corona virus btn
corona virus btn
Loading

গোঁফ বাঁচাতে শ্বশুর বাড়িতে জেগে রাত কাটান গোঁফেন মাস্টার

গোঁফ বাঁচাতে শ্বশুর বাড়িতে জেগে রাত কাটান গোঁফেন মাস্টার
  • Share this:

Saradindu Ghosh

#বর্ধমান: গোঁফের আমি, গোঁফের তুমি, গোঁফ দিয়ে যায় চেনা। নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা করে চেনাতে গোঁফ রেখেছেন দাশরথী ভট্টাচার্য্য। থুড়ি গোফেঁন মাস্টার। টিউশনি পড়ান। লম্বা গোঁফের জন্যই তাঁর আসল নাম ভুলতে বসেছেন অনেকেই। ভালোবেসে সকলেই ডাকেন গোঁফেন মাস্টার। তাতেই সাড়া দেন হাসিমুখে।

পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতারের বড়বেলুন গ্রামের বাসিন্দা দাশরথি ভট্টাচার্য ওরফে গোঁফেন মাস্টার। ছোটবেলা থেকেই শখ, গোঁফ হবে সকলের থেকে আলাদা। ২২ বছর ধরে বড় গোঁফ রাখছেন তিনি। নিকট আত্মীয়ের শ্রাদ্ধ উপলক্ষে কয়েকবার চুল দাড়ি গোঁফ কাটতে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া কোনওদিনই গোঁফ কাটেনি তিনি। বর্তমানে নাকের নিচে এক এক দিকের গোঁফ প্রায় এক ফুট করে লম্বা। দু’দিকে প্রায় দু-ফুট গোঁফ নিয়ে দিব্বি আছেন গোঁফেনবাবু।

গোঁফের জন্যই যতকিছু। নাকের নিচে এক ফুট করে লম্বা গোঁফেই আটকে তাঁর জীবন। গোঁফ বাঁচাতে শ্বশুরবাড়িতে জেগে রাত কাটান পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের দাশরথী ভট্টাচার্য। গোঁফের জন্যই পেশায় শিক্ষক দাশরথী সকলের আদরের গোঁফেন মাস্টার।

তবে গোঁফ রাখার হ্যাপাও কম নয়। প্রতিদিন সরষের তেল, নারকেল তেল, বাদাম তেল মাখাতে হয় গোঁফের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে। প্রয়োজন মতো রঙও করেন। সমস্যা একটাই। শ্বশুর বাড়ি বা আত্মীয় বাড়ি গেলে সজাগ থাকতে হয় একটু বেশি। পাছে কেউ এই গোঁফে কাঁচি চালিয়ে দেয়। তাই সেসব জায়গায় রাত কাটে না ঘুমিয়েই।

UNIQUE MAN 02

গোঁফ রাখতে গিয়ে বাড়িতে অশান্তি কম হয়নি। স্ত্রী হুমকি দিয়েছিলেন, ‘গোঁফ কেটে দেবো...’। শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়দেরও তেমনই মত ছিল। ভয়ে চার বছর শ্বশুরবাড়ি যাননি তিনি। পাছে স্ত্রী শ্যালক-শ্যালিকাদের নিয়ে গোঁফ কেটে দেন, সেই ভয়ে। অবশেষে দাশরথীবাবুর জেদের কাছে হার মেনেছেন তাঁরা। তবুও সাবধানের মার নেই। তাই খুব প্রয়োজনে বিয়েবাড়ি অনুষ্ঠানে শ্বশুরবাড়ি গেলেও সারারাত সজাগ থাকেন।

রাস্তা দিয়ে হাঁটলে অনেকেই তাঁর দিকে অবাক হয়ে তাকায়। অনেক ছেলে মেয়ে মুচকি হাসে। এতেই খুশি গোঁফেন মাস্টার। গোঁফকে কখনও গুটিয়ে রাখেন। কখনও মেলে ধরেন সবার সামনে। তাঁর কথায়, এতোবড় গোঁফ কারও কারও চোখে খারাপ লাগে ঠিকই। কিন্তু এই গোঁফ দেখে আনন্দ পান, উৎসাহ দেন দশজনের ৯ জন। বেশিরভাগের ভাল লাগে বলেই এই গোঁফ আরও বড় করার সংকল্প নিয়েছি।

Published by: Siddhartha Sarkar
First published: December 12, 2019, 4:25 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर