corona virus btn
corona virus btn
Loading

পাকাপাকিভাবে বন্ধ হতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের মিষ্টি হাব

পাকাপাকিভাবে বন্ধ হতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের মিষ্টি হাব

২০১৭ সালের ৭ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিষ্টি হাবের উদ্বোধন করেন।

  • Share this:

#বর্ধমান: তিন বছরে চেষ্টা হয়েছে অনেক। কিন্তু ক্রেতাদের মন পাওয়া যায়নি। বার বার তাই বন্ধ হয়েছে। উদ্যোগ নিয়ে আবার খুলেছে প্রশাসন। কিন্তু তাতে আশার আলো দেখা দেয়নি। এবার তাই পাকাপাকিভাবে বন্ধ হতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রীর সাধের মিষ্টি হাব। ভুল পরিকল্পনার জন্যই বর্ধমানের এই মিষ্টি হাব ক্রেতাদের টানতে পারেনি বলে মনে করছেন মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা।

এ রাজ্যের মিষ্টিতে বৈচিত্র্যের সমাহার। বিভিন্ন জেলা বিখ্যাত উৎকৃষ্ট সব মিষ্টির কারণে। সব মিষ্টিকে এক ছাতার তলায় এনে তা ক্রেতাদের সামনে উপস্থাপিত করার লক্ষ্যেই বর্ধমানে মিষ্টি হাব গড়তে চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সেই ইচ্ছে পূরণে তড়িঘড়ি কাজ শুরু হয়। বর্ধমানের বাম চাঁদাইপুরে দু নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে বেশ কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে করে তৈরি হয় মিষ্টি হাব। বর্ধমানের সীতাভোগ মিহিদানা থেকে শুরু করে শক্তিগড়ের ল্যাংচা, কৃষ্ণনগরের সরপুরিয়া, নবদ্বীপের দই, জয়নগরের মোয়া, কলকাতার রসগোল্লা- সবেরই স্টল বসে।

২০১৭ সালের ৭ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিষ্টি হাবের উদ্বোধন করেন। কিন্তু কোনওদিনই সেই মিষ্টি হাব ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেনি। যার জেরে মিষ্টি হাবের ২৫টি দোকানের সব কটিই এখন তালাবন্ধ। প্রশাসনের ভুল পরিকল্পনার জন্যই মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের এই প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে মনে করছেন মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা।

কেন ব্যর্থ মিষ্টি হাব? ব্যবসায়ীরা বলছেন, শহরের বাইরে জন বসতিহীন এলাকায় তৈরি করা হয় এই হাব। তাই স্হানীয় বাসিন্দারা নন, শুধু মাত্র জাতীয় সড়ক ব্যবহারকারীরাই একমাত্র ক্রেতা। মিষ্টি হাবের আশপাশে বাস বা গাড়ি দাঁড় করানোর কোনও জায়গা ছিল না। কলকাতা থেকে দুর্গাপুর যাওয়ার পথে মিষ্টি হাবের এক কিলোমিটার আগেই শক্তিগড়ের ল্যাংচার সারি সারি দোকান। সেখানে চা জলখাবার সবই মেলে। তাই সাজানো গোছানো সেই বাজারেই গাড়ি দাঁড় করান অনেকেই। এরপর আর মিষ্টি হাবে দাঁড়ানোর প্রয়োজন অনুভব করেন না অনেকেই।

তাঁরা বলছেন, মিষ্টি হাব হয়েছে কলকাতা থেকে দুর্গাপুর যাওয়ার দিকে। কিন্তু তা উলটো দিকে অর্থাৎ কলকাতা যাওয়ার পথে হলে বিক্রি বেশি হতো। কারণ, অনেকে কলকাতায় বাড়ি ফেরার পথে মিষ্টি কিনতেন। বর্ধমানের বাসিন্দারাও কলকাতার দিকে যাওয়ার পথে আত্মীয় পরিজনদের জন্য মিষ্টি কিনতে পারতেন। কিন্তু তা উলটো লেনে হওয়ায় তা কেনার সুযোগ মেলেনি। আবার বর্ধমানের বাসিন্দারা সীতাভোগ মিহিদানা ল্যাংচা কিনতে দূরের মিষ্টি হাবে যাওয়ার তাগিদ অনুভব করেননি কোনও দিনই।

শুধু মিষ্টি বিক্রি নয়, মিষ্টি হাবে উন্নত পদ্ধতিতে মিষ্টি তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া, মিষ্টির গুণগত মান যাচাই, প্যাকেজিংয়ের গবেষণাগার হওয়ারও পরিকল্পনা ছিল। সেসব এখন বিশ বাঁও জলে। ব্যবসায়ীরা বলেন, শুধু অর্থ নয়, বহু সময়ও নষ্ট হল।জেলা প্রশাসন এখন এই মিষ্টি হাব শক্তিগড়ের ল্যাংচা দোকানগুলির মাঝে নিয়ে যেতে চাইছে। ল্যাংচা হাবের মাঝে মিষ্টি হাব থাকলে বিক্রিবাটা বাড়তে পারে বলে আশা প্রশাসনের।

Saradindu Ghosh

Published by: Ananya Chakraborty
First published: June 30, 2020, 5:19 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर