শান্তিনিকেতনের হারিয়ে যাওয়া ব্যাক্তিত্বদের নিয়ে শ্রুতি ইতিহাস

শান্তিনিকেতনের হারিয়ে যাওয়া ব্যাক্তিত্বদের নিয়ে শ্রুতি ইতিহাস

বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রভবনের উদ্যোগে নামকরণ হয়েছে ‘শ্রুতি ইতিহাস প্রকল্প’, কি সেই প্রকল্প ?

  • Share this:

#শান্তনিকেতন: কেউ আশ্রম কন্যা। কেউ ঠাকুর পরিবারের সদস্য। কেউ বা আবার শিল্পী, তো কেউ বিদগ্ধ পণ্ডিত। যারা নিজেরাই আজ এক একজন ইতিহাস। জীবিত সেই সকল ব্যাক্তিত্বদের মুখ থেকে তাদের কাছে যা ইতিহাস তা শোনা। শুধু শোনাই নয় অত্যাধুনিক দৃশ্য-শ্রাব্য ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে তা দলিল করে রাখা — এমনই এক অভিনব উদ্যোগ দিনের আলো দেখেছে শান্তিনিকেতনের বুকে। বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রভবনের উদ্যোগে। যার নামকরণ হয়েছে ‘শ্রুতি ইতিহাস প্রকল্প’ কি সেই প্রকল্প ?

অজানা শান্তিনিকেতনকে জানা। বই পড়ে  নয়, শান্তিনিকেতনের সেই ইতিহাসের খোঁজ করা! চোখে দেখা সেকালের শান্তিনিকেতন, চোখে দেখা সে যুগের আশ্রম বিদ্যালয়, বিশ্বভারতীকে কুঁড়ি থেকে মহিরূহে পরিণত হতে দেখেছিলেন যারা সেই সকল বিদগ্ধ মানুষজনদের সাক্ষাৎকারই হচ্ছে এই প্রকল্পের। আজ ইতিহাসে পরিণত হওয়া জীবিত সেইসকল বিদগ্ধদের চোখ দিয়ে শান্তিনিকেতনের আদিপর্বে তথা রবীন্দ্রনাথ ও তার সমসাময়িক সময়ের অলিখিত ইতিহাসকে খুঁড়ে বের করার জন্যই রবীন্দ্রভবন ব্রতী হয়েছে এই কাজে।

সম্পন্ন হওয়ার পর যা হয়ে অবশ্যই উঠবে ভুলে যাওয়া শান্তিনিকেতনের দলিল। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হয়ে উঠবে গবেষণার অমূল্য সম্পদ।       রবীন্দ্র ভবনের অধ্যক্ষ অমল পালের কথায়, ‘‘এই উদ্যোগের ফলে যেমন শান্তিনিকেতন আশ্রমের আদি কালের ইতিহাসের শিঁকড়ের সন্ধান মিলবে তেমনই বিশিষ্ট জনেদের চোখে ব্রহ্মচর্যাশ্রম থেকে বিশ্বভারতী এবং তার কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তোরন হওয়া পথে ঘটা নানা অজানা ঘটনার জানান মিলবে এর মধ্য দিয়ে।  খোলা মনেই বলছেন বিশিষ্টরা। কি করলে বিশ্বভারতীর আরো ভালো হয় বিশিষ্ঠরা তারও পরামর্শ দিচ্ছেন শ্রুতি ইতিহাসের সাক্ষাৎকারে।’’ দৃশ্য-শ্রাব্য  ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে হওয়া সাক্ষাতকারে ঠাকুর পরিবারের সদস্য প্রবীন আশ্রমিক, পাঠভবনের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সুপ্রিয় ঠাকুর, অধ্যাপক সুব্রত সেন মজুমদারদের মত মানুষ তাদের দেখা সে কালের আশ্রম বিদ্যালয়ের চেহারা বলেছেন ইতিমধ্যেই।

রবীন্দ্র ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এক বছরে ২৬ জনের  সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। যে সাক্ষাৎকারগুলি বেশীরভাগই হয়েছে উদযন বাড়িতে। সেই সাক্ষাৎকারগুলি আবার নিয়েছেন বিশ্বভারতীর বর্তমান প্রজন্মের অধ্যাপক, আধিকারিক, শিল্পীরা। অনেক ক্ষেত্রে বয়:ভারে বিধ্বস্ত রবীন্দ্র পন্ডিতদের বাড়ি গিয়েও শ্রুতি ইতিহাসের জন্য সাক্ষাৎকার সংগ্রহ করেছেন রবীন্দ্রভবনের গবেষকরা। শুধু সাক্ষাৎকার নেওয়াই নয়, সাক্ষাৎকার দেওয়ার পর বিভিন্ন ধারার বিশিষ্ঠদের এই উদ্যোগ কেমন লেগেছে সেই অনুভবও একটি খাতায় লিপিবদ্ধ হচ্ছে। যেমন শ্রুতি ইতিহাস সংরক্ষনের এই উদ্যোগ সম্পর্কে প্রখ্যাত শিল্পী সনৎ কর তার অনুভবে লিখেছেন, ‘‘শ্রুতি ইতিহাস নামে যে আলোচনা শুরু হয়েছে  তা খুব ভাল লাগলো। এর প্রয়োজন ছিল।

তা যেন থেকে যায়ে শান্তিনিকেতন কে জানার জন্য।’’ সে যুগের কলাভবন নিয়ে উপলব্ধি ব্যক্ত করা কলাভবনের প্রাক্তন অধ্যক্ষ তথা প্রথিতযশা শিল্পী যোগেন চৌধুরী লিখেছেন, ‘‘আজ শান্তিনিকেতনে এসে এবং কলাভবনের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলে-শ্রুতি স্মৃতি প্রকল্পে ইংশ নিয়ে ভালো লাগল। সব কথা বলা হলো না।’’ বিশ্বভারতীর আদিপর্বের অধ্যাপক, বৌদ্ধ শাস্ত্র পন্ডিত সুনীতিকুমার পাঠক উদযন বাড়িতে এসে তার দেখা সেকালের শান্তিনিকেতনের রূপ ব্যক্ত করেছেন এবং লিখেছেন, ‘‘ভুলে যাওয়া ‘আমাদের শান্তিনিকেতন’ শ্রুতি ইতিহাসে সংগৃহীত দলিল হয়ে থাকবে...এ আমার স্পষ্ট ধারণা...বিশ শতকের শেষার্ধে বিশ্বভারতীর বিকাশে সহায়তা করবে।’’

এমনকি এই উদ্যোগের অংশ হয়েছেন দুই বিদেশীও যারা স্রেফ রবীন্দ্রনাথকে ভালোবেসে দেশ ছেড়ে শান্তিনিকেতনকে তাদের ঠিকানা হিসাবে বেছে নিয়েছেন। স্পেনের খোসে পাশ এবং জার্মানীর মার্টিন ক্যামশেন শান্তিনিকেতনে পা দিয়ে জীবনের দীর্ঘসময় কাটিয়ে তাদের উপলব্ধি, অনুভব উগড়ে দিয়েছেন খোলামনেই। দৃশ্য-শ্রাব্য ব্যবস্থায়, ‘শ্রুতি ইতিহাসে’।

Supratim Das

First published: 04:22:27 PM Jan 16, 2020
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर