• Home
  • »
  • News
  • »
  • south-bengal
  • »
  • রঘু ডাকাত ও বিশু ডাকাতের এই কালীপুজোয় ভোগ ল্যাটা পোড়া আর কারনবারি

রঘু ডাকাত ও বিশু ডাকাতের এই কালীপুজোয় ভোগ ল্যাটা পোড়া আর কারনবারি

বয়সে যথেষ্ট প্রবীণ এই কালীবাড়ি। কবে থেকে এই পুজো শুরু হয়েছিল, তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না ৷

বয়সে যথেষ্ট প্রবীণ এই কালীবাড়ি। কবে থেকে এই পুজো শুরু হয়েছিল, তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না ৷

বয়সে যথেষ্ট প্রবীণ এই কালীবাড়ি। কবে থেকে এই পুজো শুরু হয়েছিল, তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না ৷

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #হুগলি: বয়সে যথেষ্ট প্রবীণ এই কালীবাড়ি। কবে থেকে এই পুজো শুরু হয়েছিল, তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না ৷ এখানেই একটা সময় কালী ঠাকুরের সামনে নর বলি দিয়ে ডাকাতি করতে যেত ৪১ জনের একটি ডাকাত দল ৷ এই কালী রঘু ডাকাত, বিশু ডাকাতের কালী নামে পরিচিত ৷ জয়পুরের বাসিন্দা বিধুভূষণ ঘোষ মগড়ায় কালী ঠাকুরের পুজো শুরু করেন ৷

    কথিত আছে, সেই সময় ঘন জঙ্গল ভরা এই অঞ্চলে বাঘ থাকত ৷ পরে এই এলাকার নাম হয় বাঘাটি ৷ এখানেই বিশু আর রঘু দুই ভাই দিনের বেলা জমিদার বাড়িতে কাজ করত আর রাতে ডাকাতি ৷ লোকের মুখে মুখে ফিরত তাদের লাঠি খেলার গল্প ৷

    গ্রামের মানুষের মুখে মুখে ফেরে, লাঠি চালানোয় পারদর্শী, দুর্ধর্ষ এই ডাকাত মূলত বড়লোকদের বাড়িতে চিঠি দিয়ে ডাকাতি করে সেই সামগ্রী গরিবদের মধ্যে বিকিয়ে দিত ৷

    সেসময় সরস্বতী নদী দিয়ে চলত জাহাজ ৷ সপ্তগ্রাম বন্দরে বাণিজ্য করতে আসা ডাচ ও ফরাসীরাও রঘু ও বিশু ডাকাতের ভয়ে থাকত ৷ অনেকবার তাদেরও লুট করে সর্বস্ব নিয়ে নিত ডাকাতরা ৷ দিনের বেলাতেই এমন এলাকার ধারপাশ দিয়ে যেত ভয় পেত সকলে ৷ দুপুর তিনটের পর এ পথে আসত না কেউ ৷ ভুল করে কেউ এপথে এলে আর রক্ষে ছিল না ৷

    বলা হয়, সাধক রামপ্রসাদকে বলি দেওয়ার জন্য নাকি এখানে আটকে রাখা হয়েছিল ৷ তাকে বলি দিতে গেলে হাঁড়ি কাঠে মাথা দিয়ে রামপ্রসাদ গান ধরেন, ‘তিলেক দাড়া ওরে সমন বদন ভোরে মাকে ডাকি ৷’ এমন মন ভোলানো গান শুনে মোহিত হয়ে পড়ে রঘু ও বিশু ডাকাত ৷ বলি দিতে না পেরে ছেড়ে দেয় সাধক রামপ্রসাদকে ৷ ডাকাত কালীকে ঘিরে এমন হাজারও গল্প প্রচলিত এখানে ৷

    সারা বছর এই মন্দিরে পুজো হয় ডাকাত কালীর ৷ মানসিক করে ফল পাওয়া যায় তাই মন্দিরের অশ্বত্থ গাছে মানসিকের সুতো বেঁধে যান অনেকেই ৷

    মাঘ মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই কালী মূর্তি ৷ তাই মাঘের শুক্ল পক্ষ তিথিতে বড় করে উৎসব হয় ৷ নরনারায়ন সেবা করা হয় ৷ দূর দূর থেকে ভক্তরা আসেন এখানে ৷ কার্ত্তিক মাসে অমাবস্যা তিথিতে সারাদিন ধরে পুজো নেওয়া হয় ভক্তদের ৷ রাতে ঘট পাল্টে দেবীর অঙ্গরাজ হয় ৷ এরপর পরানো হয় নতুন গয়না ও কাপড় ৷ রেরির তেল দিয়ে প্রদীপ জ্বালানো হয় ৷

    পুকুরে জাল ফেলে তোলা ল্যাটা মাছ পুড়িয়ে আর কারন দিয়ে ভোগ দেওয়া হয় দেবীকে ৷ যাকে বলা মহাপ্রসাদ ৷ দিন বদলালেও বদলায়নি পুজোর নিয়ম ৷ আগে গাছের নীচে ছোট্ট কুঠুরীতে ঠাকুরের পুজো হত, এখন মন্দির তৈরি হয়েছে ৷ পাঁচিল ঘেরা মন্দির চত্বরে বসেছে চকচকে পাথর ৷

    First published: