আগামী নির্বাচনে তৃণমূল বিধায়কের 'নির্দল' প্রার্থীদের সমর্থনের আজব ফর্মুলা! তদন্তে দল

তবে তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছেন উজ্জ্বলবাবু। বিধায়কের বিস্ফোরক মন্তব্য যে দল সমর্থন করে না তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন দলের জেলা সভাপতি তথা আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তেওয়ারি।

তবে তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছেন উজ্জ্বলবাবু। বিধায়কের বিস্ফোরক মন্তব্য যে দল সমর্থন করে না তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন দলের জেলা সভাপতি তথা আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তেওয়ারি।

  • Share this:

#আসানসোল:  তিনি নিজে শাসক দলের বিধায়ক। অথচ দলীয় এক কর্মীসভায় নিজের দলের মনোনীত প্রার্থীদের আগামী আসানসোল পুর নিগম নির্বাচনে পরাজিত করার হুমকি দিলেন খোদ সেই বিধায়ক। শনিবার আসানসোলের কুলটিতে দলীয় একটি কর্মীসভায় তৃণমূল বিধায়ক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।বিধায়ক প্রকাশ্য কর্মীসভায় ঠিক কী বলেছেন সেই সংক্রান্ত ক্লিপিংস খতিয়ে দেখবেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব ।

কুলটি পুরসভার দীর্ঘদিনের বিদায়ী চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের বিগত দিনে নিজের এলাকায় এতটাই দাপট ছিল যে,  একসময় রাজনীতির শেষ কথা বলতেন তিনিই। কোন দল নয়, ব্যক্তি কারিশমাই ছিল তাঁর মূল চাবিকাঠি। বামপন্থী হিসেবে নিজের রাজনৈতিক জীবন শুরু করলেও একাধিকবার কুলটি পুরসভার মসনদ টিকিয়ে রাখতে তিনি একাধিকবার হাওয়া বুঝে দলবদল করেছেন । একসময় বাম নেতৃত্বের সঙ্গে বিরোধ চরমে ওঠে। হঠাৎ করে কখনও ফরওয়ার্ড ব্লক। কখনও সেই দল ছেড়ে আরএসপি , কখনও বা ফের ফরওয়ার্ড ব্লক। দলবদলের বর্ণময় এই রাজনীতিবিদ কখনও বা সবাইকে চমকে দিয়ে নির্দল হিসেবে নির্বাচনে লড়াই করে কুলটি পুরসভার মসনদ দখল করে নিজের রাজনৈতিক জমি কব্জায় রেখেছেন।

ক্ষমতার শীর্ষে থাকতে বাম আমলে বামপন্থী অনেক তাবড় তাবড় নেতাকেও রাজনীতিতে ঘোল খাইয়ে ছেড়ে দিয়েছেন। কুলটিতে একসময় তিনিই একটি দল হয়ে ওঠেন। যেখানে কোনও লাল, নীল, গেরুয়া ,সবুজ রঙের দল নয়, ব্যক্তি উজ্জ্বলই বারবার ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সফলও হয়েছেন। তবে বর্তমানে সময় বদলেছে। আসানসোল পুরনিগমের আওতায় এসেছে কুলটি পুরসভাও। একসময়ের কুলটির রবিনহুড হিসেবে পরিচিত উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের হাতছাড়া হয় কুলটি পুরসভা। খোয়াতে হয় চেয়ারম্যানের পদও। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সম্প্রসারিত আসানসোল পুর নিগমের মেয়র নির্বাচিত হন জিতেন্দ্র তেওয়ারি। আর পাঁচজন পুর প্রতিনিধির মত তাঁকেও স্রেফ দলের একজন কাউন্সিলর হয়েই বর্তমানে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ঘনিষ্ঠ মহলে উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় নিজের ক্ষোভের কথাও গোপন রাখেননি। একসময়ের কুলটি পুরসভার সাম্রাজ্য হারালেও সরকারিভাবে আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত করা হলেও সেখানেও খুব একটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারার কথাও শোনা গেছে খোদ শাসকদলের এই বিধায়কের মুখে। এমনকী এ প্রসঙ্গে নিজের দফতরের অনুগামীদের নিয়ে অবস্থানেও বসতে সম্প্রতি দেখা গিয়েছে উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়কে। তৃণমূল পরিবার ধীরে ধীরে বিরোধী থেকে শাসক দলের  ক্ষমতার কেন্দ্রে এই সময়ে থাকলেও একসময়ের তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসময়ের সঙ্গী উজ্জ্বলবাবু। তবে রাজনীতির ময়দানে চরম দলীয় কোন্দলে বর্তমানে বেশ খানিকটা কোণঠাসা কুলটির শাসকদলের এই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

