corona virus btn
corona virus btn
Loading

অষ্টমীর রাতে নিশাপুজো, গভীর জঙ্গলে পাঁঠা বলি- এই দুর্গাপুজোয় নিয়ম এমনই

অষ্টমীর রাতে নিশাপুজো, গভীর জঙ্গলে পাঁঠা বলি- এই দুর্গাপুজোয় নিয়ম এমনই

সামন্ত রাজাদের সাড়ে চারশো বছরের ইতিহাস। ঝাড়গ্রামের ভগ্নপ্রায় চিলকিগড় রাজবাড়ি।

  • Share this:

#ঝাড়গ্রাম: সামন্ত রাজাদের সাড়ে চারশো বছরের ইতিহাস। ঝাড়গ্রামের ভগ্নপ্রায় চিলকিগড় রাজবাড়ি। রাজবাড়ি লাগোয়া কনক দুর্গা মন্দির। মন্দিরের অন্দরে নানা গল্পকথা। নানা মিথ। স্থানীয়দের বিশ্বাস, চারদিকে গভীর জঙ্গলের মধ্যে সামন্ত রাজাদের এই মন্দিরে আজও অষ্টমীর রাতে নিজেই নিজের ভোগ রান্না করেন দুর্গা। পুজো উপলক্ষে দর্শকদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে ওঠে মন্দির চত্ত্বর।

শহরে কোলাহল থেকে বহু দূরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা ঝাড়গ্রাম। সেখান থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে চিলকিগড়। ডুলুং নদীর তীরে গা ছমছমে গভীর জঙ্গলের মধ্যে কনক দুর্গা মন্দির। ভেষজ গাছের বুনো গন্ধে চারদিক ম-ম। দুর্গা এখানে অশ্বারোহিনী চতুর্ভূজা। অষ্টধাতুর এই মূর্তি ঘিরেই জমে ওঠে দুর্গাপুজো।

এই মন্দির ঘিরে নানা গল্প, বিশ্বাস, স্বপ্নাদেশের কল্পকথা। সালটা ১৩৪০ বঙ্গাব্দ । জামবনির রাজা জগদীশ চন্দ্র দেওধল তৈরি করান এই মন্দির। স্ত্রীর হাতের কাঁকন দিয়ে তৈরি হয় মূর্তি। শিল্পী জগেন্দ্র নাথ কামেলা এবং পুরোহিত রামচন্দ্র সরেঙ্গী। আজও বংশপরম্পরায় তাঁরা কনকদুর্গা মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে। পরে এই মন্দির সংস্কার করান সামন্ত রাজা গোপীনাথ সিংহে।

ষষ্ঠীর দিন ডুলুং নদী থেকে ঘটে করে জল আসে। সারারাত মন্দিরের বাইরে বেলগাছের নীচে বেদিতে থাকে ঘট। সপ্তমীতে সাতটি কলসির জল দিয়ে ঘট শুদ্ধ করে হোম আরতি করে তবেই গৃহপ্রবেশ । স্থানীয়রা বলেন, আগে নাকি এখানে নরবলি হত। আজ হয় পাঁঠাবলি। অষ্টমীর রাতে। মন্দিরের পাশে গভীর জঙ্গলের মধ্যে। নিশা পুজোয় অংশ নেন শুধুমাত্র রাজপরিবারের সদস্যরাই। স্থানীয়দের বিশ্বাস , নবমীর ভোগ রান্না করেন স্বয়ং দুর্গা।

দশমীতেও নানা আয়োজন। প্রথমে বলি। তারপর রাবণকে কলাগাছরূপে পুজো। তারপর সন্ধেবেলা মশাল জ্বালিয়ে কলাগাছকে তীর মারার প্রতিযোগিতা চলে ডুলুং নদীর ধারে। পুজো উপলক্ষে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়ে জমে ওঠে কনকদুর্গার প্রাঙ্গন।

২০০৭ থেকে ২০০৯-র উত্তাল মাওবাদী আন্দোলনের সময়ে দু-দুবার চুরি যায় মূর্তি। তৈরি হয় নতুন অষ্টধাতুর মূর্তি। মন্দিরে বসে সিসিটিভি। পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রেও আজ জ্বলজ্বল করছে কনকদুর্গা মন্দিরের নাম। মন্দির লাগোয়া বিশাল ভেষজের জঙ্গলের দামী দামী ওষুধের গাছের রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে রক্ষী। তৈরি হয়েছে চেকপোস্ট। আগামী বছর পুজোর সময়ে এখানে রোপওয়ে তৈরির ভাবনা রাজ্যের।

First published: September 19, 2017, 7:33 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर