Home /News /south-bengal /
#DurgaPujo: পাঁজর বেরনো ইটে কান পেতে শুনতে হবে ব্যবত্তা বাটির ইতিকথা

#DurgaPujo: পাঁজর বেরনো ইটে কান পেতে শুনতে হবে ব্যবত্তা বাটির ইতিকথা

আলোর রোশনাই নেই। তাই চোখ নয়। তমলুকের ব্যবত্তাবাটির পুজো দেখতে হবে মন দিয়ে।

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #তমলুক: আলোর রোশনাই নেই। তাই চোখ নয়। তমলুকের ব্যবত্তাবাটির পুজো দেখতে হবে মন দিয়ে। মনের আয়নায় গুছিয়ে নিতে হবে এ বাড়ির ইতিহাস। পাঁজর বেরনো ইটে কান পেতে শুনতে হবে ব্যবত্তা বাটির ইতিকথা। ধূপ ধুনোর ধোঁয়ায় ভর করে পৌঁছতে হবে অনেক বছর আগের কোনও এক আশ্বিনে। যখন তমলুক ছিল তাম্রলিপ্ত।

    শান বাঁধানো ঘাটের পাশ দিয়ে এগিয়ে গেলেই ওই যে ওই বাড়িটা। লোকে বলে ওটা না কি ব্যবত্তাবাটি। ব্যবত্তাবাটি। এ নামের পিছনেও লুকিয়ে আছে অদ্ভূত এক কারণ। তমলুক যখন তাম্রলিপ্ত ছিল। সে সময়ে রাজবাড়ির পুরোহিত ছিলেন এঁরা।

    পুজোর ব্যবস্থা, পাঠের ব্যবস্থা। সংস্কৃতি রীতি রেওয়াজের ব্যবস্থা। মানে যাবতীয় আয়োজন আচা্রের ধারক ছিলেন এঁরা। পুজো করতেন, শিক্ষা দিতেন, টোল চালাতেন। সেই পুরোহিত আর পণ্ডিতদের থাকার জন্য বানানো হয়েছিল দেওয়া হয়েছিল জমিদারি। তৈরি হয়েছিল প্রাসাদোপম এই বাড়ি। পুজো-পাঠের ব্যব্স্থা যারা করেন, তাঁদের বাড়ি, তাই বাড়ির নাম ব্যবস্থাবাটি। লোকমুখে ব্যবস্থাবাড়ি হয়ে ওঠে ব্যবত্তাবাটি।

    সে দিক থেকে দেখলে এও এক জমিদার বাড়ি। দেবোত্তর জমি দেওয়া হয়েছিল পুরোহিতদের। সেখানেই নিজের মতো করে থাকার অধিকার। প্রশাসক আর ধর্ম ।শাসন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ আর শিক্ষাদান এই ছিল কাজ। বিনিময়ে এই ব্যবস্থাবাটি। আজকের এই খাঁ খাঁ দালান একসময় গমগম করতো পড়ুয়াদের পুঁথিপাঠে। চতুষ্পাঠিতে পড়ানো হত জ্যোতিষশাস্ত্র আর ব্যাকরণ।

    মায়ের মুখের আদল হবে যে মাটি দিয়ে, সে মাটি তুলে আনা হতো বাজার থেকে। এই রীতি থেকে সে সময়ের সমাজেরও কিছুটা আঁচ পাওয়া যেতে পারে। বাজার থেকে আনা মাটিতে প্রতিমার মুখ কি জনসংযোগের এক ধরণ। সর্বজনীন করা পূজা পাঠকে। বাজার থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। তিন কোপে। মাটি পুজো হচ্ছে। হচ্ছে মাটি খেলাও। তা দাঁড়িয়ে দেখছে বাজারের সবাই। সবাই জানছে, এই মাটি যাবে ব্যবস্থা বাড়িতে। মায়ের মুখের আদল হবে বাজারের এই মাটি দিয়েই।

    এ বাড়ির পুজোর টান না কি এমন ছিল, যে লোকে রাজবাড়ির পুজো দেখে এ বাড়িতেও একটিবার আসতেন। ভোগ পেতেন পুজোর দিনে। রকমারি ভোগ আজও হয়। তবে তা আগের মতো অত জাঁকজামক করে নয়। তবে এলাকার মানুষ আজও প্রসাদ পান।

    পরিমাণ আগের চেয়ে কম। তবে হয়.. এখনও। এ বংশের যে যেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন, সবাই একসঙ্গে কোমর বেঁধে নেমে পড়েন আরাধনায়। করতে যে হবেই। রাজার পুজোর ব্যবস্থা যাঁরা করতেন, তাঁদের পুজোর ব্যবস্থা আজ হবে না!

    প্রায় শ চারেক আশ্বিন ধরে এ ভাবেই বছর ভর কাঠামোটুক পড়ে থাকে ঠাকুরদালানে। বছরের কটাদিন শুধু প্রাণ পাবে বলে।

    এভাবেই উমার আসার পথে ঝরে পড়ে শিউলি। আজও যেমন।

    আর এ ভাবেই ব্যবত্তাবাটির মায়েরা চৌকাঠে থাকেন অপেক্ষায়.. বছর ঘুরে মেয়ে আসে ঘরে.. তার যত্নের ব্যবস্থা করতে হবে যে!

    First published:

    Tags: Durga Puja 2016, Durga Pujo, ETV Bangla News, Tamluk

    পরবর্তী খবর