উজ্জ্বলবাবুকে অনেকবারই দেখা গিয়েছে প্রকাশ্যে দলের বর্তমান প্রথম সারির বেশকিছু নেতাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে। ঘনিষ্ঠমহলে কান পাতলে এও শোনা যায় , সময় সুযোগ পেলে সবাইকে এর জবাব দেবেন। তবে শনিবার যেভাবে তিনি দলের যে সমস্ত নেতা কাউন্সিলরদের কড়া বার্তা দিয়ে প্রকাশ্য কর্মীসভায় হুমকি দিয়ে বললেন , যাঁরা তাঁর বিরোধিতা করছেন, দলীয় অনুশাসন মানছেন না,  আগামী নির্বাচনে সেই সমস্ত দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে নির্দল প্রার্থী দাঁড় করিয়ে সেই সমস্ত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীদের পরাজিত করে দেবেন। বক্তব্যে তাঁর সংযোজন, অতীতেও এই ধরনের ফর্মুলার নজির রয়েছে। শাসক দলের বিধায়কের  আজব ফর্মুলায় শহরের রাজনীতির পারদ টগবগ করে ফুটতে শুরু করেছে। কুলটির ২৭ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১৬ জন কাউন্সিলরই  এদিনের  বৈঠকে দলীয় নির্দেশের পরও  হাজির হননি বলে  যে দাবি করেছেন উজ্জ্বলবাবু  তার পাল্টা হিসেবে এই সভায় যারা হাজির হননি সেই মেয়র জিতেন্দ্র তেওয়ারির অনুগামী হিসেবে পরিচিত কাউন্সিলরদের একাংশের  কথায়, 'উনি আগে দলকে যেভাবে ব্যক্তিগত হিসেবে পরিচালনা করতেন এখনও একইভাবে তা করে চলেছেন। আমরা কুলটিতে দলের কোনও বৈঠকেরই  খবর পাইনা। স্রেফ কয়েকজন অনুগামী কে নিয়েই কুলটিতে উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় দল চালাচ্ছেন'।

তবে তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছেন উজ্জ্বলবাবু। বিধায়কের বিস্ফোরক মন্তব্য যে দল সমর্থন করে না তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন দলের জেলা সভাপতি তথা আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তেওয়ারি। নিউজ এইট্টিন বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেয়র বলেন, 'আমাদের মধ্যে কোনও  দ্বন্দ্ব নেই। উজ্জ্বলবাবু ঠিক কী  বলেছেন তা আজ খতিয়ে দেখবে দল। উনি আমাদের দলের প্রবীণ নেতা। আগামী দিনে যেন এই ধরণের মন্তব্য থেকে তিনি বিরত থাকেন সে ব্যাপারে তাঁর  বক্তব্যের ক্লিপিংস শোনার পর বিধায়ককে প্রয়োজনে সতর্ক করা হবে'। শেষ পর্যন্ত দলীয় বিধায়কের বিরুদ্ধে দলবিরোধী বিস্ফোরক মন্তব্যের কারণে যে দল বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।তবে দল বিরোধী মন্তব্যের জেরে  শাসকদলের কুলটির বিধায়কের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত আদৌ কোনও ব্যবস্থা দলের তরফে নেওয়া হয় কিনা তার উত্তর দেবে সময়ই।

Published by:Pooja Basu
First published: