Home /News /south-bengal /
কোমায় রাজ্যের সবচেয়ে পুরনো ‘৩’ নম্বর রুটের বাস, রোগীকে বাঁচাতে তোড়জোড় শ্রীরামপুরের

কোমায় রাজ্যের সবচেয়ে পুরনো ‘৩’ নম্বর রুটের বাস, রোগীকে বাঁচাতে তোড়জোড় শ্রীরামপুরের

শ্রীরামপুর ও বাগবাজার রুটের সেই বাস ৷ নিজস্ব ছবি ৷

শ্রীরামপুর ও বাগবাজার রুটের সেই বাস ৷ নিজস্ব ছবি ৷

একটা সময় বাস চলত সত্তরের কাছাকাছি। যদিও এখন সাকুল্যে বাস চলে মাত্র একটি।

  • Share this:

ABIR GHOSHAL

#শ্রীরামপুর: কোমায় চলে যাওয়া রোগীকে বাঁচানোর জন্য এবার পথে নামলেন শ্রীরামপুরের বাসিন্দারা। রোগীর বয়স হয়েছে ৯২ বছর। কে এই রোগী? শ্রীরামপুরের ইতিহাসের সাথে জড়িত থাকা ৩ নম্বর বাস হচ্ছে কোমায় চলে যাওয়া সেই রোগী।

সালটা ১৯২৮। শ্রীরামপুর থেকে বালির মধ্যে চলাচল শুরু করে ৩ নম্বর বাস। তখন মাত্র ১ পয়সা দিয়েই গঙ্গার পাড়ের দুই শহর জুড়ে থাকত। কয়েকবছর পরে বাসের সংখ্যা। বাস ছোটে গঙ্গা পেরিয়ে দক্ষিণেশ্বরের দিকে। মন্দির দর্শন করে বাস ছুটত ডানলপ পর্যন্ত। তারও কয়েক বছর পরে বাস যাতায়াত শুরু করে বাগবাজার পর্যন্ত। ততদিনে বাসের সংখ্যাও বেডেছে। যদিও সেই বাস রুট আজ কোমায় চলে গেছে। এক সময় ৬৯ টি বাস চলত ৩ নম্বর রুটে। আর এখন বাস চলছে মাত্র ১টি। ফলে শহরের ইতিহাস থেকে বিলুপ্ত হতে চলেছে একটি বাস ও তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া নানা স্মৃতির।

এখন শ্রীরামপুর থেকে বাগবাজারের মধ্যে চলে মাত্র একটি ৩ নম্বর রুটের বাস। মাঝে কয়েকবছর আগে শুরু হয়েছিল শ্রীরামপুর থেকে সল্টলেকের মধ্যে ৩ নম্বর রুটের বাস চলাচল। আপাতত সেই রুট পুরোপুরি বন্ধ। শ্রীরামপুরের অমুল্যকাননে তৈরি হওয়া নতুন বাস টার্মিনাসে আপাতত একটি বাস দাঁড়িয়ে থাকে। সকাল ৯ টা নাগাদ ছাড়ে বাসটি। ১২ টা নাগাদ বাস গিয়ে পৌঁছয় বাগবাজারে।

সেখান থেকে আবার বিকেল ৪টে নাগাদ বাস ছাড়ে শ্রীরামপুর ফেরত আসে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ। বাস মালিকদের ব্ক্তব্য, বাকি বাস কোথাও গ্যারাজে কোথাও বা রাস্তার ধারে তালা বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। একটা সময় যে বাসের ভাড়া ছিল ১ পয়সা তা সত্তরের দশকে ছিল ৮ পয়সা আশির দশকে ছিল ১৫ পয়সা। এখন অবশ্য পরিবহণ দফতরের নিয়ম মেনে নুন্যতম ভাড়া হয়েছে ৭ টাকা। আর যদি কোনও যাত্রী শ্রীরামপুর থেকে বাগবাজারের মধ্যে যাতায়াত করেন তাকে মেটাতে হবে ২২ টাকা। কিন্তু বাসে চাপার যাত্রী নেই। কিন্তু রাজ্যের অন্যতম লাভজনক এই রুটের এমন হাল হল কেন? বাস মালিকদের বক্তব্য, শ্রীরামপুর থেকে বালি পর্যন্ত জি টি রোড ধরে প্রতিদিন কয়েক হাজার টোটো যাতায়াত করে।

টোটোর জ্বালায় রাস্তা ধরে বাস চালানো কার্যত মুশকিল হয়ে পড়ে। ২০১৫ সাল থেকে লাগাতার এই অসুবিধার কথা রাজ্য পরিবহণ দফতরকে জানায় বাস অ্যাসোসিয়েশন। যদিও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাই গত তিন বছরে বাসের সংখ্যা ৬৯ থেকে কমে দাঁড়াল মাত্র ১টিতে। ৩ নম্বর রুটের বাসের এই অবস্থা নিয়ে চিন্তিত শ্রীরামপুরের বাসিন্দারা। বাস বাঁচানোর দাবি নিয়ে তারা রাস্তায় নেমেছেন গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করতে। ক্যাম্পেনের নাম দেওয়া হয়েছে “আসছে দিন, বাঁচান ৩”।

শ্রীরামপুর মাই লাভ ও কলকাতা বাস ও পিডিয়া এই দুটি ফেসবুক পেজ থেকে চলছে লাগাতার প্রচার।

৩ নম্বর রুটের বাসের এই অবস্থার কথা জানতে পেরেছে রাজ্য পরিবহণ দফতরও। রাজ্যের ব্ক্তব্য, কোনও বাসেরই তো পারমিট বাতিল করা হচ্ছে না। টোটো অনেক জায়গায় চলে তার জন্যে বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এমনটা নয়। তবে অসুবিধা কোথায় তা নিয়ে আমরা নিশ্চিত ভাবে কথা বলব। শুধু টোটো নয়। ভাড়া সহ একাধিক ইস্যুতে বারবার আবেদন করেও কোনও লাভ হয়নি। ফলে ক্রমশ বিপাকে পড়ছেন বাস মালিকরা। তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই বাস চালানো বন্ধ করে দিয়েছেন বাস মালিকরা। এমনটাই অভিযোগ বাস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

দায় কার ? তা নিয়ে তর্ক চলতে থাকবেই। কিন্তু শ্রীরামপুরের বাসিন্দারা চাইছেন অবিলম্বে চালু হোক বাস চলাচল। ফিরে আসুক ৩ নম্বর রুটের সেই পুরানো চেহারা। বাস বাঁচাতে তাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন অনিকেত বন্দ্যোপাধ্যায়, অতনু মণ্ডলরা।

Published by:Arjun Neogi
First published:

Tags: Bag Bazar, Hooghly, Kolkata, Serampore

পরবর্তী খবর