সাড়া জাগানো খেলা, শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য, জিতলেই পুরস্কার অন্তর্বাস

সাড়া জাগানো খেলা, শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য, জিতলেই পুরস্কার অন্তর্বাস

এক ক্লিকেই জেনে নিন প্রথম, দ্বিতীয ও তৃতীয পুরস্কার হিসাবে কী কী পাওযা যাবে য়

  • Share this:

#বর্ধমান: এ এক আজব খেলা। শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য। এ খেলার পুরস্কার শাড়ি ও অন্তর্বাস। এমন পুরস্কার শুনেছেন কখনও? দেখেছেন কোথাও? না, কোনও পাঁচ তারা হোটেলের গোপন খেলা নয়। এ খেলা হয় এই বাংলাতেই। সবার সামনে। পুরস্কারও দেওয়া হয় সফল প্রতিযোগীদের মঞ্চে তুলে।3929_VideoCapture_20200118-123958

ফাঁকা মাঠে তিরন্দাজি প্রতিযোগিতা। অনেক দূরে লক্ষ্যবস্তু। অব্যর্থ নিশানায় করতে হবে লক্ষ্যভেদ। যে সবচেয়ে  বেশিবার টার্গেটে তীর নিক্ষেপ করতে পারবে জয়ী হবে সে ই। প্রথম পুরস্কার শাড়ি। দ্বিতীয় পুরস্কার শায়া। তৃতীয় পুরস্কার ব্লাউজ।

পূর্ব বর্ধমানের কালনার শিকারপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত হল এই প্রতিযোগিতা। লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রাখা হয়েছিল কলা গাছ। জমির আল থেকে সেই কলা গাছকে পাখির চোখ করে তীর ছুঁড়লেন একের পর এক প্রতিযোগী। অনেকেই টার্গেটে তীর বেঁধালেন। হাওয়ায় তীর ভেসেও গেল অনেকের। তবে বেশিরভাগই যে শর নিক্ষেপে দক্ষ তা তাঁদের আত্মপ্রত্যয়েই স্পষ্ট।

কালনার শিকারপুরে পৌষ সংক্রান্তি  ও মাঘের শুরুতে আদিবাসীদের ঝাপান উৎসব হয়। মেলা বসে। এলাকার বাসিন্দারা তো বটেই, দূর দূরান্ত থেকে আদিবাসী পুরুষ মহিলারা সেই উৎসবে যোগ দিতে আসেন। উৎসব উপলক্ষে আদিবাসী বাড়িতে বাড়িতে আত্মীয় পরিজনরা ভিড় করেন। হরেক পদের রান্না হয়। সেই ঝাপান উৎসবেরই অন্যতম আকর্ষণ এই তীর ছোঁড়া প্রতিযোগিতা। এক দু বছর ধরে নয়, যুগ যুগ ধরে আদিবাসী সমাজের এই রীতি চলে আসছে।

ইতিহাস সচেতন বাসিন্দারা বলছেন, আদিবাসীদের বাসস্থান ছিল জঙ্গল লাগোয়া এলাকায়। জীবন সংগ্রামের প্রয়োজনে পুরুষদের সঙ্গে মহিলাদেরও শিকারে বেরতে হতো। জঙ্গলের হিংস্র জন্তুদের সঙ্গে সমানে সমানে লড়াই করতে হতো। রামায়ণ মহাভারতের যুগ থেকেই মহিলারা অস্ত্র শিক্ষায় পারদর্শী ছিল। পুরানে অসুর দমন করার জন্য দেবী দুর্গাকে যুদ্ধ করতে দেখা গেছে। আজ  বাংলার আদিবাসী মহিলাদের শিকারে সেভাবে যেতে না হলেও তাদের সেই দক্ষতাকে সম্মান জানাতেই প্রাচীন প্রথা মেনে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

Saradindu Ghosh

First published: January 18, 2020, 4:07 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर