পূর্ব মেদিনীপুরে প্রাক্তন বিধায়ক সহ ২ নেতাকে বহিষ্কার তৃণমূলের, এবার নিশানায় দিব্যেন্দু?

দিব্যেন্দু অধিকারী৷

রঞ্জিত মণ্ডল খেজুরিরই বিধায়ক ছিলেন৷ শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ এই নেতাকে অবশ্য এ বার প্রার্থী করেনি দল৷

  • Share this:

#কাঁথি: নন্দীগ্রামে সম্মানের লড়াইতে হারতে হয়েছে৷ কিন্তু একই সঙ্গে হাতছাড়া হয়েছে নন্দীগ্রাম লাগোয়া গুরুত্বপূর্ণ আসন খেজুরি৷ অথচ খেজুরি ছিল তৃণমূলের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি৷ এই হারের অন্তর্তদন্তে নেমে দলেরই প্রাক্তন বিধায়ক রঞ্জিত মণ্ডলকে বহিষ্কার করল তৃণমূল কংগ্রেস৷ একই সঙ্গে বহিষ্কার করা হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের কর্মাধক্ষ আনন্দ অধিকারীকেও৷ দু' জনের বিরুদ্ধেই বিজেপি হয়ে কাজ করার অভিযোগ এনেছে শাসক দল৷ জেলা তৃণমূল সূত্রে খবর, দল বিরোধী কাজের জন্য খুব শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে তমলুকের সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধেও৷

রঞ্জিত মণ্ডল খেজুরিরই বিধায়ক ছিলেন৷ শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ এই নেতাকে অবশ্য এ বার প্রার্থী করেনি দল৷ বদলে টিকিট দেওয়া হয় তাঁর বিরোধী গোষ্ঠীর নেতা পার্থপ্রতীম দাসকে৷ শেষ পর্যন্ত অবশ্য কুড়ি হাজারেরও বেশি আসনে খেজুরিতে হেরে যায় তৃণমূল৷ একই ভাবে হলদিয়া কেন্দ্রেও হারে তৃণমূল৷ হলদিয়ায় হারের অন্যতম কারণ হিসেবে জেলা পরিষদের মৎস বিভাগের কর্মাধক্ষ আনন্দ অধিকারীর নাম উঠে আসে৷ আনন্দবাবু নিজে হলদিয়ার বাসিন্দা৷ অভিযোগ, তিনিও দলে থেকে আসলে তলায় তলায় বিজেপি-কে সাহায্য করেছেন৷

জেলা তৃণমূল সভাপতি সৌমেন মহাপাত্র বলেন, নির্বাচনের আগে রঞ্জিতবাবু নিজের অবস্থান কোনওভাবে স্পষ্ট করেননি৷ কিন্তু ভোটের সময়ও দেখা গিয়েছে আর এখন ভোট মেটার পরেও দেখা যাচ্ছে খেজুরিতে তৃণমূলের উপরে যত হামলার ঘটনা ঘটছে তার নায়ক রঞ্জিত মণ্ডল নিজে৷' আনন্দ অধিকারীকে কর্মাধক্ষের পদ থেকে সরিয়ে দিতে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সৌমেনবাবু৷

তবে দিব্যেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে স্পষ্ট ভাবে কোনও মন্তব্য করেননি জেলা তৃণমূল সভাপতি৷ তিনি বলেন, 'দিব্যেন্দু বাবু দলের হয়ে কাজ করেননি সবাই দেখেছেন৷ কিন্তু তিনি দলের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন, এরকম প্রমাণও নেই৷ এবার বাকিটা যা বিবেচনা করার রাজ্য নেতৃত্ব করবে৷'

পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টির মধ্যে ৯টি আসনে জিতেছে তৃণমূল৷ কিন্তু নন্দীগ্রাম সহ খেজুরি, হলদিয়া, ভগবানপুর, কাঁথি উত্তর, কাঁথি দক্ষিণ, ময়নায় জিতে গিয়েছে বিজেপি৷ দলের জেলা নেতৃত্বের অভিযোগ, তৃণমূলের একাংশই বিজেপি-র হয়ে কাজ করেছে বলে এই আসনগুলিতে হারতে হয়েছে শাসক দলকে৷ ফল প্রকাশের পরই তাই হারের কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করে দলের জেলা নেতৃত্ব৷ আর তাতেই কোপের মুখে পড়লেন দুই নেতা৷

Sujit Bhowmik
Published by:Debamoy Ghosh
First published: