Haroa Firing: শহিদ দিবসেই তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, হাড়োয়ায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত ২, আহত ১২

অ্যাম্বুল্যান্সে তোলা হচ্ছে এক আহতকে৷

গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় লক্ষ্মীরানি মণ্ডল নামে ওই বৃদ্ধার৷ পরে হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে মারা যান তৃণমূল কর্মী সন্ন্যাসী সর্দার (Haroa Firing)৷

  • Share this:

#কলকাতা: একুশে জুলাই হয়েছে ভার্চুয়ালি৷ তা সত্ত্বেও শহিদ দিবসকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে দু' জনের প্রাণ গেল উত্তর চব্বিশ পরগণার হাড়োয়ায়৷ আহত হয়েছেন আরও বারো জন৷ মৃতদের মধ্য রয়েছেন সন্ন্যাসী সর্দার (৩৮) নামে এক তৃণমূল কর্মী এবং লক্ষ্মীরানি মণ্ডল নামে এক বৃদ্ধা (৬২)৷

অভিযোগ, এ দিন একুশে জুলাইয়ের উদযাপনের জন্য হাড়োয়ার মোহনপুরের পঞ্চায়েত অফিসের পাশে শতাধিক তৃণমূল কর্মী জড়ো হয়েছিলেন৷ কিন্তু একুশে জুলাই উদযাপন নিয়ে সকাল থেকেই মোহনপুর এলাকায় তৃণমূলের বিভিন্ন গোষ্ঠী আলাদা আলাদা আয়োজন করতে থাকে৷ যা নিয়ে শুরু হয় বচসা৷ বিকেল তিনটে নাগাদ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে এক গোষ্ঠীর লোকজন বাড়ি ফেরার সময় ট্যাংরামারি এলাকায় তৃণমূলের অন্য গোষ্ঠীর লোকজন তাঁদের উপরে হামলা চালায় ববে অভিযোগ৷

তপন রায় নামে স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার অভিযোগ, ভাস্কর দাস নামে তৃণমূলেরই এক স্থানীয় বুথ সভাপতির বাড়ির ভিতর থেকে দলের অন্য গোষ্ঠীর কর্মীদের উপরে হামলা চালানো হয়৷ এই ভাস্কর দাস মোহনপুর অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি যোগেশ্বর প্রামাণিকের অনুগামী বলে দাবি ওই তৃণমূল নেতার৷ গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় লক্ষ্মীরানি মণ্ডল নামে এক বৃদ্ধার৷ ঘটনার সময় তিনি ওই এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিলেন৷ আচমকাই ওই বৃদ্ধার মাথায় গুলি এসে লাগে বলে অভিযোগ৷ পরে হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে মারা যান তৃণমূল কর্মী সন্ন্যাসী সর্দার৷ এর পাশাপাশি আরও দশ থেকে বারোজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তপনবাবু৷  আহতদের মধ্যেও কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে খবর৷ গুরুতর আহত অবস্থায় পাঁচ জনকে কলকাতার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে৷ অভিযোগ, প্রায় বারো থেকে চোদ্দ রাউন্ড গুলি চলেছে৷

এই ঘটনার পরই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে৷ এলাকায় পৌঁছয় হাড়োয়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী৷ নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশ পিকেটও বসানো হয়েছে৷ তবে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা এখনও জানা যায়নি৷

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মোহনপুর অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি যোগেশ্বর প্রামাণিক ও মোহনপুর অঞ্চলের অঞ্চল কমিটির সদস্য তপন রায়ের অনুগামীদের মধ্যে মাঝেমধ্যেই গন্ডগোল লেগে থাকে। গত কয়েকদিন ধরে মেছো ভেড়ি দখলকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বোমা-গুলি ছড়াছড়ি হয়েছে৷ এই ঘটনাও তারই জেরে ঘটেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের৷ মোহনপুর পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমুল নেতা তপন রায় দাবি করেন, দলের লোকের হাতেই তাঁরা আজ আক্রান্ত হয়েছেন। দলের উচ্চ স্তরে বিষয়টি তিনি জানাবেন।এলাকাটি হাড়োয়া থানা এলাকার মধ্যে হলেও মিনাখাঁ বিধানসভার অন্তর্ভুক্ত।

Rajorshi Roy/Jiaul Alam

Published by:Debamoy Ghosh
First published: