• Home
  • »
  • News
  • »
  • south-bengal
  • »
  • মেমারিতে প্রতিভাবান ফুটবলারের রহস্য মৃত্যু, বন্ধুর হাতেই খুন?

মেমারিতে প্রতিভাবান ফুটবলারের রহস্য মৃত্যু, বন্ধুর হাতেই খুন?

প্রতীকী ছবি৷

প্রতীকী ছবি৷

  • Share this:

টোটোয় চেপে বিকেলে এলাকায় ঘুরতে বেরিয়েছিল দুই বন্ধু। রাতেই এক বন্ধুর হাতে অন্যজনকে খুনের অভিযোগ উঠল! এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে। মৃত যুবকের নাম মানিক টুডু। তার বয়স সাতাশ বছর। তাঁকে খুন করার অভিযোগে তাঁরই বন্ধু উত্তম রায়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উত্তমের সঙ্গী আন্নু রায় নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ ধৃত দু' জনকে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা বলছেন, খুন না নিছক জলে ডুবে মৃত্যু তা জানার চেষ্টা চলছে। সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল তা জানতে ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে।

পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি থানার সিমলা গ্রামে একটি জলাশয় থেকে মানিক টুডু নামে ওই যুবকের মৃতদেহ মেলে। প্রতিভাবান ফুটবলার হিসেবে মানিকের এলাকায় নামডাক রয়েছে। তিনি কলকাতার নামী ক্লাবের হয়েও ফুটবল খেলেছেন। বৃহস্পতিবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার দুপুরে পরিবারের পক্ষ থেকে মেমারি থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করা হয়। সেদিন রাতেই গ্রামের একটি পুকুরে জাল ফেলে খোঁজাখুঁজি সময় মানিকের মৃতদেহ মেলে।

এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা মানিককে খুন করার অভিযোগে তাঁরই বন্ধু উত্তম রায়ের বাড়ি ভাঙচুর করে। ঘর থেকে জিনিসপত্র বের করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তার আগেই এলাকাছাড়া হয়ে যায় উত্তম। যদিও সে এই খুনের ঘটনার সঙ্গে কোনও রকমভাবেই জড়িত নয় বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

মৃত যুবকের কপালে আঘাতের চিহ্ন ছিল। রক্তের দাগও দেখা গিয়েছে বলে মৃত মানিকের পরিবারের সদস্যদের দাবি। মৃতের দাদা বাবুরাম টুডু বলেন, বৃহস্পতিবার পুকুর পাড়ে চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ শুনেছিলেন এলাকার কয়েকজন। তাঁদের কাছ থেকে সেই খবর পেয়েই পুকুরে জাল ফেলা হয়েছিল। তাতেই ভাইয়ের মৃতদেহ পাওয়া যায়। তাঁকে খুন করার সময় ওই চিৎকার হয়েছিল বলে মৃতের দাদার অভিযোগ। তাঁর  আরও অভিযোগ, ঘটনার আগে উত্তমের সঙ্গে টোটোয় চেপে ভাইকে ঘুরতে দেখেছিলেন অনেকেই। অথচ উত্তম তা অস্বীকার করে। তাতে সন্দেহ বাড়ে। মৃতদেহ উদ্ধারের সময় সে এলাকাছাড়া হয়ে যায়। তাতেই খুনের ঘটনায় সে জড়িত বলে গ্রামবাসীরা নিশ্চিত হয়ে তার বাড়িতে চড়াও হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের দাদা বাবুরামের অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তম রায় ও আন্নু রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আন্নুর বাড়ি ঝাড়খন্ডে। গ্রেফতারের পর তাদের বর্ধমান আদালতে তোলা হয়। আদালত তাদের চারদিন পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাদের নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনঃ নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে ।তদন্তকারী পুলিশ অফিসারদের সূত্রে জানা গিয়েছে, জলে ডুবে ওই যুবকের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ঠিক কী ঘটনা ঘটেছিল তা জানার চেষ্টা চলছে। পুকুর পাড়ে মানিকের সঙ্গে উত্তম ও আন্নু ছিল কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর কারণ অনেকটাই স্পষ্ট  হবে।

Saradindu Ghosh

Published by:Debamoy Ghosh
First published: