কেউ বলছেন আত্মহত্যা করবেন, কেউ পথে বসবেন! মাথায় হাত বাজি ব্যবসায়ীদের

কেউ বলছেন আত্মহত্যা করবেন, কেউ পথে বসবেন! মাথায় হাত বাজি ব্যবসায়ীদের
প্রতীকী চিত্র।

হাজার হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল এই শিল্পের উপর। আদালতের নির্দেশের পর এ বার তাঁরা পথে বসতে চলেছেন।

  • Share this:

RAJARSHI ROY

#দত্তপুকুর: তুবড়ি, দোদমা, রকেট, কিংম্বা ফুলঝুরি, কিছুই ফাটবে না সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে । ফলে এ বছর বড়ই ম্যার ম্যারে দত্তপুকুর থানার নারায়ণপুর। দীপাবলীর আগের সন্ধ্যায় আত্মহত্যা আর পথে বসার কথা বলছেন বাজি ব্যবসায়ীরা। আলোর উৎসবে রংবেরং বাজি নিয়ে পসরা সাজান তাঁরা। পূজো শুরুর দশ দিন আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় বিকিকিনি। না এ বার আর সেই অবস্থা নেই।

উত্তর ২৪ পরগণা জেলার সবচেয়ে বড় বাজি উৎপাদন ও বিক্রির বাজার হল নারায়ণপুর। জেলা সদর শহরের উপকন্ঠে প্রায় সাত হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল এই শিল্পের উপর। আদালতের নির্দেশের পর এ বার তাঁরা পথে বসতে চলেছেন। বাজি ব্যবসায়ী সায়েরা বিবির দাবি, দীর্ঘ লক ডাউনের জেরে কোনও আয় উপার্জন ছিল না তাঁদের। মাস দুয়েক আগে সোনা বন্ধক দিয়ে দোকান ভরেছেন বাজিতে। আশায় ছিলেন লক ডাউনের পর এ বার দু’টো পয়সার মুখ দেখবেন। কিন্তুু কোথায় কী, দোকানই খুলতে পারছেন না আর। এমনই রহিমা বিবি। তাঁর কথায় ধার দেনা করে পুঁজি যোগার করে কয়েক লক্ষ টাকার বাজি মজুত করেছেন।কিন্তুু করোনা অতিমারি জন্য তাঁদেরও বাজি বিক্রি করতে দিচ্ছে না  প্রশাসন।


এ বার ধার আর মহাজন সামলাবেন কী ভাবে সেটাই তাঁর রাতের ঘুম কেড়েছে। শেখ রফিক আলি আর এক বাজি ব্যবসায়ী দোকানের লাইসেন্স দেখিয়ে বলছেন লাখ কয়েক টাকার বাজি মজুত করেছেন। পাইকারী ব্যবসা করেন তিনি। তাঁ র কথায় বাজি এমন একটা জিনিস যাকে বেশী দিন রেখে দিলে ড্যাম পড়ে যায়। আর বিক্রি হয় না। এ বার কালীপূজার সিজেন মার মানে পুরো লস। তিনি সামলাতে পারলেও, অনেক ছোট ব্যবসাদার নিদারুন সমস্যায় পড়বেন। কিন্তুু করোনা অতিমারির জেরে এ বার রাজ্যে বাজি বিক্রি নিষিদ্ধ। তাই আরও দেনার দায় থেকে তাঁদের বাঁচাতে রাজ্য সরকার এগিয়ে আসুক দাবি তুলছেন তাঁরা।

তাঁদের অভিযোগ, ইচ্ছাপুর নীলগঞ্জ পঞ্চায়েত ও পুলিশ থেকে তাঁদের বাজি বিক্রি করতে বারণ করেছে। তাঁদের প্রশ্ন, করোনা অতিমারি তো গত বছর ডিসেম্বর থেকে দেশে রয়েছে। সরকার যদি আগে ভাবনা চিন্তা করে ব্যবস্থা নিত তাহলে তাঁরা এ বছর ব্যবসায় পু্ঁজি ঢালতেন না দাবি সায়রা বিবির।বিক্রি বাট্টার শুরুর মুখে বাজি বিক্রি নিষিদ্ধ করায় চরম বিপাকে তাঁরা।এখন সরকার পাশে না দাঁড়ালে তাঁদের আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না বলে মত তাঁদের । একই দাবি তুলছেন সারাবাংলা আতস বাজি উন্নয়ন সমিতির চেয়ারম্যান বাবলা রায়। এ দিন সন্ধ্যায় নারায়ণপুরে কয়েক হাজার খানেক বাজি ব্যবসায়ীদের মাঝে বাবলা রায়ের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁদের সমস্যার কথা বলবেন।

Published by:Simli Raha
First published: