corona virus btn
corona virus btn
Loading

আসছে ভরা কোটাল, নোনা জলেই স্বপ্ন শেষ, বলছে সুন্দরবন  

আসছে ভরা কোটাল, নোনা জলেই স্বপ্ন শেষ, বলছে সুন্দরবন  
সুন্দরবনে এমন অবস্থাতেই পড়ে আছে বিঘের পর বিঘে জমি।

আমফানের ১৪ দিন পেরোলেও এখনও অবধি মাঠের জল নামেনি। কোথাও কোথাও নোনা জল এক হাঁটু অবধি দাঁড়িয়ে আছে। তার ওপর মাঠের একাধিক জায়গায় গাছ কোথাও আবার বাড়ির টিনের চালা বা ভাঙা অ্যাসবেস্টর এসে পড়ে আছে।

  • Share this:

#পাথরপ্রতিমা: সামনে ভরা কোটাল। আকাশে মেঘের ডাক। ভয়ে বুক কাঁপছে পাথরপ্রতিমার নদীর ধারের বাসিন্দাদের। গোবদিয়া নদীর ধারে তাই ভীত চেহারার আনাগোনা। পিচ ঢাকা খয়ে যাওয়া রাস্তা ছেড়ে উত্তর গোপালনগরের ইঁট পাতা রাস্তা ধরে নদীর দিকে এগোলেই দু'পাশে চোখে পড়বে কাঁচা বাড়িগুলি। বাড়িগুলোর চেহারা বলে দিচ্ছে কেউ যেন জোর করে তাদের ফেলে দিয়েছে।  দেওয়ালগুলিও আর অক্ষত নেই। অনেক দূরে গিয়ে কালো জলের পুকুরে মুখ গুজে পড়ে আছে বাড়ির চালটা। বিঘের পর বিঘে চাষের জমি নোনা জলের তলায়। সূর্যমুখী, মুগ ডাল-সহ যে সমস্ত ফসল চাষ হচ্ছিল, তাও জলের তলায়। ফলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পা চালিয়ে ক্লান্ত শরীরকে মাঠের ধারে টেনে নিয়ে আসেন সুবল, দিলীপ, ভীমচরণ'রা। ফিরে যাবার আগে দেখে যান নোনা জল ঢেউ তুলেছে তাদের সাধের খেতি জমিতে।

এখানের বাসিন্দা প্রতাপ চন্দ্র রাণা। নিজের জমির পাশে নদী বাঁধের ওপরে এসে বসে থাকেন। অবস্থা শোনাতে গিয়ে জানাচ্ছিলেন, "মরসুমি ফসল তো আর কিছু নেই। ঢেঁড়শ, উচ্ছে অবধি মাঠে আর নেই।" দক্ষিণ ২৪ পরগণার বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে সূর্যমুখী চাষ করা হয়। এবার এমনই অবস্থা সেই চাষ চলতি বছরে আর করা সম্ভব হবে কিনা তা কেউ জানেন না। ফলে মাথায় হাত চাষীদের।

আমফানের ১৪ দিন পেরোলেও এখনও অবধি মাঠের জল নামেনি। কোথাও কোথাও নোনা জল এক হাঁটু অবধি দাঁড়িয়ে আছে। তার ওপর মাঠের একাধিক জায়গায় গাছ কোথাও আবার বাড়ির টিনের চালা বা ভাঙা অ্যাসবেস্টর এসে পড়ে আছে। জল নামার পড়ে এগুলি পরিষ্কার করা একটা সময় সাপেক্ষ কাজ৷ একই সাথে গাছ কেটে সরানো আরও কঠিন কাজ৷

কারণ হিসেবে গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, গাছ কাটতে যে টাকা খরচ তা দিয়ে একটা নতুন গাছ কেনা যাবে। গ্রামের বাসিন্দা স্বপন খাটুয়া জানাচ্ছেন, "বাজারে চুনের দাম বেড়ে গেছে। জল সরিয়ে আগে চুন দিতে হবে। মানুষের হাতে পয়সা নেই। তার মধ্যে জোগান কম চুনের। গাছ কাটানোর পয়সাটুকু অবধি নেই।" ফলে আবার কবে নদী হবে শান্ত। আবার কবে জুড়বে নদী বাঁধ। ভাঙা অংশ দিয়ে ঢুকবে না আর জল। এই আশায় দিন গুজরান এখানের মানুষের।

তবে প্রকৃতির চোখ রাঙানি, ভরা কোটালের জল আবার মনে ভয় ধরিয়ে দেয় তাদের। ইঁট পাতা রাস্তা ছেড়ে এবার কাদা মাখা এবড়োখেবড়ো মাটির রাস্তা। নদী বাঁধ থেকে কয়েক মিটার দুরেই পরপর মাছ চাষের পুকুর। নোনা জল উপচে এসে পড়েছে সেই পুকুরে। সেই পুকুরের এক বুক জলে দাঁড়িয়ে গুরুপদ দিন্দা। "আমার সব মাছ মরে গেছে। জল বদলাতে অনেক খরচ। আর এখন বদলেও বা কি হবে? আবার তো কোটালের জল আসবে।"

গ্রামের মৎস্যজীবীদের সবারই বক্তব্য এক একটি গ্রামে মিঠে জলের মাছ চাষের কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে। শুধু কি মাছ চাষ? ভীষণ রকম ক্ষতি হয়েছে পোলট্রি ব্যবসার৷ গড়ে একাধিক ব্যক্তির ৫ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা অবধি ক্ষতি হয়েছে। পোলট্রি ব্যবসায়ী উৎপল সামন্ত তার কথা শোনাচ্ছিলেন, "আমার ২৫০০ স্কোয়ার ফিটের ৫ খানা শেড ছিল। সব মুরগী মরে গেছে। শেড ভেঙে গেছে। আমার নিজের প্রায় ১৪ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।"

ইতিমধ্যেই জেলা শাসকের দফতর মারফত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এই সমস্ত ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে। তবে কবে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে সুন্দরবনের মানুষ সেই উত্তর হাতড়াচ্ছেন নোনা জল গায়ে মেখে হতাশ চোখে বসে থাকা মানুষগুলি।

Published by: Arka Deb
First published: June 4, 2020, 11:37 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर