পড়া এবং দেখা, দুই একসঙ্গে চলে এই লাইব্রেরিতে

পড়া এবং দেখা, দুই একসঙ্গে চলে এই লাইব্রেরিতে

পড়া এবং দেখা, দুই একসঙ্গে চলে এই লাইব্রেরিতে

  • Share this:

#বর্ধমান: বয়স প্রায় একশোর কাছাকাছি। আধুনিকতার লেশমাত্র নেই। থরে থরে সাজানো বই-য়ে পুরনো গন্ধ। শুধু শতাব্দী প্রাচীন গ্রন্থাগার-ই নয়। তার মধ্যেই রয়েছে প্রাচীন নিদর্শনে ঠাসা প্রদর্শনশালাও। কী নেই তাতে? তবু তার খবর রাখেন কজন? জানেন কি বাংলার কোন প্রান্তে আপনার অপেক্ষায় লুকিয়ে এমন ব্যতিক্রমী এক গ্রন্থাগার?

পড়া এবং দেখা। দুই-ই চলে একসঙ্গে এই লাইব্রেরিতে। থুরি মিউজিয়ামে। বর্ধমানের জামালপুরের জাড়গ্রাম মাখনলাল পাঠাগার। লাইব্রেরি কাম মিউজিয়াম।

নয় নয় করে একশো বছরের কাছাকাছি বয়স। উদ্যোগটা শুরু হয়েছিল ১৯১৯ সালে। ইংরেজ সরকারের দোর্দণ্ডপ্রতাপ দারোগা মন্মথ নাথ বসুর বাড়ির বৈঠকখানায় চলত অস্থায়ী গ্রন্থাগার । মাত্র পঁচিশটি বই নিয়ে ১৯২১ সালে শিবসাধান চট্টোপাধ্যায়ের উদ্যোগে তৈরি হয় পাঠাগার। ১৯৬২ সালে তৈরি হয় নতুন ভবন।

আজ সেই গ্রন্থাগারের বই-য়ের সংখ্যা প্রায় ষোল হাজার। পত্রিকা রয়েছে দু হাজার আঠারটি। রয়েছে সব ধরণের সংবাদপত্র। সময়ের সঙ্গে আধুনিক হচ্ছে মানুষের বই পড়ার অভ্যাসও। আজকের চাহিদা ই-লাইব্রেরি। তবু বর্ধমানের প্রত্যন্ত গ্রামের আদ্যিকালের এই গ্রন্থাগারের পাঠক সংখ্যা অবাক করে। কর্মীদের দাবি, এখানে নিয়মিত বই পড়েন তেরশো উনচল্লিশজন। এর মধ্যে এগারশোজনই কিশোর পাঠক। বয়সে প্রাচীন হলেও পাঠক বাড়াতে উদ্যমের খামতি নেই পাঠাগারের।

এবার ঘুরে দেখা যাক জাড়গ্রাম পাঠাগারের সংগ্রহশালা। কী নেই তাতে? তালপাতায় লেখা পাণ্ডুলিপি থেকে নানান প্রাচীন গ্রন্থ। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বঙ্গদর্শন থেকে গান্ধীজীর হরিজন। কিংবা রাজা রাধাকান্ত দেব বাহাদুরের শব্দকল্পদ্রুম । রয়েছে টেরাকোটার নানা প্রত্নকীর্তির নিদর্শন। এছাড়া পুরনো পেপার কাটিং। সবুজ বিপ্লবের জেরে হারিয়ে যেতে বসা একশো বছর আগের বিভিন্ন দেশী প্রজাতির ধান ও শস্য বীজ সংরক্ষণ করে রাখা আছে সংগ্রহশালায়।

Loading...

আজও বইয়ের মাঝে লুকিয়ে থাকা আনন্দ কুড়োতে আসেন পাঠকরা। তবে রাশি রাশি বইয়ের অক্ষরে অক্ষরে আজ যেন চাপা কান্নার সুর। আধুনিকতার জোয়ারে হারিয়ে যাবে না তো পাঠকদের এই হাতের স্পর্শ?

First published: 06:13:02 PM Jul 27, 2017
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर