'পদ্ম' নয়, বোলপুরের সাঁওতালি গ্রামে শুধুই 'ঘাসফুল'!

Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Apr 27, 2019 03:09 PM IST
'পদ্ম' নয়, বোলপুরের সাঁওতালি গ্রামে শুধুই 'ঘাসফুল'!
Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Apr 27, 2019 03:09 PM IST

#বোলপুর: বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ আগামী ২৯ এপ্রিল। ভোটগ্রহণের আগে চলছে জোরদার প্রচার। এবার বোলপুর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অসিত মাল। আর বিজেপি থেকে দাঁড়িয়েছেন রামপ্রসাদ দাস। ওদিকে সিপিএম প্রার্থী রামচন্দ্র ডোম। কংগ্রেসের মতোও দশা না হলেও, বোলপুরে সিপিএম কার্যত ধুঁকছে। একদা বীরভূমের লালমাটিতে লাল ঝান্ডা ছিল অপ্রতিরোধ্য। শরদীশ রায়, সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মতো সিপিএমের ডাকসাইটে নেতারা বোলপুরের সাংসদ ছিলেন। কিন্তু এখন বোলপুরে লাল ঝান্ডা কার্যত শক্তিহীন। যদিও বোলপুর জুড়ে জোড়াফুলের একচেটিয়া আধিপত্য। ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে শুধুই তৃণমূল। কার্যত বিরোধী শূন্য। বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা আসনের ছ’টিতেই জোড়াফুলের বিধায়ক। তবুও তার মাঝেও কোথাও কোথাও উঁকি দিচ্ছে পদ্মফুলের কাঁটা। তবে সেই কাঁটায় যে রক্তক্ষরণ কোন ভাবেই সম্ভব না তা ভাল করেই জানেন তৃণমূলের নেতারা।

এখানকার মানুষের মধ্যেও রয়েছে নানা ক্ষোভ। তবে সেই ক্ষোভের মাঝেও তাঁরা কিন্তু তৃণমূলেরই দল ভারি করছেন। বোলপুরের অন্যতম প্রধান আর্কষণ হল সোনাঝুরি ও খোয়াই, কোপাই নদীর ধার। এই তিন জাগাতেই রয়েছে, ভুবনডাঙ্গা, শ্যামবাটি, দ্বারন্দার মতো অনেক সাঁওতালি গ্রাম। সেখানকার মানুষ এখনও আধুনিকতার থেকে অনেক দূরে। সোনাঝুরি থেকে একটু এগোলেই রয়েছে সাঁওতালি গ্রাম। সেখানকার মানুষের জীবন যাপন খুব সাধারণ। তাদের সবার বাড়িই মাটির। খড়ের ছাওনি। খালি পায়ে বাচ্চারা ছুঁটে বেড়ায় এই গ্রামে। ক্যামেরা দেখেই তাঁদের কয়েকজন এগিয়ে এলেন। তাঁরা সকলেই পুরুষ। বললেন,' আমাদের গ্রাম দেখতে এসেছেন, দেখুন। কিন্তু ছবি তুললেই আমাদের টাকা দিতে হবে।' ছবি তোলা বিরতি রেখে প্রশ্ন, 'আপনি কি করেন?' বললেন, 'মাটি কাটি।' তাঁর নাম হেমরম। তাঁর পরেই ভোটের কথা শুনে ক্ষোভ উগরে দিলেন সকলে মিলে,' ভোট তো দিব দিদি। ভোট দিতেই হবে। কিন্তু আমাদের গ্রামে এখনও জল নাই। একটা কল বসিয়ে দিয়েছে। সেটা থেকে গরম পড়লেই আর জল ওঠে না। আমরা কোনও ১০০ দিনের কাজ পাই না। জমিতে যা চাষ করি তাই খাই। শাক আর ভাত হলেই আমরা খুশি। তাও জোটে না। তবুও ভোট দিব। যদি কিছু হয় আমাদের।' আপনাদের ছেলে মেয়েরা পড়াশুনো করে,'' করে বটে। তবে বেশি পড়ে না। আমাদের সঙ্গে কাজে লেগে পড়তে হয়। মেয়েদের তো আমরা বিয়ে দিয়ে দিই। তবে এখানে পার্টির দাদারা আসে। তাঁরা বলেছে এবার আমাদের অনেক উন্নতি হবে।' কোন পার্টির দাদা? 'তা তো বলতে পারবো না।' তখন পাশ থেকে একজন বললেন,' তৃণমূলের দাদা এসেছেন তো। আর আমাদের দিদি তো বলেছেন তিনি আমাদের পাশে সব সময় আছেন।' কোন দিদি? ' তখন সবাই এক সঙ্গে বললেন মমতা দিদি।' আসলে তাঁরা জানেন না কোন কথার পর কোন কথা বলতে হবে। তাঁরা শুধু মনের কথা বলে যান। এই রকমই রয়েছে বোলপুরে অনেক গ্রাম। যেখানে এখনও তারা রেশনকার্ড পাননি। বিধবা ভাতা কেউ কেউ পান তো কারও কারও জোটেনি। আবার ২টাকা কিলো চাল পান গ্রামের অনেক মানুষই। আবার কেউ কেউ একেবারেই কিছু পান না। তবে সাঁওতালি গ্রাম গুলোতে ২ টাকা কিলো চাল সবাই পান। তাঁরা জানেন ভোটটা দিতেই হবে। তাই ভোট তাঁরা দেবেন। তবে তৃণমূলের নেতারা সবচেয়ে বেশি এই প্রান্তিক মানুষদের কাছে পৌঁছেছে। আর কোনও দলের নাম তাঁরা জানুক বা না জানুক তাঁরা এই দলটার নাম জানে। প্রান্তিক সাঁওতালি মানুষরা বোঝেন না লোকসভা বা বিধানসভার মধ্যে তফাৎ। তাঁরা শুধু জানেন ভোট আসে ভোট যায়। আর তাঁদের ভোট দিতে হয়।

First published: 03:09:54 PM Apr 27, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर