আমফানের ধাক্কায় চলে গিয়েছে শেষ সম্বলও, জীবিকার সন্ধানে নেমে প্রাণ যাচ্ছে বাঘের থাবায়

আমফানের ধাক্কায় চলে গিয়েছে শেষ সম্বলও, জীবিকার সন্ধানে নেমে প্রাণ যাচ্ছে বাঘের থাবায়

  • Share this:
#গোসাবা:  ইদানিং কালে সুন্দরবনের বাঘ মানুষ খাওয়ার পদ্ধতি পরিবর্তন করেছে।এর আগে ,দেহ আগে খেত বাঘ।এখন প্রথমেই মানুষকে ধরলেই তার মাথা খেয়ে নিচ্ছে।ইদানিং কালে যত গুলো মানুষকে বাঘ খেয়েছে,তাদের সব গুলোর একই হাল।   এটা প্রত্যন্ত সুন্দরবনের এলাকার কথা।যেখানে বছরে এক ফসলি ধানের জমি,নদী আর ওপারে জঙ্গল ছাড়া আর কিছু নেই।প্রতিটি মানুষকে তার পরিবার চালাতে গেলে,কমপক্ষে মাসে দশ হাজার টাকা প্রয়োজন।সেই টাকা রোজগার করতে গেলে,বাধ্য হয় জঙ্গলে মাছ, কাঁকড়া ,কিংবা মধু ভাঙ্গতে যেতে হচ্ছে।তাছাড়া কলকাতা,কিংবা ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে হচ্ছে কাজের খোঁজে।গত দুমাস ধরে সুন্দরবনে জঙ্গলে মাছ,কাঁকড়া ধরতে গিয়ে লিখিত হিসাবে ১০ জনের প্রাণ গেছে বাঘের আক্রমণে। বেহিসাবি আরো অনেক বলে দাবী করেন অনেকে।  যেখানে,প্রতি নিয়ত বাঘের পেটে মানুষ যাচ্ছে।সেই মানুষগুলো কেন বার বার বাঘের জঙ্গলেই যায় ?-  কিছু মানুষ রয়েছে যাদের রেজিস্ট্রি পাশ আছে।তারা পাশ কেটে যায়।আর যাদের নেই, তারা চুরি করে জঙ্গলে ঢোকে।যাদের পাশ আছে,তারা আবার অনেকে যায় না।তারা সেই পাস ভাড়া খাটায়।জমিতে চাষে আয় খুব সামান্য। কোটালে অর্থাৎ গণে, জঙ্গলে মাছ ধরতে গেলে,চার পাঁচ দিনে ঠিকঠাক থাকলে ৪-৫ হাজার টাকা রোজগার হয় ।মাসে কোনো ভাবে ৮-১০ হাজার টাকা রোজগার হয় এক এক জন ভাগীর।আবার কপাল যদি খারাপ হয়,তাহলে বাঘের পেটে চলে যায় কেউ কেউ।  কিছু করার নেই। বংশ পরম্পরাতে চলে আসছে একই ব্যবস্থা।আজও তাদের জীবিকার পরিবর্তন নেই।অনেকের দাবী,যেভাবে সরকার বন্য সহায়ক,সিভিক ভলেন্টিয়ার নিয়োগ করছে,সেইভাবে যদি সুন্দরবনের এই মানুষ গুলোকে কাজে লাগত,তাহলে ওদের বাড়িতে পড়াশুনা হত,আর জঙ্গলে চুরি করে মৃত্যুর দূতের সামনে গিয়ে মাছ কাঁকড়া ধরতে হত না।  এলাকায় গিয়ে দেখা গেল,মানুষ তাদের আত্মকথা বলতে চায়,কিন্তু প্রশাসনের ভয়ে অনেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখছেন।যদি কোনো ভাবে এই পেশার কথা কেউ স্বীকার করে নেয়,তাতে যদি জেল হয়!সবাই জানে তাদের পেশা চুরি।তবুও করার কিছু নেই।যদিও ওদের কথা শুনতে শুনতে নিজেকে শরৎ চন্দ্রের, শ্রীকান্তের মধ্যে হারিয়ে ফেলেছিলাম।তবুও সেই রোমাঞ্চকর গল্প যে আস্তে আস্তে সবাইয়ের চোখের কোণা ছাপিয়ে বাইরে বয়ে আসছিল ,তা বুঝতে দেরি হলে গেছিল।কারণ প্রায় প্রত্যেকের মনে বিষাদের একটা করুন সুর সারাদিন বেজে চলে।কেউ আর স্মৃতি রোমন্থন চায়না।

Shanku Santra
Published by:Elina Datta
First published: