চার মাসে ১০০ কিলোমিটার, নদী- দ্বীপ পেরিয়ে বাংলাদেশে পাড়ি দিল সুন্দরবনের এই বাঘ

এই বাঘটিই ১০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বাংলাদেশে পৌঁছয়৷ Photo-Twitter/Parveen Kaswan

পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন (Sunderban) থেকে যাত্রা শুরু করে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পেরিয়ে চার মাসের মাথায় বাংলাদেশের জঙ্গলে গিয়ে পৌঁছেছে একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার (Royal Bengal Tiger)৷

  • Share this:

    #কলকাতা: ২০১৮ সালে লালগড়ের জঙ্গলে হঠাৎই দেখা দিয়েছিল একটি পূর্ণবয়স্ক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার৷ মাস দুয়েক পর স্থানীয় গ্রামবাসীদের হাতেই মৃত্যু হয়েছিল বাঘটির৷ লালগড়ের জঙ্গলে কোথা থেকে বাঘ এল, সেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর মেলেনি৷ তবে বন দফতরের কর্তাদের অনুমান ছিল, সম্ভবত ১০০ কিলোমিটার দূরে ওড়িশার সিমলিপাল না হলে ৩০০ কিলিমোটার দূরে ঝাড়খন্ডের পালামৌয়ের জঙ্গল থেকে লালগড়ে চলে এসেছিল ওই বাঘটি৷ যদিও এর সঠিক উত্তর শেষ পর্যন্ত জানা যায়নি৷ কিন্তু মাইলের পর মাইল হেঁটে এ ভাবে যে বাঘ এক জঙ্গল থেকে আর এক জঙ্গলে পাড়ি দিতে পারে, তা জেনেই চমকে উঠেছিলেন অনেকে৷

    এবার আর অনুমান নয়৷ বাঘ যে চাইলে হেঁটে, সাঁতরে অন্তত ১০০ কিলোমিটার পথ অনায়াসে পাড়ি দিতে পারে, সেই প্রমাণ সামনে এল৷ পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন থেকে যাত্রা শুরু করে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পেরিয়ে চার মাসের মাথায় বাংলাদেশের জঙ্গলে গিয়ে পৌঁছেছে একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার৷ দীর্ঘ যাত্রাপথে ছোট, বড় একাধিক নদী পেরিয়েছে সে৷ যার মধ্যে কোনওটি এক কিলোমিটার পর্যন্ত চওড়া৷ বাঘটির শরীরে যেহেতু রেডিও কলার লাগানো ছিল, তাই তার গোটা যাত্রাপথের তথ্য সহজেই বন দফতরের হাতে চলে এসেছে৷ হিন্দুস্তান টাইমস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনই জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য বনপাল ভি কে যাদব৷

    বাঘটির গতিবিধির উপরে লক্ষ্য রাখা এবং সেটি মানুষের কাছাকাছি চলে আসছে কি না তা নজরে রাখতেই ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে এই রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারটির গলায় রেডিও কলার লাগানো হয়েছিল৷ রাজ্য বন দফতরের ওই শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, চার মাসের যাত্রাপথে একবারের জন্যও কোনও জনবসতির দিকে যায়নি বাঘটি৷

    ভি কে যাদব জানান, 'যাত্রা শুরু করার পর প্রথম এক মাস বাঘটি ভারতীয় এলাকাতেই ছিল৷ এর পর সে বাংলাদেশের তালপাত্তি দ্বীপে ঢুকে পড়ে৷ একে একে ছোট হাড়িখালি, বড় হাড়িখালি এমন কি রায়মঙ্গলের মতো নদী পেরিয়ে যায় সে৷' বন দফতরের ওই শীর্ষ কর্তার মতে, রেডিও কলার লাগানোর আগে বাঘটি সম্ভবত বাংলাদেশের জঙ্গল থেকেই ভারতীয় এলাকায় ঢুকে পড়েছিল৷ এবার নিজের পুরনো বাসস্থানেই ফিরে গিয়েছে সে৷

    ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস-এর অফিসার পরভীন কাসওয়ান গত বছর রেডিও কলার লাগানোর পর এই বাঘটির ছবিই ট্যুইটারে পোস্ট করেছিলেন৷ মঙ্গলবার সকালে সেই বাঘটিরই বাংলাদেশে পৌঁছে যাওয়ার খবরও জানান তিনি৷ কাসওয়ান ট্যুইটারে লেখেন, 'এই বাঘটি ১০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ভারত থেকে বাংলাদেশে পৌঁছেছে৷ অবশ্যই ভিসা ছাড়া! খাঁড়ি, দ্বীপ, সমুদ্র- যাত্রাপথে সবই অতিক্রম করেছে সে৷'

    টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে ভি কে যাদব জানিয়েছেন, ২৭ ডিসেম্বর থেকে ১১ মে-র মধ্যে বাঘটি ভারতীয় এলাকায় সুন্দরবনের হরিণভাঙা এবং খাটুয়াঝুড়ি এবং বাংলাদেশের দিকে তালপাত্তি নামে তিনটি দ্বীপের মধ্যেই অবস্থান করছিল৷ যদিও ১১ মে-র পর বাঘটির শরীরে থাকা রেডিও কলার থেকে সিগন্যাল আসা বন্ধ হয়ে যায়৷ বাঘটির সর্বশেষ অবস্থান অনুযায়ী সেটি বাংলাদেশের তালপাত্তি দ্বীপে ছিল৷

    ভি কে যাদব জানিয়েছেন, কোনওভাবে বাঘটির মৃত্যু হলেও রেডিও কলার থেকে সংকেত আসার কথা৷ কিন্তু সেরকম কোনও সংকেত আসেনি৷ আবার বাঘটি নিরাপদে থাকলেও যে সিগন্যাল পাওয়ার কথা, তা আসাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ ফলে বন দফতরের কর্তারা ধরেই নিয়েছেন, সম্ভবত বাঘটির গলা থেকে রেডিও কলারটি খুলে পড়ে গিয়েছে৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: