Home /News /south-bengal /
Weird News: শরৎচন্দ্র, শেক্সপিয়র থেকে পাগলা দাশু, দামি জিনিসপত্র ছেড়ে সাহিত্যপ্রেমী চোর নিয়ে পালাল বই

Weird News: শরৎচন্দ্র, শেক্সপিয়র থেকে পাগলা দাশু, দামি জিনিসপত্র ছেড়ে সাহিত্যপ্রেমী চোর নিয়ে পালাল বই

নিজস্ব চিত্র

নিজস্ব চিত্র

Weird News: অথচ চলতি সময়ে যখন গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া, তখন বাসনপত্র, গ্যাস সিলিন্ডারেও হাত দেয়নি চোর।

  • Share this:

#বর্ধমান:  চোরের সাহিত্য প্রেম! অন্যান্য দামি সামগ্রী ছেড়ে বাছাই করে বই নিয়ে গেল চোর। স্কুলের আলমারি থেকে শরৎ রচনা সমগ্র, শেক্সপিয়র অমনিবাসের সঙ্গে পাগলা দাশু, ঠাকুমার ঝুলির মতো গল্পের বই চুরি নিয়ে এখন রীতিমতো তোলপাড় বর্ধমানের আউশগ্রাম অঞ্চল। ইতিমধ্যেই স্কুল কর্তৃপক্ষ থানায় অভিযোগও দায়ের করেছে। আর পুলিশও এহেন বই চোরের খোঁজে তদন্তও শুরু করেছে। গুসকরা শহরের উত্তরপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বইয়ের আলমারি থেকে এই সমস্ত গল্পের বই চুরির পাশাপাশি আরও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে একটা আস্ত সিলিং ফ্যানও বইয়ের সঙ্গে চোর চুরি করে নিয়ে যাওয়ায় কেউ কেউ মজা করে বলছেনও, চোরের রসবোধ দেখার মতো। মাথার ওপর ফ্যানের হাওয়ায় জমিয়ে গল্পের বই পড়তে চায় বোধহয় চোর।

আবার কেউ কেউ বলছেন, হয়ত ভাগ্য বিড়ম্বনায় সে চোর হয়েছে, কিন্তু তাঁর পড়াশোনার ইচ্ছা ছিল, যা হয়ে ওঠেনি। তাই শেষ পর্যন্ত বই চুরি করে মনের স্বাদ মেটানোর চেষ্টা করেছে। সে যাই হোক,  এই অভিনব চুরি নিয়েই এখন চর্চা তুঙ্গে উঠেছে।  অথচ চলতি সময়ে যখন গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া, তখন বাসনপত্র, গ্যাস সিলিন্ডারেও হাত দেয়নি চোর। তার বদলে স্কুলের দেওয়াল আলমারি খুলে শেক্সপিয়র অমনিবাস, শরৎ রচনা সমগ্র, পাগলা দাশু, ঠাকুরমার ঝুলির মতো নতুন নতুন গল্পের বই নিয়ে চম্পট দিয়েছে চোর। মজার বিষয়, প্রাথমিক স্কুলের লাইব্রেরিতে ছাত্রছাত্রীদের  জন্য শেক্সপিয়র অমনিবাস কিংবা শরৎ রচনা সমগ্র, উপেন্দ্রকিশোর রচনা সমগ্র থাকায় অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছেন। প্রাথমিকের ছাত্রছাত্রীরাও আজকাল এইসব পড়ছে?

আরও পড়ুন: অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ হয়ে গেল জিডি বিড়লা স্কুল! কারণ জানলে চমকে উঠবেন

স্কুল খোলার পর চোরের এই কাণ্ডের কথা জানতে পেরেছেন পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা শহরের উত্তরপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকারা। যা দেখে তাঁরা রীতিমতো হতবাক। ওই স্কুলে ৫৯ জন পড়ুয়ার জন্য রয়েছেন তিন জন শিক্ষিকা। সম্প্রতি স্কুলে রং করানো হয়েছে। স্কুল সূত্রের খবর,  স্কুল খোলার পরে শিক্ষিকারা দেখেন, অফিস ঘরের আসবাবপত্র লন্ডভন্ড। ওই ঘরেই রয়েছে স্কুলের গ্রন্থাগারের দেওয়াল আলমারি। সেখানে নতুন ও পুরনো মিলিয়ে শতাধিক গল্পের বই ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, আলমারি থেকে ক্ষীরের পুতুল, বিশ্বের সেরা গোয়েন্দা গল্প, আম আঁটির ভেঁপু, পথের পাঁচালী, উপেন্দ্রকিশোর রচনা সমগ্র, টুনটুনির বই, গুপী গাইন বাঘা বাইনের মতো ৫৩টি নতুন বই চুরি গিয়েছে। সেই সঙ্গে চুরি গিয়েছে অফিস ঘরের সিলিং ফ্যান।

আরও পড়ুন: রাতে ঘুমোতে পারেননি, কেমন আছেন অনুব্রত মণ্ডল? আজ কোন পথে সিবিআই?

ওই ঘরের মধ্যেই ছিল দু’টি গ্যাস সিলিন্ডার ও বাসনপত্র। রান্নার গ্যাসের অগ্নিমূল্যের বাজারে চোর সে সব নেয়নি। বাসনপত্রেও তার নজর পড়েনি। অন্যান্য ক্লাসঘরের সিলিং ফ্যানেও হাত পড়েনি।  চোরের এমন কাণ্ড দেখে তাজ্জব এলাকাবাসী থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, অফিস ঘরের জানালার একটি পাল্লার একাংশ ভাঙা অবস্থায় ছিল। কিন্তু জানলার রেলিং অক্ষত। তা হলে প্রশ্ন উঠছে, চোর ঢুকল কোথা থেকে? ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। গুসকরা ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মহুয়া খাতুন। তিনি বলেন, ‘সর্বশিক্ষা মিশনের টাকায় সম্প্রতি ওই বইগুলি কেনা হয়। সেই সমস্ত বই পড়ুয়াদের নিয়মিত দেওয়া হত পড়ার জন্য। আলমারিতে পুরনো বই থাকলেও সেগুলি না নিয়ে নতুন বইগুলিই চোর নিয়ে যাওয়ায় পড়ুয়াদের মন খারাপ হয়ে গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে বেশ কয়েকটি সূত্র মিলেছে। খুব তাড়াতাড়ি  চোরের খোঁজ মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Published by:Uddalak B
First published:

Tags: Viral News

পরবর্তী খবর