আমন্ত্রণপত্র এল 'শান্তিকুঞ্জে', অধিকারীদের শেষ তৃণমূলী সদস্যও এবার পদ্ম-পথে?

আমন্ত্রণপত্র এল 'শান্তিকুঞ্জে', অধিকারীদের শেষ তৃণমূলী সদস্যও এবার পদ্ম-পথে?

শান্তিকুঞ্জে গেরুয়া আমন্ত্রণ

দিব্যেন্দুও বিজেপিতে যাবেন বলে নিশ্চিত তৃণমূল। আর সেই সম্ভাবনা আরও উসকে ২৪ মার্চ, কাঁথিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভায় যোগ দিতে দিব্যেন্দুকে আমন্ত্রণ পত্র পাঠিয়েছে বিজেপি।

  • Share this:

    #পূর্ব মেদিনীপুর: 'একে একে নিভিছে দেউটি', পূর্ব মেদিনীপুরের অধিকারীদের নিয়ে এমন তৃণমূল বলতেই পারে। প্রথমে শুভেন্দু অধিকারী, তারপর সৌমেন্দু অধিকারী, তারপর গতকাল, রবিবার শিশির অধিকারী-- অধিকারী পরিবারের প্রায় সব সদস্যেই তৃণমূল ছেড়ে নাম লিখিয়েছেন বিজেপির খাতায়। শুভেন্দু আবার নন্দীগ্রাম আসন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বী। 'শান্তিকুঞ্জে' এখন কেবল তৃণমূলী বলতে দিব্যেন্দু অধিকারী। যদিও তা খাতায়-কলমে। কারণে দিব্যেন্দুও বিজেপিতে যাবেন বলে নিশ্চিত তৃণমূল। আর সেই সম্ভাবনা আরও উসকে ২৪ মার্চ, কাঁথিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভায় যোগ দিতে দিব্যেন্দুকে আমন্ত্রণ পত্র পাঠিয়েছে বিজেপি। সূত্রের খবর, সেই আমন্ত্রণ গ্রহণও করেছেন তৃণমূল সাংসদ।

    অধিকারী পরিবার সূত্রে খবর, বাবা শিশির অধিকারী অমিত শাহের এগরার সভায় যোগ দিলেও দিব্যেন্দুর ইচ্ছে ছিল মোদির সভাতে শিবির বদলানোর। বিজেপি তাঁর সেই ইচ্ছের দাম দিচ্ছে। নরেন্দ্র মোদির সভাতেই ঘাসফুল ছেড়ে পদ্মফুল ধরবেন দিব্যেন্দু। যদিও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে নিজে মুখ খোলেননি দিব্যেন্দু। তবে, তিনি যে দল বদল করছেনই, তা একপ্রকার নিশ্চিত বলেই দাবি তৃণমূল, বিজেপি উভয় শিবিরেরই।

    প্রসঙ্গত, তৃণমূল ছাড়া ইস্তক শুভেন্দুর নাম একটি বারের জন্যও মুখে আনেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বাকি তৃণমূল নেতারা যখন শুভেন্দু, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়দের 'গদ্দার-মীরজাফর'-এর মতো শব্দে আক্রমণ শানাচ্ছিলেন, মমতা এতদিন এ বিষয়ে চুপই ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি নিজের সেই ধরন ভেঙে ফেলেছেন মমতা। নাম না করেই আক্রমণ শানিয়ে মমতা বলেছেন, 'যদি কোনও গদ্দার মনে করে, তারা জেনে রাখুক, আমি এক ইঞ্চি জমি ছাড়ব না। অনেক অন্ধ ভালোবাসা দিয়েছি। তারাই আজ গদ্দারি করেছে।'

    যদিও পালটা শিশির অধিকারী বিজেপিতে গিয়েই বলেছেন, 'বাংলাকে তৃণমূলের হাত থেকে বাঁচাতে হবে। মোদিজির হাত শক্ত করতে হবে।' অর্থাৎ, গোটা অধিকারী পরিবারের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক বেড়ে গিয়েছে কয়েক যোজন। প্রসঙ্গত, গত ১৯ ডিসেম্বর শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগদানের পর থেকেই অধিকারী পরিবারের সঙ্গে তৃণমূলের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদপর্ব শুরু হয়। এর পর শুভেন্দুর ছোট ভাই সৌমেন্দুকে কাঁথি পুরসভার প্রশাসক পদ থেকে সরিয়ে দেয় সরকার। তার পর থেকে একে একে সরকারি পদ থেকে সরানো হতে থাকে শিশির ও দিব্যেন্দুকেও। মাঝে হলদিয়ায় মোদির সরকারি অনুষ্ঠানেও গিয়েছিলেন দিব্যেন্দু। সেই সময় থেকেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল দিব্যেন্দুর অবস্থান। এবার ২৪ তারিখ আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটুকুই যা বাকি।

    Published by:Suman Biswas
    First published: