দিনমজুরিতে চলে পেট, নেই অ্যান্ড্রয়েড, অবশেষে পরীক্ষার ব্যবস্থা সুমিত্রা সোরেনের

সুমিত্রা সোরেন।

অভাবের সংসারে পরের জমিতে তাঁকে দিনমজুরের কাজ করতে হয়।তারপরেও সময় বের করে স্নাতক হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু খবরও পাননি কবে পরীক্ষা ঘোষণা হয়েছে। কী ভাবেই বা পাবেন স্মার্টফোনই যে নেই!

  • Share this:

#বর্ধমান: এ বছরই পরীক্ষা দিতে পারবেন বর্ধমান ওমেন্স কলেজের বিএ তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সুমিত্রা সোরেন। আশার আলো দেখতে পেয়ে স্বভাবতই খুশি দরিদ্র পরিবারের এই ছাত্রী। সমস্যার সময় পাশে দাঁড়ানো সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাতেও ভুলছেন না তিনি। অ্যান্ড্রয়েড ফোন না থাকায় সময়ে খবর না পেয়ে অনলাইনে ফর্ম পূরণ করতে পারেননি পূর্ব বর্ধমানের খন্ডঘোষ রুপসা গ্রামের এই ছাত্রী।

অভাবের সংসারে পরের জমিতে তাঁকে দিনমজুরের কাজ করতে হয়।তারপরেও সময় বের করে স্নাতক হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। করোনার কারণে বাড়িতেই ছিলেন। ফর্ম পূরণ বা পরীক্ষার দিনক্ষণ জানতে পারেননি। বন্ধুদের কাছ থেকে পরীক্ষার খবর পেয়ে প্রথম পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন। অ্যাডমিট কার্ড না থাকায় তাঁকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়নি। নিজের অসহায়তার কথা জানিয়েও কোনও সুরাহা পাননি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে।

সেই খবর চাউড় হতেই শোরগোল পড়ে যায় রাজ্যজুড়ে। প্রশ্ন ওঠে, এই নিউ নর্মাল সময়ে তবে কি দরিদ্র ছেলে মেয়েরা উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থেকে যাবে। মূল্যবান একটি বছর নষ্ট হয়ে যাবে ভেবে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলেন সুমিত্রা। সে সময় তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অনেকেই।এবার পাশে দাঁড়াল বর্ধমান ওমেন্স কলেজ কর্তৃপক্ষ।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা মল্লিকা চক্রবর্তী বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপর আজ শনিবার সুমিত্রাকে কলেজে ডেকে পাঠানো হয়। তাঁকে জানানো হয়, এ বছরই বাকি সব পরীক্ষা দিতে পারবেন সুমিত্রা। দিতে না পারা প্রথম পরীক্ষাও নিয়ে নেওয়া হবে। তবে অ্যাডমিট কার্ড না থাকায় তিনি অনলাইনে পরীক্ষা দিতে পারবেন না। কলেজে পরীক্ষা দিয়ে তিনি হার্ড কপি জমা দেবেন।

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দ্বিতীয় পরীক্ষা থেকেই কলেজ সুমিত্রার পরীক্ষা নেবে। এরমধ্যে দিতে না পারা প্রথম পরীক্ষা নিয়ে নেওয়া হবে। ফরম পূরণ বা অ্যাডমিট কার্ড সমস্যা কী ভাবে মেটানো যায় তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত নির্দ্বিধায় তিনি মেনে নেবেন বলে লিখিতভাবে জানিয়েছেন সুমিত্রা সোরেন।

তাঁর বক্তব্য, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ যখন দিয়েছে তখন আমাদের মত গরিব ঘরের ছেলেমেয়েদের মূল্যবান একটি বছর যাতে নষ্ট না হয় তার উপায়ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঠিক বের করবে।

Published by:Arka Deb
First published: