পূর্ব বর্ধমানে নিষিদ্ধ বাজির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত, গ্রেফতার আরও ৩, বাজেয়াপ্ত প্রচুর আতশবাজি

পূর্ব বর্ধমান জেলায় বাজির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত। নতুন করে আরও বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করেছে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ

পূর্ব বর্ধমান জেলায় বাজির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত। নতুন করে আরও বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করেছে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ

  • Share this:

#বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান জেলায় বাজির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত। নতুন করে আরও বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করেছে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ। পুলিশের অভিযানে ফের প্রচুর পরিমাণ বাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। দীপাবলি পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে এই অভিযান চলবে বলে জানা গিয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে বায়ু দূষণ রুখতে যে কোনও রকম বাজি বিক্রি ও পোড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হাইকোর্ট। সেই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর থেকেই জেলাজুড়ে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে।

এদিকে বাজি বিক্রি নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন বিক্রেতারা। তাঁরা বলছেন, সারা বছর যে পরিমাণ বাজি বিক্রি হয় তার তিন-চারগুণ বাজি বিক্রি হয় শুধুমাত্র কালীপুজো আগে-পরে। চাহিদার কথা ভেবে অনেক বিক্রেতাই দুর্গা পুজোর আগেই প্রচুর পরিমাণ আতশবাজি মজুত করেছিলেন। সেইসব বাজি নিয়ে এখন কী করবেন তা ভেবে উঠতে পারছেন না অনেকেই। দোকানের সামনে সাজানো না হলেও অনেকেই লুকিয়ে চুরিয়ে রং মশাল,তুবড়ি, কালী পটকা বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ আসছে পুলিশের কাছে। সেই সব অভিযোগের ওপর ভিত্তি করেই অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে এক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণ বাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। খণ্ডঘোষেও বেশ কিছু পরিমাণ নিষিদ্ধ বাজি উদ্ধার করা হয়েছে। বেআইনিভাবে বাজি মজুতের অভিযোগে শক্তিগড় থেকেও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে ১৫ কেজি বাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

বর্ধমানের তেঁতুলতলা বাজার এলাকায় এই সময় প্রচুর পরিমাণে আতশবাজি বিক্রি হয়। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা এখানে বাজি কিনতে আসেন। বিক্রেতাদের অনেকেই বহু লক্ষ টাকার বাজি অর্ডার দিয়েছিলেন। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার জেরে সমস্যায় পড়েছেন তারা। জেলার অনেক এলাকাতেই লুকিয়ে চুরিয়ে বাজি বিক্রি চলছে বলে অভিযোগ উঠছে।

তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন পরিবেশবিদরা। তাঁরা বলছেন, প্রচুর পরিমাণে বাজি পোড়ানোর ফলে দূষণের মাত্রা অনেকটাই বেড়ে যায়। করোনায় আক্রান্তরা এমনিতেই শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় ভোগেন।বাতাসের মাত্রাতিরিক্ত দূষণের কারণে সেই সমস্যা আরও অনেকটা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। আদালতের নির্দেশের জেরে এবার বাজি পোড়ানো অনেকটাই কম থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাতে বাতাসে দূষণের মাত্রা অনেক কম থাকবে। শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় ভোগা বাসিন্দাদের অনেকেই তাতে উপকৃত হবেন।

Published by:Rukmini Mazumder
First published: