রাজনৈতিক চাপেই অসুস্থ হন সৌরভ! বর্ধমানে কী বললেন ব্রাত্য বসু?

রাজনৈতিক চাপেই অসুস্থ হন সৌরভ! বর্ধমানে কী বললেন ব্রাত্য বসু?

বুধবার পূর্ব বর্ধমানের কুড়মুনের মাঠে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী জনসভা ছিল। ওই সভায় মন্ত্রী ব্রাত্য বসু উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার পূর্ব বর্ধমানের কুড়মুনের মাঠে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী জনসভা ছিল। ওই সভায় মন্ত্রী ব্রাত্য বসু উপস্থিত ছিলেন।

  • Share this:

Saradindu Ghosh

#বর্ধমান: সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে চাপ দেওয়া হয়েছিল কিনা তা এক বাম নেতাদের কথাতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। ওই বাম নেতা সৌরভকে দেখে নার্সিংহোমে থেকে বেরিয়ে এ ব্যাপারে যা বলার বলেছেন। তিনি নিশ্চয় সৌরভের অনুমতি নিয়েই সে সব কথা বলেছেন। সৌরভের খুব ঘনিষ্ঠ ওই বাম নেতা। বিজেপি নেতা অরবিন্দ মেননের বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য করলেন রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু।

বুধবার পূর্ব বর্ধমানের কুড়মুনের মাঠে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী জনসভা ছিল। ওই সভায় মন্ত্রী ব্রাত্য বসু উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এই মন্তব্য করেন মন্ত্রী ব্রাত্য বসু। সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে ব্রাত্য বসু কাছে বলা হয়, বিজেপি নেতা অরবিন্দ মেনন বলেছেন, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে কোনও রকম চাপ দেওয়া হয়নি। সৌরভ হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পরই তাঁর অসুস্থতার কারণ হিসেবে সম্ভাব্য নানা বিষয় উঠে এসেছিল। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক চাপ তাঁর অসুস্থতার অন্যতম কারণ কিনা তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে বিশ্লেষণ হয়েছে। এ ব্যাপারে সাংবাদিকরা মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর প্রতিক্রিয়া জানতে চান। তখনই ব্রাত্য বসু বাম নেতা প্রসঙ্গ টেনে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

মঙ্গলবার বর্ধমানের কুড়মুনে নির্বাচনী জনসভা করেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তার পরদিনই সেই এলাকায় জনসভা করল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও তারা এই সভাকে প্রকাশ্যে বিজেপির পাল্টা সভা হিসেবে আখ্যা দিতে নারাজ। পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্তের বক্তব্য, এই সভার স্থান-কাল দিনক্ষণ অনেক আগেই স্থির হয়ে ছিল। তাই বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সভা করলেন বলে তৃণমূল কংগ্রেস পাল্টা সভা করল এমনটা মনে করার কোনও কারণ নেই।

সভায় মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহিলাদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাড়ি থেকে বের হতে পারবেন না। বিজেপি নারী বিরোধী দল। গত দশ বছরে রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচেষ্টায় এ রাজ্যের মহিলারা ক্ষমতা পেয়েছেন। বিজেপি দলিত বিরোধী, সংখ্যালঘু বিরোধী, নারী বিরোধী, হিন্দু বিরোধী। মোট ৬৪টি প্রকল্প রাজ্যে আছে। দশ কোটি মানুষ কোনও না কোনও প্রকল্পের সুবিধা পান। বিজেপি বাঙালি বিরোধী।

তিনি বলেন, আমাদের কিছু লোকজন চলে যাচ্ছে। ওঁরা বলেছিল ডিসেম্বর মাসের মধ্যে একশো জন যাবে। আমি গুণে গুণে দেখলাম পাঁচ জন গিয়েছে। আর নয় দু'একজন যাবে। তাঁরা ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে দল ছেড়েছে বলে মত ব্যক্ত করেন মন্ত্রী ব্রাত্য বসু।

গতকাল এই মাঠেই বিজেপির সভা হয়। ওই সভায় রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন আরও তিনজন সাংসদ। দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, মমতার সরকার কৃষক বিরোধী। রাজ্যের কৃষকরা সঠিক ধানের দাম পায় না। কেন্দ্র দেয়। দিদিমনির ভাইয়েরা কাটমানি খেয়ে নেয়। এ দিনের পাল্টা সভায় রাজ্যের মন্ত্রী তথা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি স্বপন দেবনাথ বলেন, ওঁরা মিথ্যা কথা বলছে।শুধুমাত্র পূর্ব বর্ধমানেই পাঁচ লক্ষের বেশী কৃষক, কৃষক বন্ধু পেয়েছেন।বাংলার কৃষক ফসলের ক্ষতি পূরণ পান।এ দিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া সহ জেলা নেতৃত্ব।

Published by:Simli Raha
First published: