পড়ুয়াদের মনের বিকাশ ঘটাতে ক্লাসরুমের বাইরে কাজ করে চলেছেন প্রাথমিকের দিদিমণি

এ এক অন্য সান্টার সত্যি গল্প...

এ এক অন্য সান্টার সত্যি গল্প...

  • Share this:

#বর্ধমান: ধরাবাঁধা স্কুলের ক্লাসের মধ্যেই শুধু নয়, তার বাইরে বেরিয়েও পড়ুয়াদের মন জয় করে তাদের মানসিক বিকাশ ঘটাতে বছরভর কাজ করে চলেছেন প্রাথমিকের শিক্ষিকা। তার এই প্রচেষ্টায় আপ্লুত অভিভাবকরাও। পড়ুয়াদের খুশি করতে এবার সেই শিক্ষিকাকে দেখা গেল স্যান্টাক্লজের ভূমিকায়। টকটকে লাল জামা প্যান্ট,মাথায় ধবধবে সাদা চুল। ইয়া লম্বা সাদা দাড়ি। মোটা সাদা গোঁফ। মাথায় লাল টুপি। হাসিমুখে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে কচিকাঁচাদের উপহার বিলি করছেন সান্টা। তার ঝোলায় উপহারের ছড়াছড়ি। পেন পেন্সিল থেকে শুরু করে খেলনা, চকোলেট। কোনও কিছুই যেন বাদ নেই। কচিকাচাদের ছোট ছোট হাতগুলো উপহারে ভরে উঠছে নিমেষে। তাদের মুখে হাসি ফুটিয়ে ভালো করে পড়াশোনা করার পরামর্শ দিচ্ছেন কালনার সান্টাক্লজ। বিশেষ পোশাক,দাড়ি-গোঁফের আড়ালে সান্তারূপী প্রিয় দিদিমণিকে পেয়ে মনখুশ কিশোর-কিশোরীদের।ভালো হয়ে সারাবছর পড়াশোনা করার কথা আদায় করে নিচ্ছেন সান্টা।

পাশ্চাত্যের সেইন্ট নিকোলাস, ফাদার খ্রিষ্টমাস বা ক্রিস ক্রিঙ্গল নন, কালনার সাদা ধবধবে দাড়ি-গোঁফের এই সান্টা আসলে এক মহিলা। তিনি স্বাগতা কর্মকার। পূর্ব বর্ধমানের মন্দির শহর কালনার মধুবন এলাকার বাসিন্দা স্বাগতা দেবী স্থানীয় মুক্তারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষিকা। স্কুলের গতানুগতিক রুটিনের বাইরে সারাবছর পড়ুয়াদের নিয়ে সময় কাটান তিনি।।তাঁর নানান কর্মকান্ড ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে। পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশের জন্যই সান্টা সেজে উপহারের ঝুলি নিয়ে পথে নামা বলে জানালেন তিনি।

করোনার সংক্রমণ রুখতে মার্চ মাস থেকে স্কুলে পঠন পাঠন বন্ধ। পড়ুয়ারা যাতে লেখাপড়ার চর্চার বাইরে চলে না যায় তা নিশ্চিত করতে সারা বছর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন স্বাগতা দেবী। স্কুলের গণ্ডির বাইরে গাছ তলায় ছেলে মেয়েদের নিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পড়াশুনা চালিয়ে গেছেন। মনীষীদের জন্মদিন পালন থেকে শুরু করে নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন পড়ুয়া অন্যান্যদের নিয়ে।

তাই বড়দিনের অনুষ্ঠান বাদ যাক তা চাননি তিনি। বরং সেই অনুষ্ঠানকে বর্ণময় করে তুলতেই নিজেকে সাজিয়ে তুলেছেন সান্টাক্লজের পোশাকে। জানালেন, প্রত্যেকের জন্য সান্টা টুপি ও পেনসিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও সবাই মিলে কেক কাটা হলো। উপহার তুলে দেওয়ার ফাঁকে সবাইকে সারা বছর মন দিয়ে পড়াশোনা করতে বলা হয়েছে। এর ফলে তারা পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে উঠবে পাশাপাশি তাদের মানসিক বিকাশ ঘটবে বলে আশাবাদী এই শিক্ষিকা।

কখনও গাছ তলায় খেলার ছলে লেখাপড়া, আবার কখনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রিয় দিদিমণিকে কাছে পেয়েছে কচিকাঁচারা। এবার তিনি সান্তা রূপে উপহারের ঝুলি নিয়ে ধরা দেওয়ায় আপ্লুত পড়ুয়ারা নানারকম কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে পড়ুয়াদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিতে পারার এই দক্ষতাকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন অভিভাবকরাও।

Saradindu Ghosh

Published by:Debalina Datta
First published: