Home /News /south-bengal /
পাচার হওয়া এরাজ্যের তরুণী উদ্ধার বিহারে !

পাচার হওয়া এরাজ্যের তরুণী উদ্ধার বিহারে !

পাচার হওয়া এক তরুনীকে বিহার থেকে উদ্ধার করল উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ।

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #উলুবেড়িয়া:  পাচার হওয়া এক তরুনীকে বিহার থেকে উদ্ধার করল উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ। উদ্ধার হওয়া তরুনীর নাম ইদেন্নেশা খাতুন। বাড়ি উলুবেড়িয়া থানা এলাকার চন্ডীপুরের মন্ডলপাড়ায়।

    রবিবার পুলিশ বিহারের কাটুয়া থানার মনিহার থেকে ইদেন্নেশাকে উদ্ধার করে।তাকে উদ্ধার করে সোমবার উলুবেড়িয়া থানায় নিয়ে আসা হয়। ইদেন্নেশার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উলুবেড়িয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মেয়েটি আপাতত উলুবেড়িয়া হাসপাতালের মহিলা মেডিক্যাল ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

    জানা গিয়েছে, গত ইদের কয়েকদিন আগে ইদেন্নেশার মা আরজিনা বেগম উলুবেড়িয়া থানায় তাঁর মেয়ের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ ইদেন্নেশার ফোন ট্যাপ করে বিহারের যোগ পায়। বিহারের কাটুয়া থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে দু’টি নাম সামনে আসে। এক, মোহন পাসোয়ান ও দুই, প্রিয়াঙ্কা বেগম। সম্পর্কে দু’জনে স্বামী-স্ত্রী।

    মোহনের বাড়ি বিহারে হলেও প্রিয়াঙ্কার বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের খড়গপুরে। এরপর উলুবেড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসাররা কাটুয়া পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে নিশ্চিত হন যে ইদেন্নেশা, বিহারেই আছে এবং মোহন ও প্রিয়াঙ্কার হেফাজতেই আছে। কাটুয়া থানার নজরদারিতে থাকে মোহন ও প্রিয়াঙ্কা। গত শনিবার উলুবেড়িয়া থানার অফিসার সুব্রত ধামালী ও তাপস জানার নেতৃত্বে দুই মহিলা কনস্টেবল-সহ পাঁচজনের একটি দল বিহারের উদ্দেশে রওনা দেয়। তারা শনিবার বিহারের বাপুজী-মতিহার রেলস্টেশনে নেমে ওখান থেকে ১৭কিমি দূরে কাটুয়া থানায় যায়। এরপর ওখানকার স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় মোহনকে আটক করে।

    ইদেন্নেশার খোঁজে শনিবার সারারাত ধরে বিভিন্ন ডেরায় তল্লাশি চালানো হয় । পুলিশকে মিথ্যা কথা বলে কিছুটা বিভ্রান্ত করে মোহন। কয়েকটি জায়গায় তল্লাশি চালানোর পর অবশেষে বিহারের মনিহার থেকে একটি ঘরের বাথরুম থেকে ইদেন্নেশাকে উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের একটি সূত্রের কথা অনুযায়ী, ইদেন্নেশাকে উদ্ধার করার সময় প্রায় হাজার দু’য়েক গ্রামবাসী পুলিশকে ঘিরে ধরে। কিন্তু উলুবেড়িয়া থানা ও বিহার পুলিশের তৎপরতায় কোনওরকমে উদ্ধার করা হয় ইদেন্নেশাকে।

    পুলিশ ইদেন্নেশাকে উদ্ধার করে জানতে পারে, খড়গপুরে মাসির বাড়ি গিয়ে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে পরিচয় হয় ইদেন্নেশার। ইদেন্নেশা যেহেতু ভাল নাচ জানে, তাই তাকে বিহার গিয়ে নাচের জন্য মোটা টাকার প্রলোভন দেখানো হয়। এরপর তাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে বিহার নিয়ে চলে যায় প্রিয়াঙ্কা। সেখানে পৌঁছেই ফোন কেড়ে নেওয়া হয় ইদেন্নেশার। বিহারে বিভিন্ন বিয়ে বাড়ি ও অনুষ্ঠানে জোর করে চটুল নাচ নাচানো হতো ইদেন্নেশাকে। না নাচলে প্রাণে মেরে ফেরার হুমকিও দেওয়া হতো বলে জানিয়েছে ইদেন্নেশা।

    First published:

    Tags: Bihar, Human Trafficking, Uluberia, Uluberia Police Station, উলুবেড়িয়া, নারী পাচার

    পরবর্তী খবর