Home /News /south-bengal /
Burdwan News || বৃষ্টি নেই, চাষ বাঁচাতে কবে থেকে জল ছাড়বে ডিভিসি? বর্ধমানে বৈঠক

Burdwan News || বৃষ্টি নেই, চাষ বাঁচাতে কবে থেকে জল ছাড়বে ডিভিসি? বর্ধমানে বৈঠক

Burdwan Ne ws ||পূর্ব বর্ধমান জেলায় ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হয়। সে জায়গায় এখন পর্যন্ত ৫ হাজার হেক্টর জমিতেও ধান রোয়া সম্ভব হয়নি। এই জেলায় এখনও পর্যন্ত ৫৪ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে।

  • Share this:

    #বর্ধমান: বর্ষায় বৃষ্টির ঘাটতি চরমে। আমন চাষ বাঁচাতে এখন সেচের জল ভরসা বলে মনে করছেন রাজ্যের শস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত পূর্ব বর্ধমান জেলার কৃষকেরা। পুকুর জলাশয় থেকে পাম্পের সাহায্যে জল তুলে বীজতলা বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে সেচের জন্য ডিভিসির জল ছাড়ার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হল বর্ধমানে। কী সিদ্ধান্ত হল সেই বৈঠকে?

    এদিন বর্ধমানের কানাই নাটশাল সেচ বাংলোয় দক্ষিণবঙ্গের পাঁচ জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বর্ধমানে বৈঠক করেন ডিভিশনাল কমিশনার বিজয় ভারতী। সেই বৈঠকে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, হুগলি ও হাওড়া জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন ডিভিসির আধিকারিকরাও। বৈঠকে ডিভিসির আধিকারিকরা জানান, বিহার ঝাড়খন্ড-সহ ডিভিসির ক্যাচমেন্ট এরিয়ায় বৃষ্টির ঘাটতি থাকায় গত বারের তুলনায় এবার জলাধারে জল কম রয়েছে। সেই তথ্য জানার পর  ঠিক হয়, অন্যান্য বারের মতো এবারও দুটি পর্যায়ে সেচের জন্য জল ছাড়া হবে। তবে চোদ্দ দিনের বদলে ২২ জুলাই থেকে সাত দিন জল ছাড়া হবে। গতবার প্রথম পর্যায়ে ২৪ জুলাই থেকে ১৪ দিন জল ছাড়া হয়েছিল। এবার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দ্বিতীয় দফায় জল ছাড়ার দিনক্ষণ স্থির করা হবে।

    আরও পড়ুন- বিজেপির চাপে নত, তবু এনডিএ'র দ্রৌপদী মুর্মুকেই সমর্থন করবে উদ্ধবের শিবসেনা!

    অন্যবার এই সময় ধান রোপনের ভরা মরশুম চলে পূর্ব বর্ধমান জেলায়। জুলাই মাসের প্রথম পক্ষে ধান রোয়ার বেশিরভাগ কাজ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এবার বৃষ্টির অভাবে থমকে গিয়েছে ধান বপন। কেউ কেউ পুকুর থেকে জল তুলে ধান রোয়ার কাজ শুরু করেছিলেন। বাকিরা বীজতলা সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। এই জেলায় দামোদর ও গঙ্গা তীরবর্তী অনেকে এলাকায় ধানের পর সেই জমিতে আলু চাষ হয়। তাই আলু চাষের কথা মাথায় রেখে বর্ষার শুরুতেই স্বল্পমেয়াদি উচ্চ ফলনশীল ধানের চাষ করেন অনেকেই। কিন্তু এবার তাতে বাধ সেধেছে বৃষ্টির অভাব।

    আরও পড়ুন: দলে থেকেও ব্রাত্য! দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতেও এই বিধায়ককে কেন ডাকল না বিজেপি?

    পূর্ব বর্ধমান জেলায় সবচেয়ে বেশি ধান উৎপন্ন হয়। এই জেলার ধানের ওপর রাজ্যের গণবন্টন ব্যবস্থা অনেক অংশে নির্ভরশীল। এই জেলা থেকেই জঙ্গলমহল-সহ আট জেলায় চাষ সরবরাহ হয়। তাই ধানের উৎপাদন মার খেলে গণবন্টন ব্যবস্হা থেকে শুরু করে মিডডে মিল সহ বিভিন্ন প্রকল্পে তার প্রভাব পড়বে। কৃষকরা বলছেন, ধান রুইতে পর্যাপ্ত জল প্রয়োজন। জমিতে জল দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। নচেৎ ধান চাষ বাঁচানো মুসকিল। সেই জায়গায় জমিতে ধুলো উড়ছে। বীজতলা বাঁচিয়ে রাখাই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে পুকুর ডোরা থেকে ২৫০ টাকা ঘণ্টা ধরে সেচের জল দিতে হচ্ছে।

    পূর্ব বর্ধমান জেলায় ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হয়। সে জায়গায় এখন পর্যন্ত ৫ হাজার হেক্টর জমিতেও ধান রোয়া সম্ভব হয়নি। এই জেলায় এখনও পর্যন্ত ৫৪ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। কৃষকেরা বলছেন, এখনই জলের প্রয়োজন। পরে ভারী বৃষ্টি হলে তখন আর ডিভিসির জলের প্রয়োজন পড়বে না।

    Saradindu Ghosh
    Published by:Rachana Majumder
    First published:

    Tags: Burdwan, Burdwan news

    পরবর্তী খবর