বিজেপি যোগের প্রমাণ নেই, ভাবাচ্ছে জেলার ফল, দিব্যেন্দুকে নিয়ে ধীরে চলো নীতি তৃণমূলের

দিব্যেন্দু অধিকারী৷

দিব্যেন্দু এখনও প্রকাশ্যে দলবিরোধী মন্তব্য বা কাজ না করলেও প্রকাশ্যেই আর এক ছেলে শুভেন্দুর সমর্থনে সরব হয়েছিলেন শিশির অধিকারী৷

  • Share this:

#কাঁথি: মনে করা হয়েছিল ভোটের ফল প্রকাশ হতেই হয়তো দিব্যেন্দু অধিকারীর উপর খাঁড়া নেমে আসবে দলের তরফে৷ কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতির কারণেই দিব্যেন্দুকে নিয়ে কিছু ধীরে চলো নীতি নিয়েছে দল৷ তৃণমূলের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা নেতৃত্ব সূত্রেও খবর সেরকমই৷

পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এমনিতে ১৬টির মধ্যে ৯টি আসনে জিতেছে তৃণমূল৷ কিন্তু ৯টি আসন জিতলেও জেলার ফলে একগুচ্ছ চিন্তার কারণ উঠে এসেছে তৃণমূলের জন্য৷ প্রথমত নন্দীগ্রামে অল্প ব্যবধানে হলেও শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হার স্বীকার করতে হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ আবার হলদি নদীর অপর প্রান্তে হলদিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনেও হারতে হয়েছে তৃণমূলকে৷ শুধু তাই নয়, তৃণমূল যে আসনগুলিতে জিতেছে সেখানে ব্যবধান খুব বেশি নয়৷ কাঁথি উত্তর, কাঁথি দক্ষিণেও হেরেছে দল৷ অথচ এই দুই কেন্দ্রেই সভা করে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এই পরিস্থিতিতে গোটা রাজ্যে দলের ফল ভাল হলেও পূর্ব মেদিনীপুরের ফলাফল নিয়ে কাঁটাছেঁড়া শুরু হয়েছে শাসক দলের অন্দরে৷

দলীয় সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই পূর্ব মেদিনীপুরে দল বিরোধী কাজের জন্য বেশ কয়েকজন নেতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে৷ কিন্তু দিব্যেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে দল বিরোধী কাজের প্রমাণ এখনও পায়নি দল৷ খোদ দলের জেলা সভাপতি সৌমেন মহাপাত্রও সেকথা স্বীকার করেছেন৷ জেলা নেতৃত্বের তরফে রাজ্য নেতৃত্বকে যে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে, সেখানেও বলা হয়েছে যে ভোটের সময় দিব্যেন্দু অধিকারী দলের হয়ে কাজ করেননি৷ কিন্তু তমলুকের সাংসদ বিজেপি-র সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন, বা দলবিরোধী কাজ করেছেন, এমন প্রমাণ মেলেনি বলেও একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে৷

ফলে দিব্যেন্দুর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করলে বিজেপি-র হাতই আরও শক্ত হবে, এমন আশঙ্কারও কাজ করছে শাসক দলের অন্দরে৷ কারণ, আগামী বছরই হলদিয়ায় পুরভোট হওয়ার কথা৷ অথচ সেই হলদিয়া পুরসভার সব আসন দখলে থাকা সত্ত্বেও সেখানে হারতে হয়েছে তৃণমূলকে৷ হারের জন্য দলেরই নেতা দেবপ্রসাদ মণ্ডলের বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাতের অভিযোগ করেছেন দলীয় প্রার্থী স্বপন নস্কর৷ তার উপর ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত ভোটও রয়েছে৷ এখনও হাতে সময় থাকলেও বিধানসভা নির্বাচনে জেলায় বিজেপি-র তুলনামূলক ভাল ফলের পর এখন থেকেই সতর্ক হতে চাইছে শাসক দল৷ যাতে কোনও ভাবেই জেলায় বিজেপি-র শক্তি আর না বাড়ে৷ তার পরে লোকসভা নির্বাচন৷ ফলে তড়িঘড়ি এখনই দিব্যেন্দুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা শাসক দল চাইলেও নিতে পারবে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে৷ বরং খাতায় কলমে হলেও তিনি তৃণমূলের সাংসদ থাকলে অধিকারী পরিবারের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি বাড়ানো যাবে৷

দিব্যেন্দু এখনও প্রকাশ্যে দলবিরোধী মন্তব্য বা কাজ না করলেও প্রকাশ্যেই আর এক ছেলে শুভেন্দুর সমর্থনে সরব হয়েছিলেন শিশির অধিকারী৷ এমন কি, ভোটের প্রচারে অমিত শাহের সভাতেও যান তিনি৷ ফলে দিব্যেন্দুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে তার আগে কাঁথির সাংসদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে শাসক দলকে৷ সবমিলিয়ে তাই দিব্যেন্দু- শিশিরকে নিয়ে এখন ধীরে চলো নীতিই নিচ্ছে শাসক দল৷

Sujit Bhowmik

Published by:Debamoy Ghosh
First published: