পুজোয় জমজমাট নির্জন পাহাড়ের কোলে অষ্টভুজা পার্বতী

পুজোয় জমজমাট নির্জন পাহাড়ের কোলে অষ্টভুজা পার্বতী
বাঁকুড়া পাহাড়ী দূর্গা

পুজোয় জমজমাট নির্জন পাহাড়ের কোলে অষ্টভুজা পার্বতী

  • Share this:

#বাঁকুড়া: শহুরের কোলাহল থেকে বহু দূরে প্রকৃতির কোলে পাহাড়ি দুর্গা। নাম না জানা গাছগাছালিতে ঢাকা পাহাড়ের একেবারে চূড়োয় দেবী পার্বতীর অবস্থান। প্রকৃতির সঙ্গে মিথ এখানে মিলেমিশে একাকার। পুজোর কদিন নিরিবিলিতে কাটানোর আদর্শ জায়গা বাঁকুড়ার কোড়া পাহাড়। প্রকৃতির মাঝে বেড়াতে গিয়ে দুর্গা পুজোর স্বাদ পেতে কার-ই না ভাল লাগে।

বাঁকুড়া শহর থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার । ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কপথেই পৌঁছে যাওয়া যায় নিঃঝুম কোঁড়ো পাহাড়ে। চারদিকে নাম না জানা লতা-পাতা-গুল্মে ঢাকা ছোট্ট সবুজ পাহাড়। উচ্চতা খুব বেশি হলে ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট। রূপোলি ফিতের মত পাহাড়ের একপাশ দিয়ে বয়ে চলেছে শালি নদী। লাল মোরাম বিছোনো পাকদন্ডি বেয়ে পাহাড়ের মাঝামাঝি ছিমছিম এক আশ্রম।

গাড়িপথের এখানেই শেষ। এরপর বড় বড় পাথরের চাঁই ডিঙিয়ে একেবারের পাহাড়ের চুড়ায়। অষ্টভূজা পার্বতীর মন্দিরের সামনে । মন্দির ঘিরে নানা গল্প। বিশ্বাস--মিথ সব মিলেমিশে একাকার। স্থানীয়দের বিশ্বাস, প্রায় আশি বছর আগে এক সাধু হেঁটে হিমালয় যাওয়ার পথে জনহীন এই পাহাড়ের নিচে বিশ্রাম নেন। ধ্যানে নাকি বালিকাবেশী পার্বতীর দেখা পান তিনি। তাঁর উদ্যোগেই তৈরি হয় মন্দির। কাশী থেকে নিয়ে আসা হয় অষ্টভূজার পার্বতী মূর্তি।

শিবরাত্রি ও দুর্গাপুজো উপলক্ষে ভিড় উপচে পড়ে নির্জন পার্বতী মন্দিরে। আড়ম্বর বা জাঁকজমক নয়, সমস্ত রীতিনীতি মেনে নিষ্ঠা সহকারে বৈষ্ণব মতে পুজো হয় দেবীর। বলি হয় না। ভোগ বলতে কড়কড়ে মুড়িভাজা ও ছোলা ।

পুজোর সময়ে পর্যটকের ভিড়ে জমজমাট হয়ে ওঠে নির্জন এই মন্দির প্রাঙ্গন। থাকার ব্যবস্থাও আছে মন্দির লাগোয়া যাত্রীনিবাসে। শান্ত নিঃঝুম মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে নীচে তাকালে মনে হয় কে যেন বিছিয়ে দিয়েছে সবুজের গালিচা। শালি নদীর ওপর গাংদুয়া জলাধারের জলে রঙ-বেরঙের আকাশের প্রতিচ্ছবি। নির্জন প্রকৃতির কোলে শহুরে কোলাহল থেকে বহু যোজন দূরে পাহাড়িদুর্গার সান্নিধ্যে পুজোর কদিন কাটিয়ে আসার আদর্শ জায়গা বাঁকুড়ার কোঁড়ো পাহাড়।

First published: 06:31:39 PM Sep 10, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर