আদি বিজেপি নামে দেওয়াল লিখন! পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য

আদি বিজেপি নামে দেওয়াল লিখন! পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য
আদি বিজেপি নামে দেওয়াল লিখন! পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য

বিজেপির দাবি, এলাকায় বিভ্রান্তি ছড়াতে সুকৌশলে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রাতের অন্ধকারে বিজেপির সঙ্গে আদি কথাটি জুড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, তাদের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে এই ঘটনার কোনও সম্পর্ক নেই। এই জেলায় আদি বিজেপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নব বিজেপি কর্মীদের দ্বন্দ্ব সকলেরই জানা।

  • Share this:

#পূর্ব বর্ধমান: নির্বাচনী প্রচারের জন্য দেওয়াল চিহ্নিত করেছিল বিজেপি। সেই দেওয়ালে বিজেপির সঙ্গে 'আদি' যোগ করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ওই দেওয়ালে আদি বিজেপির পক্ষ থেকে প্রচার চালানো হবে। কিন্তু এই আদি বিজেপি কারা লিখল তা নিয়েই শোরগোল পড়ে গিয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসি বিধানসভা এলাকায়। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে দেওয়ালে দেওয়ালে আদি কথাটি মোছার কাজ শুরু হয়েছে। যদিও এলাকার বহু দেওয়ালে এখনও আদি বিজেপি লেখা রয়েছে।

বিজেপির দাবি, এলাকায় বিভ্রান্তি ছড়াতে সুকৌশলে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রাতের অন্ধকারে বিজেপির সঙ্গে আদি কথাটি জুড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, তাদের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে এই ঘটনার কোনও সম্পর্ক নেই। এই জেলায় আদি বিজেপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নব বিজেপি কর্মীদের দ্বন্দ্ব সকলেরই জানা। সেই বিবাদের কারণে বর্ধমানে তাদের জেলা কার্যালয়ে ভাঙচুর সহ ধুন্ধুমার কাণ্ড রাজ্যের বাসিন্দারা প্রত্যক্ষ করেছেন। সেই দ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ পেয়েছে দেওয়াল লিখনে।

পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসি দু নম্বর ব্লকের কুরকুবা অঞ্চলের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে এই আদি বিজেপির নামে দেওয়াল দখলকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কে বা কারা কখন তা লিখেছে, কেউ দেখেনি। তাই রাতের অন্ধকারে তা লেখা হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁরা এখন ভাবছেন, সত্যিই যারা পুরনো দিনের বিজেপি কর্মী তাঁরাই কি নির্বাচনী প্রচারের জন্য দেওয়াল চিহ্নিত করেছেন, নাকি তাঁদের নাম করে অন্য কেউ বিজেপির পাশে আদি কথাটি লিখে দিয়েছে। এই ঘটনা এখন গলসি ও তার আশপাশ এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।


এ ব্যাপারে বিজেপির স্থানীয় বুথ সভাপতি বিপদতারণ ঘোষ বলেন, এই দেওয়ালগুলি নির্বাচনী প্রচারের জন্য আমরা চুনকাম করেছিলাম। 'অল ওয়াল ফর বিজেপি' লেখা হয়েছিল। এরপর আমাদের অলক্ষ্যে রাতের অন্ধকারে বিজেপির সঙ্গে আদি কথাটি যোগ করে দেওয়া হয়েছে। এখানে আদি বিজেপি বলে কিছু নাই। কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও নেই। ইদানিং এই এলাকায় বিজেপির প্রভাব ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় বিরোধীদের পক্ষ থেকে এই কাজ করা হয়েছে। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এই কাজ করেছে বলে দাবি এলাকার বিজেপি কর্মী সমর্থকদের।

এ ব্যাপারে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা নবকুমার মন্ডল বলেন, "আমাদের কর্মীরা এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের কথা বলছেন। ব্যানার ফেস্টুনের মধ্য দিয়ে সরকারের উন্নয়নের কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বিজেপির দেওয়ালে আদি লেখার সময় তৃণমূল কর্মীদের নেই। আমাদের কেউ এই কাজের সঙ্গে যুক্ত নয়। এখানে বিজেপির তেমন প্রভাব এতদিন ছিলও না। কয়েকজন বিজেপি করতেন। বর্তমানে তাঁরা আর দলে গুরুত্ব পাচ্ছেন না। তাঁরাই এ কাজ করেছেন। জেলাজুড়ে পুরনো দিনের বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে নতুন আসা কর্মীদের বিবাদ চলছে। সেই বিবাদের জেরে তাদের জেলা কার্যালয় ভাঙচুরের মতো ঘটনাও ঘটেছে। সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই আদি বিজেপি লেখা হয়েছে।"

Published by:Swaralipi Dasgupta
First published:

লেটেস্ট খবর