া নিয়মিত দলীয় কার্যালয়ে জনতার দরবার করেন মন্ত্রী। সেখানেও অনেকে তাঁকে প্রণাম করেন। ফলে, মন্ত্রীকে প্রণাম বা শ্রদ্ধা জানানো চেনা ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

এদিকে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রামপুরহাট থানার উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চে মন্ত্রীর কাছে নতমস্তক হয়ে প্রণাম করতে যান এএসআই রঞ্জন দত্ত। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই প্রশাসনিক মহলের পাশাপাশি বিতর্ক শুরু হয় রাজনৈতিক মহলেও। বিরোধী দলগুলি এই ভিডিওকে হাতিয়ার করে ‘দলদাস প্রশাসন’-এর অভিযোগ তুলতে শুরু করে। আবার পুলিসের অনেকে বলতে থাকেন, রুল অনুযায়ী সাংবিধানিক কোনও পদাধিকারীকে ডিউটিতে থাকাকালীন স্যালুট করা যেতে পারে। কিন্তু, প্রণাম করা তো সার্ভিস রুলের পরিপন্থী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।এদিকে ‘আমার প্রথম পরিচয় একজন শিক্ষক হিসেবে। নানা প্রান্তে আমার ছাত্রছাত্রী ছড়িয়ে রয়েছে। ওই পুলিস অফিসারও হয়তো আমরা ছাত্র। তবে, আমি তাঁকে প্রণত হতে বলিনি। সে আবেগবশত প্রণাম করতে চেয়েছিল। আমি তাকে হাত ধরে তুলে দিয়েছি’। মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক চলতে থাকে। যা অধ্যাপক হিসেবে ব্যথিত হন মন্ত্রী।অবশেষে এদিন রামপুরহাটের দলীয় কার্যালয়ে ‘অনুগ্রহ করে কেউ প্রণাম করবেন না’ বলে পোস্টার সাঁটান মন্ত্রী। আশিসবাবু বলেন, বেদনা থেকেই এই সিদ্ধান্ত।

ওইদিন পুলিসের পোশাক পরা এক ছাত্র আমাকে দেখে প্রণাম করতে উদ্যত হয়েছিল। এরপর যেভাবে বিষয়টি প্রচার করা হয়েছিল তাতে আমাকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। তেমনি অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়েছে ওই পুলিস অফিসারকে।তিনি বলেন, আমি চিরকালই ছাত্রদের অন্তর দিয়ে ভালোবাসি। ছাত্ররাও আমাকে ভালোবাসে। সেই ভালোবাসা থেকেই অনেকে আবেগে প্রণাম করতে চান। তবে, এই ঘটনার পর বিধানসভা কক্ষে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষক ব্রজমোহন মজুমদার বেদনার সঙ্গে আমাকে জানিয়েছিলেন, আশিসবাবু আর প্রণাম নেবেন না। তাই প্রণাম করা নিয়ে যখন এত জলঘোলা হচ্ছে, তখন কেউ প্রণাম করবেন না বলে পোস্টার সাঁটাতে বাধ্য হলাম।

Supratim Das

Published by: Debalina Datta
First published: March 7, 2020, 2:42 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर